কোরআনি চিকিৎসায় রোগ-ব্যাধি প্রতিরোধ 

কোরআনি চিকিৎসায় রোগ-ব্যাধি প্রতিরোধ 

হাবীবুল্লাহ সিরাজ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৫ ২১ মার্চ ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আল্লাহ মানুষকে রোগ দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি মানবজাতিকে নানান ধরনের পরীক্ষা করবেন। সেই পরীক্ষায় আমরা কেউ জিতবো কেউ হারবো। তবে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পরীক্ষা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার রাস্তা বলে দিয়েছেন। 

রাসূলে আরাবি সেই রাস্তা আমাদের সামনে পেশ করেছেন। সেই রাস্তা হলো কোরআন ও হাদিস। অবশ্যই হাদিসের অনেক দোয়াই আমরা জানি ও পড়ি এবং হাদিসের দোয়াসমূহ প্রসিদ্ধ। কিন্তু আমাদের বিশ্বাসের স্তম্ভ কোরআনও আমাদের রোগ মুক্তির মহৌষধ হতে পারে। একটি ঘটনা উল্লেখপূর্বক আলোচনা শুরু করি।

হজরত ওমর ফারুক রাযি. যখন মুসলিম বিশ্বের শাসনকর্তা। তখন রোমের বাদশা হজরত ওমরের দরবারে চিঠি লিখলন, ‘হে মুসলমানদের বাদশাহ! আমি বহুদিন যাবত একটি রোগে আক্রান্ত, এর চিকিৎসার জন্য আমার বিশাল রাজ্যের হাজারো ডাক্তার কবিরাজ হাকিম থেকে পথ্য গ্রহণ করেছি; কিন্তু কারো পথ্যই আমার রোগ নিরাময় করতে পারেনি। আমি এখন আর এই রোগ নিয়ে চলতে পারছি না। আমার সেই রোগটি হলো স্থায়ী মাথা ব্যথা। আমি আমার রাজ্য পরিচালনা ব্যক্তিগত জীবনযাপন করতে পারছি না। আপনার রাজ্যে যদি বিজ্ঞ কোনো কবিরাজ ডাক্তার বা হাকিম থাকে; তার থেকে আমি চিকিৎসা গ্রহণ করতাম।

এই চিঠি পড়ে হজরত ওমর ফারুক রাযি. তাকে একটি পথ্য দিলো ব্যবহারের। পথ্যটি হলো একটি টুপি দিয়ে লিখে দিলো- জনাব! আশা করি আমার দেয়া টুপিটিই আপনার রোগ নিরাময় করবে। এটি সবসময় মাথায় রাখবেন। এই পথ্য বাদশাহর কাছে পৌঁছলো, বাদশাহ টুপিটি পড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা ভালো হয়ে গেল। টুপি খুলে ফেললেন। পুনরায় মাথা ব্যথা শুরু হলো। আবার টুপি পড়লেন। এভাবে কিছুদিন পর যখন একেবারে মাথা ভালো হয়ে গেল তখন বাদশা কৌতূহল বশত জানার আগ্রহ হলো যে, এটি কি এমন টুপি যে মারাত্মক মাথা ব্যথার রোগ ভালো হয়ে গেলো? 

সেই কৌতূহল থেকে একদিন গোপনে টুপির সেলাইগুলো খুললো। খুলে দেখে টুপির ভেতরে এক টুকরো কাগজ। কাগজে মধ্যে ছোট্ট করে কোরআনের আয়াত ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা। বাদশা বড়োই আশ্চর্য হয়ে গেলো। এই কাগজের এতো পাওয়ার যে স্থায়ী মাথা ব্যথা ভালো করে দিয়েছে? পরে জানতে পারলো এটা মুসলমানদের প্রতিদিনের পাঠ্যকিতাব আল কোরআনুল কারিমের একটি আয়াত। 

আমাদের বিশ্বাসের স্তম্ভ আল কোরআনুল কারিমে কোরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেগুলো বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির জন্য আরোগ্য স্বরূপ। তাই এ সব আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে রোগ থেকে মুক্তি চাওয়া উচিৎ। তবে শুধু এই সব আয়াত পড়লেই হবে না। পড়ার আগে এই আয়াত ও আল্লাহ যে এই আয়াত দ্বারা রোগ থেকে আরোগ্য দেবেন সেই বিশ্বাস ও কামনা-বাসনা হৃদয়ে থাকা। বিশেষ করে বিশ্বাস থাকতে হবে, সেই বিশ্বাসের সঙ্গেই এইসব আয়াতগুলো কখনো তেলাওয়াত করতে হবে, কখনো পড়ে ফুঁ দিতে হবে, কখনো আমার পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করতে হবে, গায়ে মাখতে হবে, ছিটিয়ে দিতে হবে। 
কোরআন হাদিস দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করাকে শরীয়তে রুকয়াহ বলে। হজরত রাসূলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকয়াহ করতেন অন্যদের দ্বারা করাতেন এবং সাহাবিদের বলতেন তোমরা রুকয়াহ করো। এখানে আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে- কেউ যেন শুধু এগুলোর ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া একেবারে ছেড়ে না দেয়। কারণ কখনো কখনো এগুলো দিয়ে আমাদের রোগ সারবে না। তখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ‘চিকিৎসকের কাছে যাওয়া’ও কিন্তু কোরআন হাদিস সমর্থিত পথ ও পন্থা। নিচে এমন কিছু আয়াত দেয়া হলো যেগুলো তেলাওয়াতের দ্বারা অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হতে পারে। করোনা ভাইরাসকে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এসব আমলের মাধ্যমে রোগমুক্তি পেতে পারেন।

(১) সূরাতুল ফাতিহা-

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ () الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ () الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ () مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ () إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ () اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ () صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ()

এটি বেশি বেশি তেলাওয়াতের দ্বারা যে কোনো কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মৃত্যুর সন্নিকট ব্যক্তির কাছে এটি পড়লে সুস্থতা পাওয়া যায়। 

(২) সূরাতুত তাওবাহ : আয়াত নম্বর: ১৪

وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ- ওয়া ইয়াশফি ছুদু-রা ক্বাওমিম মু’মিনিন।

অর্থ : এবং মুমিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দিন।

(৩) সূরাতু ইউনুসের ৫৭ নম্বর আয়াত

وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ : ওয়া শিফাউ’ল লিমা- ফিচ্ছুদু-রি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনি-ন।

অর্থ : এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হিদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।

(৪) সূরা নহলের ৬৯ নম্বর আয়াত

يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاس

উচ্চারণ : ইয়াখরুঝু মিমবুতু-নিহা- শারা-বুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু- ফি-হি শিফা-উ লিন্না-সি।

অর্থ : তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় বের হয়ে আসে। তাতে মানুষরে জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার।

(৫) সূরা শুআরার ৮০ নম্বর আয়াত

وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
উচ্চারণ : ওয়া ইজা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফি-ন।

অর্থ : যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।

(৬) সূরা বনি ইসরাঈলরে ৮২ নম্বর আয়াত

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ : ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিলমুমিনি-ন।

অর্থ : আমি কোরআনে এমন বিষয় নাজিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।

আমাদের শরীরের হৃদপিণ্ড অনেক সময় রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা বা যে কোনো রোগের সম্মুখীন হলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

কোরআনে এই হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখতে ও ব্যথামুক্ত রাখতে আয়াত রয়েছে। যারা নিয়মিত কোরআনের আমল করবে আল্লাহ তায়ালা তাদের হৃদপিণ্ডের ব্যথাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যধিগুলো দূর করে দেবেন। আয়াতটি হলো-

الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
উচ্চারণ : আল্লাজিনা আমানু ওয়া তাত্মাইন্নু কুলুবুহুম বিজিকরিল্লাহি; আলা বিজিকরিল্লাহি তাত্মাইন্নু কুলুব।’ (সূরা: রাদ : আয়াত: ১৩)।

যে ব্যক্তি উল্লিখিত আয়াতটি নিয়মিত ৪১ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার হার্ট বা হৃদপিণ্ডের ব্যথা ও রোগ-ব্যাধি দূর করে দেবেন, ইশাআল্লাহ!

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে