কে জিতবে বিশ্বকাপ?

কে জিতবে বিশ্বকাপ?

প্রকাশিত: ১৪:১৫ ৩০ মে ২০১৯  

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

পর্দা উঠছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের। সময়ের হিসেবে দ্বাদশ আসর বিশ্বকাপের। এর আগে ১১ আসরে ঘুরেফিরে পাঁচটি দল বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচবার বিশ্বকাপ ট্রফি উপরে ধরার সুযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত। আর একবার করে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এবার কোন দল বিশ্বকাপ জিতবে? এই নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে তুমুল আলোচনা। পুরনো কোনো দলের ঘরেই যাবে বিশ্বকাপ ট্রফি, নাকি নতুন কোনো দল বাজিমাত করবে বিশ্বকাপ জিতে। এমন আলোচনা এখন চারপাশে। সেই আলোচনায় দেখা যাক কার কতটুকু সম্ভাবনা। 

এবার অবশ্য আলোচনায় সবার আগে উঠে আসছে ইংল্যান্ডের নাম। ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের আয়োজকও তারা। অথচ ইংলিশরা কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তিনবার ফাইনাল খেললেও কখনো ছুঁয়ে দেখা হয়নি বিশ্বকাপ নামের অমূল্য ট্রফিটি। প্রথম পাঁচবারের আসরে তিনবার ফাইনাল খেলার পর ১৯৯২ সালের পর আর কোনো আসরে ফাইনালেই উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড। তবে এবার সেই ইংল্যান্ডকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। কারণ তাদের সাম্প্রতিক ফর্ম। যে ইংল্যান্ডের পক্ষে এক সময় ২৫০ রান করাই ছিল কঠিন কাজ সেই ইংল্যান্ড এখন তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ রান করছে নিয়মিত। যা বিশ্বকাপে অব্যাহত রাখতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেতে পারে ক্রিকেটের জনকরা।

এরপর সুদিনিষ্ট করে সেভাবে আর কোনো দলের নাম একক ভাবে আলোচনায় নেই। তবে আলোচনায় আছে অনেকের নামই। সেই তালিকায় আছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ইংল্যান্ডের পরেই আলোচনায় রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। সবচেয়ে বেশি পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ী অজিরা বিশ্বকাপ মঞ্চে সবসময়ই অন্যরকম ভাবে হিসেবে খাতায় থাকে। সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সাত বার ফাইনালে খেলা দলটির নামও অস্ট্রেলিয়া। তাই সবসময় বিশ্বকাপ মঞ্চে সমীহ জাগানো নাম অস্ট্রেলিয়া। এবার বিশ্বকাপ জিততে পারলে অন্য দলের তুলনায় আরও ধরা ছোঁয়া বাইরে চলে যাবে তারা। 

১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে ভারত। এর ২৪ বছর পর ২০১১ সালে নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ পায় মহেন্দ্র সিং ধোনীর দল। এবার বিরাট কোহলীর দলের সামনে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মিশন। শক্তির বিচারে ভারত এবার সম্ভাব্য শিরোপার বড় দাবিদার। প্রায় সব বিশ্বকাপেই যে দলকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ধরা হয় সেই দলটির নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সীমানা হয় সেমিফাইনাল পর্যন্ত। প্রতিবার হট ফেবারিটের তালিকায় থাকলেও এখন পর্যন্ত ফাইনালের মঞ্চে পৌঁচ্ছানো সম্ভব হয়নি প্রোটিয়াদের। এবারও তেমন কিছু ঘটবে কিনা সময়ই সবচেয়ে ভাল উত্তর দিতে পারবে। কারণ চোকার খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে অগ্রীম বলা সত্যিই কঠিন।

১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর অবশ্য আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি তারা। ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে খেললেও দ্বিতীয় শিরোপার দেখা পায়নি তারা। তবে এবার তুলনামূলক নবীন দলটি পাকিস্তানকে আলাদা ভাবে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিশেষ করে দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে নিজেদের প্রমাণ করেছিল তারা। এই দলের ক্ষেত্রে আরও একটি প্রমাণিত সত্য হলো তাদের সর্ম্পকে পূর্বে কোনো ভবিষ্যৎ বাণী করা সম্ভব নয়। 

১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে পর পর দুই বিশ্বকাপ জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়েগিয়েছিল বিশ্বকাপের সুপার পাওয়ার। কিন্তু এই পর্যন্তই। সোনালি প্রজন্মের পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি তাদের। এক সময়ের সুপার পাওয়ার সেই ক্যারিবীয়রা সময়ের হিসেবে ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপ ট্রফি শুন্য। ১৯৮৩ সালে সবশেষ ফাইনালে খেলেছিল তারা। এরপর আর ফাইনালের মঞ্চেও উঠতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এবার হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে ইংল্যান্ড এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় দাবিদার নিউজিল্যান্ড। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেও শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয়েছে তাদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশন কিউইদের সামনে। এরপর আলোচনায় আছে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলঙ্কা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে লঙ্কানরা। অন্য শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে তাদের পক্ষে বিশ্বকাপ জেতা সত্যিই কঠিন।

তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে সবচেয়ে আলাদাভাবে আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। সম্ভাব্য বিশ্বকাপ জয়ী তালিকায় অনেক ক্রিকেট বোদ্ধা বিশেষ কারণে বাংলাদেশকে বিবেচনায় রাখছেন। বিশেষ করে সেমিফাইনাল পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলবে এমন কথা বলছেন অনেক সাবেক ক্রিকেটার। অনেকে আবার ১৯৯৬ সালের শ্রীলঙ্কার সাথে তুলনা করছেন বাংলাদেশকে। যে বার অনেকটা চমক জাগিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল রানাতুঙ্গার দল। এবারও তেমন কিছু করতে পারে বাংলাদেশ। যা করার ক্ষমতা রাখে মাশরাফির দল। এমন মন্তব্যও অনেক সাবেক ক্রিকেটারের। বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় বাড়তি টনিক হিসেবে কাজ করছে টাইগারদের।

টাইগাররা এই নিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মতো খেলছে বিশ্বকাপ। মূলত সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সের কারণে এই বিশ্বকাপকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। যা এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের। সেবার প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল টাইগাররা। তবে শেষ আটের বাঁধা আর টপকানো সম্ভব হয়নি। শক্তিশালী ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় মাশরাফির দলকে। তবে এবার সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ এমনটা প্রত্যাশা সবার। সম্ভব হলে ফাইনালের মঞ্চে। আর ফাইনালে উঠতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরবে সোনার ছেলেরা এমনটাই প্রত্যাশা ১৬ কোটি মানুষের। অশেষ শুভ কামনা থাকলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য।   

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর