কেটে ফেলা হলো শতবর্ষী সেই বট গাছ

কেটে ফেলা হলো শতবর্ষী সেই বট গাছ

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

কাটা হচ্ছে সেই শতবর্ষী বটগাছ। ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

কাটা হচ্ছে সেই শতবর্ষী বটগাছ। ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

অবশেষে দীর্ঘদিন পর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারের তিন রাস্তার মোড়ের শতবর্ষী সেই বট গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। যা নিয়ে জেলার সাধারণ মানুষদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

তবে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, ওয়ানওয়ে রাস্তা নির্মাণের ফলে বাধ্য হয়েই গাছটি কর্তন করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শতবর্ষী কালের সাক্ষী এ গাছটির স্মৃতি রক্ষার্থে অনেকেই আবার জায়গাটির নাম বটগাছের সঙ্গে মিল রেখে বটতলা রাখার দাবিও জানিয়েছেন। 

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, সওজের কোন একজন কর্মচারী প্রায় শত বছর পূর্বে শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারে তিন রাস্তার মোড়ে ওই বটগাছটি রোপণ করেন। পরে বটগাছটি কালের সাক্ষী হয়ে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে ছিলো। গাছটির ছায়ার নিচে অনেক ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা পিঠাসহ ফলমূল বিক্রি করেছে। কিন্তু বর্তমানে গাছটি কেটে ফেলার ফলে সেই দৃশ্য হয়তো আর দেখা যাবে না। তাই গাছটি কেটে ফেলা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শতবর্ষী বিশাল আকৃতির এ বটগাছটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক মিলে কাটছে। গত দুই তিনদিন ধরে চলা কাজ যেন শেষ করতে পারছে না শ্রমিকরা। কেউ গাছের ডাল আবার কেউবা কাটছে গাছের গোড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছটি কাটার জন্য কাছ করছেন তারা। আবার অনেকেই কালের সাক্ষী এ গাছটি কাটার দৃশ্য দাঁড়িয়ে দেখছেন অথবা মোবাইলে ভিডিও করছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলী জানান, আমার বয়স এখন প্রায় সত্তরের কাছাকাছি। আমি ছোটবেলা থেকেই এ গাছটি দেখে আসছি। আগেকার মানুষজন কৃষিকাজ শেষে এ গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিতো। এছাড়াও এখানে বেঁধে রাখা হত গরু-ছাগল। কিন্তু সময়ের আবর্তে সে সব দৃশ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। শেষমেষ আমিই গাছটি কর্তণের দৃশ্য দেখলাম। খুবই খারাপ লাগছে। তবে বটতলা নামটি যেন থাকে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমি দাবী জানাই। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর মেয়র মোঃ ছালেক মিয়া জানান, রাস্তার উন্নয়ন কাজের স্বার্থেই গাছটি কর্তণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে এই জায়গাটির পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখা হবে। এই জায়গায় রাস্তার পার্শ্ববর্তী আরো বেশ কয়েকটি বট গাছ রোপণ করা হবে। একই সঙ্গে স্মৃতি রক্ষার্থে জায়গাটির নাম পুরানবাজার বটতলা রাখা হবে বলেও জানান তিনি। 

হবিগঞ্জ জেলা বাপা’র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, মানুষদের বেঁচে থাকতে হলে গাছের কোন বিকল্প নেই। একটি গাছ কর্তন করা হলে আরো অন্তত ১০টি গাছ রোপণ করা প্রয়োজন। গাছ প্রাকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। পুরান বাজারে যেই শতবর্ষী গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে, তা ছিলো কালের সাক্ষী। আমি মনে করি গাছটি না কেটে অন্য জায়গায় রাস্তা প্রশস্ত করলে তা ভাল হতো। তাই গাছ লাগানোর প্রতি সবাইকে আহবানও জানান তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর