Alexa কোচিং ফি’র নামে টাকা লুট!

কোচিং ফি’র নামে টাকা লুট!

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৭ ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ১৬টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়গুলোতে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। তবে ফরম পূরণের সময় কোচিং ফিসহ নানা অজুহাতে বাড়তি টাকা লুট করা হচ্ছে। এতে বিপাকে রয়েছে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা। 

এমন অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, খড়মপুর শাহ পীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়, আমোদাবাদ আলহাজ্ব শাহআলম উচ্চ বিদ্যালয়, নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য এক হাজার ৮৫০টাকা ও অনিয়মিতদের জন্য এক হাজার ৯৫০ টাকা ফরম পূরণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ওইসব বিদ্যালয়ে কোচিং ফি, মডেল টেস্ট, তিন মাসের বেতনসহ নানা কারণ দেখিয়ে প্রায় তিন হাজার ৩০০ টাকা আদায় করছেন। আবার কোথাও তিন হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই টাকা আদায়ে প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ স্থানীয়দের যোগসাজশ রয়েছে। এছাড়া এসব টাকা আদায়ে কোনো রশিদ প্রদান করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা সবশেষে রশিদ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।  

বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের অভিভাবক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, আমার ছেলে বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। নির্বাচনী পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেছে। ফরম পূরনে তিন হাজার ৩০০ টাকা দিতে বলা হয়েছে। অনেক কষ্টে ২০০ টাকা কম রেখেছে কর্তৃপক্ষ।  

নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাবক মো. ইমাম খান বলেন, স্কুল জীবন শেষে ভাতিজি বিদায় নিচ্ছে। এমন সময় ফরম পূরণে তিন হাজার ১০০ টাকা নেয়া হয়েছে। সরকারি ফি ও বেতন ছাড়া বাকি টাকা ডাকাতি করা হচ্ছে। আমরা জিম্মি হয়ে টাকা দিচ্ছি। কোচিং ফি নেয়া রহস্যজনক। দুই বছর তারা কি পাঠদান দিয়েছেন যে আবারো ওই শিক্ষকরা কোচিং করাবেন? 

দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক ফাতেমা আক্তার বলেন, ফরম পূরণসহ কোচিং ফি, মডেল টেস্ট, তিন মাসের বেতনসহ তিন হাজার ৪০০ টাকা দিতে বলা হয়েছে। অনেক কষ্টে ৩০০ টাকা কম দিয়ে ফরম পূরণ করেছি।

অভিভাবক আক্তার হোসেন বলেন, নিন্ম আয়ের মানুষ আমি। ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তার উপর ফরম পূরণে দ্বিগুণ টাকা দাবি করা হয়েছে। ফরম পূরণ করতে পারব কিনা অনিশ্চিয়তায় রয়েছি। 

শিক্ষার্থী মো. সুমন বলেন, ফরম পূরণে তিন হাজার ৪০০ টাকা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দুই হাজার ৫০০ টাকা দিতে বলায় এখনো ফরম পূরণ করতে দেয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আমোদাবাদ আলহাজ্ব শাহআলম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, কোনো অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র কোচিং ফি, বকেয়া বেতন আদায় করা হচ্ছে। 

আখাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শওকত আকবর খান বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে এখনো কেউ অবহতি করেনি। বিষয়টি জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ