Alexa কোরআনে নবী-রাসূল (আ.)-দের বিশেষ বিশেষ দোয়া

কোরআনে নবী-রাসূল (আ.)-দের বিশেষ বিশেষ দোয়া

শেষ পর্ব

মুহাম্মদ গোলাম রহমান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১১ ১৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:১৩ ১৯ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নবী-রাসূল (আ.); তাদের ওপর অর্পিত আমানত নবুওয়াত ও রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র, সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন এবং বহুবিধ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। এসব কিছুর এক পর্যায়ে তারা আল্লাহ তায়ালার কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেছেন, যা আল-কোরআনে বিধৃত হয়েছে।

নিম্নে কতিপয় নবী-রাসূলগণের (আ.) প্রেক্ষাপট উল্লেখসহ কোরআনের দোয়াসমূহ দেয়া হলো-

২য় পর্বের শেষের কিছু অংশ…

(৮) শুআইব (আ.) এর দোয়া: সিরিয়া ও হিজাযের সীমান্তবর্তী মাদইয়ান জনপদে আল্লাহ তায়ালা শুআইব (আ.)-কে প্রেরণ করেছিলেন। এ জনপদের অধিবাসীরা ছিল কাফের। এছাড়া ব্যবসায়ে ওজনে কম দেয়া, রাহাজানি, লুটতরাজ, অন্যায়ভাবে জনগণের ধন-সম্পদ লুন্ঠন-ভক্ষণ ইত্যাদি কুকর্মে তারা সীমা অতিক্রম করেছিল। যখন শুআইব (আ.) তাওহীদের দাওয়াত দানের পাশাপাশি যাবতীয় কুকর্ম পরিত্যাগ করার আহ্বান জানালেন তখন তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক ও অতি দুরাচার নেতৃবর্গ বলল, হে শুআইব! তোমরা আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে না এলে আমার তোমাকে ও তোমার অনুসারীদেরকে আমদের এ জনপদ থেকে অবশ্যই বের করে দেব। তখন শুআইব (আ.) আল্লাহ তায়ালার সাহায্য প্রার্থনা করে বললেন: 

 رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ

‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের অপরাধীদের মধ্যে তুমি ন্যায্য মীমাংসা করে দাও এবং তুমি মীমাংসাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। (সূরা: আল আরাফ, আয়াত: ৮৯)।

আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করে অপরাধীদের ধ্বংস করে দিলেন।

আরো পড়ুন>>> কোরআনে নবী-রাসূল (আ.)-দের বিশেষ বিশেষ দোয়া পর্ব- ২

২য় পর্বের পর থেকে...
 
(৯) মূসা (আ.) এর দোয়া: মূসা (আ.) পিতা ইব্রাহিম (আ.) এর ৮ম অধঃস্তন পুরুষ। অর্থাৎ-বংশ পরম্পরা হলো-মূসা ইবনু ‘ইমরান ইবনে কাহিস ইবনে‘আযির ইবনে লাভী ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম (আ.)। মূসা (আ.) এর মাতার নাম‘ইউহানিব’। তবে মায়ের নামের ব্যাপারে মতভেদ আছে। মূসা ও ঈসা (আ.) উভয় নবী ছিলেন বনী ইসরাঈল বংশীয় এবং উভয়ে বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। মূসা (আ.) এর জন্ম মিশরে এবং লালিত-পালিত হন মিশর সম্রাট ফেরাউনের ঘরে।

সূরা আল ক্বাসাস এর ১৫-১৬ আয়াতে বর্ণনা অনুযায়ী একদা দুপুরে তিনি শহরে প্রবেশ করলেন, যখন অধিবাসীরা ছিল দিবানিদ্রার অবসরে। এ সময় তিনি দু‘জন ব্যক্তিকে লড়াইরত দেখতে পেলেন। এদের একজন ছিল তার নিজ গোত্রের এবং অপরজন ছিল শত্রদলের। অত:পর তার নিজ দলের লোকটি তার শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তার কাছে সাহায্য চাইল। তখন মূসা (আ.) তাকে ঘুষি মারলেন এবং তাতেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। মূসা (আ.) বললেন, নিশ্চই এটি শয়তানের কাজ। সে মানুষকে বিভ্রান্তকারী প্রকাশ্য শত্রু। ‘হে আমার প্রভু! আমি নিজের ওপরে জুলুম করেছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো।’ অত:পর অনুতপ্ত হয়ে দোয়া করলেন:

قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

‘তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আমি তো নিজের ওপর জুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সূরা: আল ক্বাসাস, আয়াত: ১৬)।

আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি তখন তওবাহ্ করে বললেন:

قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ

‘তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।’ (সূরা: আল ক্বাসাস, আয়াত: ১৭)। 

(১০) ইউনুস (আ.)-এর দোয়া: ইউনুস (আ.) বর্তমান ইরাকের মূসেল নগরীর নিকটবর্তী ‘নীনাওয়া’
জনপদের অদিবাসীদের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি তার ক্বওমকে তাওহিদ, ঈমান ও সৎকর্মের
প্রতি আহ্বান জানালে তারা অবাধ্যতা প্রদর্শন করে। অবাধ্যতার এক পর্যায়ে তিনি আল্লাহ তায়ালার
নির্দেশে এলাকা ত্যাগ করে চলে যান। 

জনপদ ত্যাগ করার সময় তিনি বলে গিয়েছিলেন যে, তিনদিন পর সেখানে গজব নাজিল হতে পারে। তার ক্বওম ভাবল, নবী কখনো মিথ্যা বলবে না। ফলে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দ্রুত কুফরী ও শির্ক হতে তাওবাহ্ করে এবং জনপদের সকল আবাল-ববৃদ্ধ-বণিতা এবং গবাদিপশু নিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। তারা সর্বান্তকরণে তাওবাহ্ করে এবং আসন্ন গজব হতে মহান আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। অত:পর আল্লাহ তায়ালা তাদের তাওবাহ্ কবুল করেন এবং তাদের ওপর থেকে আজাব উঠিয়ে নেন। 

ওদিকে ইউনুস (আ.) ভেবেছিলেন যে, তার কওম মহান আল্লাহর গজবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। পরক্ষণে যখন জানতে পারলেন যে, আদৌ গজব নাজিল হয়নি, তখন তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। যে, এখন তার কওম তাকে মিথ্যাবাদী ভাববে এবং মিথ্যাবাদীর শাস্তি হিসেবে প্রথা অনুযায়ী তাকে হত্যা করা হবে। তখন তিনি জনপদে ফিরে না গিয়ে অন্যত্র হিজরতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলেন। এ সময় আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষা করাটাই তার জন্য যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। 

হিজরতকালে নদী পার হওয়ার সময় মাঝ নদীতে হঠাৎ নৌকা ডুবে যাবার উপক্রম হলে মাঝি বলল, একজনকে নদীতে ফেলে দিতে হবে। নইলে সবাইকে নদীতে ডুবে মরতে হবে। এজন্য লটারী হলে পরপর তিনবার তার নাম আসে। ফলে তিনি নদীতে নিক্ষিপ্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহর হুকুমে বড় একটি মাছ এসে তাকে গিলে ফেলে। কিন্তু মাছের পেটে তিনি হযম হয়ে যাননি বরং এটা ছিল তার জন্য নিরাপদ স্থান এবং আল্লাহ তায়ালা পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরুপ। ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটে ছিলেন একটি দোয়ার উসিলায় আল্লাহ তায়ালা তাকে এই কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি দেন।

অত:পর সে (ইউনুস) মাছের অন্ধকার পেটে থেকে আহ্বান করছিল:

لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

‘আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, আপনি সুমহান-পবিত্র। নিশ্চই আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা: আল আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)।

(১১) দাউদ (আ.) এর দোয়া: দৈহিক ও ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান দাউদ (আ.) বর্তমান ফিলিস্তিতসহ
সমগ্র ইরাক ও (শাম) সিরিয়ায় রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তিনিই হলেন মহান আল্লাহর একমাত্র আদম
সন্তান, যাকে দেখে পিতা আদম (আ.) আনন্দিত হয়ে স্বীয় বয়স থেকে ৪০ বছর কেটে তাকে দান করার
জন্য আল্লাহর তায়ালার নিকটে সুপারিশ করেছিলেন। এবং সে মতে দাউদের বয়স ৬০ হতে ১০০
বছরে বৃদ্ধি পায়। 

বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্বেও আল্লাহ তায়ালা দাউদ (আ.) এর প্রশংসায় বলেন, দাউদ (আ.) অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী ছিলেন। দাউদ (আ.) ও তার পুত্র সুলায়মান (আ.)-কে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন বিষয়ে প্রভূত জ্ঞান দান করেছিলেন। তারা উভয়ে আল্লাহ পাকের নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে দোয়া করেন: 

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَى كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ

‘সব প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদেরকে তার বহু মুমিন বান্দার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।’(সূরা:
আন নামল, আয়াত: ১৫)।

(১২) সুলায়মান (আ.) এর দোয়া: দাউদ (আ.) এর মৃত্যুর পর পুত্র সুলায়মান তার স্থলাভিষিক্ত হন।
রাসূলূল্লাহ (সা.) এর আগমনের ন্যূনাধিক দেড় হাজার বছর পূর্বে তিনি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন। আল্লাহ তায়ালা তাকে জ্ঞান প্রজ্ঞা ও নবুওয়াতের সম্পদে সমৃদ্ধ করেন। এতদ্ব্যতীত তাকে এমন কিছু নিয়ামত দান করেন, যা অন্য কনো নবীকে দান করেননি। তের বছর বয়সে রাজকার্য হাতে নেওয়ার চতুর্থ বছরে বায়তুল মাকদিসের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বায়ুপ্রবাহ, জিন, পক্ষীকূল ইত্যাদির ওপর আল্লাহ তায়ালা তাকে আধিপত্য দিয়েছিলেন। তিনি পিপীলিকার ভাষা বুঝতেন। সর্বোপরি তাকে অতুলনীয় এক সাম্রাজ্য দান করা হয়ে ছিল। তিনি একদা আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করেছিলেন:

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّنْ بَعْدِي إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে দান করুন এমন এক সাম্রাজ্য, যা আমার পর আর কাউকে দেয়া হবে না। নিশ্চই আপনি পরম দাতা।’ (সূরা: সাদ, আয়াত: ৩৫)।

আল্লাহ তায়ালা তার এ দোয়া কবুল করেছেন। তাকে এমন বিস্ময়কর রাজত্ব দান করা হয় যা তার আগে বা পরে দ্বিতীয় কাউকে দেয়া হয়নি।

(১৩) যাকারিয়া (আ.) এর দোয়া: যাকারিয়া ও ইয়াহইয়া (আ.) দাউদ ও সুলায়মান (আ.) পরবর্তী
পিতা-পুত্র উবয়ে নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন। যাকারিয়া (আ.) ঈসা (আ.) মাতা মারইয়াম এর লালন-পালনকারী। তিনি ছিলেন বায়তুল মাকদিসের অধিবাসী।

মারইয়াম মসজিদের সংলগ্ন মেহরাবে থাকতেন। যাকারিয়া (আ.) তাকে নিয়মিত দেখাশুনা করতেন।
কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, যখনই তিনি মেহরাবে আসতেন, তখনই সেখানে নতুন নতুন তাজা ফল-ফলাদি ও খাদ্য-খাবার দেখতে পেতেন। তিনি একদিন এ বিষয়ে মারইয়ামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি
বলেন,

هُوَ مِنْ عِندِ اللّهِ إنَّ اللّهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاء بِغَيْرِ حِسَابٍ

‘এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিজিক দান করেন।’ (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৩৭)।

সম্ভবত: শিশু মারইয়ামের উপরোক্ত কথা থেকেই নি:সন্তান বৃদ্ধ  যাকারিয়ার মনে আশার সঞ্চার ঘটে যে, যিনি ফলের মৌসুম ছাড়াই মারইয়ামকে তাজা ফল সরবরাহ করেছেন, নিশ্চয়ই তিনি বৃদ্ধ দম্পতিকে সন্তান দান করতে পারেন। অত:পর তিনি বুকভরা আশা নিয়ে আল্লাহ তায়ালার নিকটে প্রার্থনা করেন:

رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاء

‘হে আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করো। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকার।’ (সূরা: আলে ইমরান-৩, আয়াত: ৩৮)।

একথাটি অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে এভাবে- যাকারিয়া যখন তার পালনকর্তাকে আহ্বান করেছি নিভৃতে সে বলল,

رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا

وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا 

يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا

‘হে আমার পালনকর্তা! আমার অস্থি দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যের কারণে মস্তক শ্বেত-শুভ্র হয়ে গেছে। হে প্রভু! আপনাকে ডেকে আমি কখনো নিরাশ হয়নি। আমি ভয় করি আমার পরবর্তী বংশধরের। অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। অতএব, আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন। সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং উত্তরাধিকারী হবে ইয়াকুব-বংশের এবং হে প্রভু! আপনি তাকে করুন সদা-সন্তুষ্ট। (সূরা: মারইয়াম-১৯, আয়াত: ৪-৬)।

তিনি আরো প্রার্থনা করলেন,

رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একাকী (নি:সন্তান) রেখে দেবেন না। নিশ্চয়ই আপনি উত্তম ওয়ারিশ।’(সূরা: আল আম্বিয়া, আয়াত: ৮৯)।

এই দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন বলেন,

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ

‘অত:পর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্য স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম।  তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।’ (সূরা: আল আম্বিয়া, আয়াত: ৯০)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে