দূরবীনপ্রথম প্রহর

কেউ ছেড়ে যেওনা আমায়: এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, কেউ পার্টি ছেড়ে যেওনা, কেউ নিরুৎসাহিত হওনা। সবাই এমপি হতে পারে না। কিন্তু সবাইকে দলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারন, সুদিন আমাদের আসবেই। কঠিন সময় পার করছি, তবে আমরা ভেঙে পরিনি। আগামীতে হয়তো আরো কঠিন সময় পার করতে হবে। সেজন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মোবাইল ফোনে সাবেক রাষ্ট্রপতি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

স্লিপিং ড্রেসে দলের কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ হাজির জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজের গাড়িতে নয়, অন্য একটি গাড়িতে। গাড়ি থেকেই নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কথা বললেন। এরশাদ বলেন, চিকিৎসা করতে দেয়া হচ্ছে না, বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।

গতকাল দুপুরে চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে একটি সভা চলছিল। এ সময় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে বাসায় যাওয়ার পথে এরশাদ থামেন দলীয় কার্যালয়ের সামনে।

উপস্থিত নেতাকর্মী ও সংবাদকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরলে কথা বলেন এরশাদ। সাবেক রাষ্ট্রপতি নিয়মিত যাতায়াত করেন প্রাডোতে। বৃহস্পতিবার আসেন কালো রংয়ের অন্য গাড়িতে। সাংবাদিকরা এগিয়ে আসলে তিনি গাড়ির জানালা খুলে কথা বলতে চান।

এরশাদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে কথা বললেও তার লক্ষ্য ছিল নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, আমরা অনেক অত্যাচার-অবিচার সহ্য করেছি। অনেক অত্যাচার-অবিচারের মধ্য দিয়েও জাতীয় পার্টি বেঁচে আছে। আজ আমি বলতে এসেছি, আমায় দমিয়ে কেউ রাখতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাবোই যাবো। আমার একটু বয়স হয়েছে। চিকিৎসা করতে দেবে না, বাইরে যেতে দেবে না। কিন্তু আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমি মরি আর বাঁচি জাতীয় পার্টি তোমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে। ইনশাআল্লাহ আমি মরবো না। আল্লাহ আমাকে সেই মেহেরবানি করবেন। যাতে করে ফের আমি জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দিতে পারি। আমাদের কোনো ভয় নেই। জাতীয় পার্টি চিরকাল নির্বাচন করছে, এবারো করবে। আমাদের নতুন মহাসচিব এসেছেন। পুরনো মহাসচিবকে ভালোবাসতাম। কিন্তু নতুন মহাসচিবকে তোমাদের ভালোবাসতে হবে। তাকে গাইড করতে হবে। উনি নতুন, যাতে করে সঠিক পথে চলতে পারে। আমি বেঁচে আছি, বেঁচে থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমি পার্টিকে ভালোবাসি।

কি করি নাই এ পার্টির জন্য। ২৭ বছর ঘুরে বেড়িয়েছি আমি একলা। মাইল কে মাইল হেঁটেছি। পার্টিকে বাঁচিয়ে রেখেছি। এখন নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। পার্টি তোমরা ছাড়বে না। সবাই জাতীয় পার্টিতে থাকবে। আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও কেউ পার্টি ছাড়বে না। তোমরা ভালো থেকো, আমি খেতে যাচ্ছি বাসায়, আবার ফিরে যাবো। আমার একটু ব্লাড শর্টেজ আছে, কোনো অসুবিধা নেই। তোমরা আমার সন্তান।তোমরা বেঁচে থাকলে বাপও বেঁচে থাকবে।

এরশাদ বাসা থেকে ফোনে বলেন, আমরা বড় কঠিন সময় পার করছি। সামনে আরো কঠিন সময় আসবে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনশ’ আসন কেউ পায় না। তিনশ’ আসনে মনোনয়ন না পেলে নিরুৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। পার্টির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। জাপা থাকবে, জাপা আছে। আমাদের সুদিন আসবেই।

এরশাদ বলেন, আমরা নির্বাচনে যাবো। নির্বাচনে অনেক ভালো করবো। আমি বেঁচে আছি, দলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যাবো আমরা। তোমরা জাতীয় পার্টির পতাকাতলেই থেকো। কেউ দল ছেড়ে যেওনা। ভালো থেকো, সবাই।

যুব সংহতির মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা বলেন, প্রতিটি নির্বাচন আসলে এরশাদকে থাকতে হয় ‘সিএমএইচে না হয় বাসায় অবরুদ্ধ’। দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। বাকশালী শাসন কায়েম হচ্ছে।

পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তারের পরামর্শেই আছেন। মেডিকেল বোর্ড মনে করলে, তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেবেন। এরশাদ রাজনীতিতে আছেন- তিনিই জাতীয় পার্টি পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন জিএম কাদের।

জাপার কো চেয়ারম্যান বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তই এরশাদই নিচ্ছেন। স্বাধীনভাবেই তিনি রাজনীতি করছেন এবং দল পরিচালনা করছেন। তিনি আরো বলেন, এরশাদকে যারা ক্ষমতা প্রয়োগকারী বলেছেন, তারাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এর ক্ষমতার সঙ্গে পার্টির প্রধান হয়ে পরবর্তীতে আরো বেশি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য শেষ হয়ে গেছে। যারা এরশাদের শাসনামলকে নিন্দা করেছেন, তারা বুকের ওপর হাত দিয়ে বলতে পারবেন না, এরশাদ পরবর্তী সময়গুলো দেশের ভালো কেটেছে। তিনি বলেন, এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে, এরশাদের শাসনামল নাকি পরবর্তী সরকারগুলোর শাসনামলে দেশ ভালো চলেছে।

জিএম কাদের আরো বলেন, এরশাদ একজন বয়োজেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। তার দেশ পরিচালনার দক্ষতা ও ক্ষমতা আছে। তাই দেশের মানুষ এখনো এরশাদের শাসনামলে ফিরে যেতে চায়। দেশের মানুষ এখনো এরশাদকে ভালোবাসেন। কিন্তু যারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, তারা শুধু এরশাদেই ভয় পায়। কারন, এরশাদ সঠিক সময়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

জিএম কাদের বলেন, কেউ যদি দলের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়, তা বরদাশ্ত করা হবে না। জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাওয়া মানেই দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত হওয়া। জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হলেই দেশের সংবিধান সুসংহত হয়।

পার্টির নবনিযুক্ত মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। জাতীয় পার্টি চায় সাধারন মানুষ যেন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোট ডাকাতি ও ব্যালট ছিনতাই জাতীয় পার্টি বিশ্বাস করে না।

নির্বাচন প্রসঙ্গে রাঙ্গা বলেন, জাপা ১৪ দলের সঙ্গে অংশ নিয়ে মহাজোটের মাধ্যমে নির্বাচন করবে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার দল সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করেছে। তিনি বলেন, এবার আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা লাঙ্গলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতে চাই।

পার্টি চেয়ারম্যানের প্রতি জুলুম ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে পার্টির মহাসচিব বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ১২ দিন মাটিতে ঘুমাতে হয়েছে। বিনা বিচারে ৭ বছর কারাগারে আটক রাখা হয়। যারা এরশাদের প্রতি অবিচার করেছেন, আজ তারাই কারাগারে দিন পার করছেন। যারা র‌্যাব দিয়ে মানুষ খুন করেছেন, অপারেশন ক্লিনহাটের নামে মানুষ হত্যা করেছেন, তারাই আজকে মানুষ খুনের ধুয়া তুলছেন। তিনি বলেন, নতুন করে মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর এখন এক মাসেরও কম সময় আছে। তারপরও আমরা আগামী প্রজন্মেও জন্য বাসযোগ্য একটি দেশ গড়তে চাই। দলকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণাও দেন নবনিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই দলীয় এমপি ও মন্ত্রীরা বনানী এবং কাকরাইল অফিসে সময় দেবেন। দলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত এবং উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু ঢাকায় সময় দিলেই হবে না। দেশের তৃণমূলে সফর করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য নূর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এস.এম. ফয়সল চিশতী, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব বেলাল হোসেন, শ্রমিক পার্টির সভাপতি-একেএম আশরাফুজ্জামান খান, ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মোড়ল জিয়া।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, প্রফেসর মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, উপদেষ্টা- একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ নোমান, মোঃ সেলিম উদ্দিন, নাজমা আখতার, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান- নুরুল ইসলাম নুরু, অধ্যাপক আবুল হোসেন, নুরুল ইসলাম মিলন, আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, সরদার শাহজাহান, আতাউর রহমান আতা, হেনা খান পন্নি, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন, নুরুল ইসলাম ওমর, সালাউদ্দিন মুক্তি, জহিরুল আলম রুবেল, শফিকুল ইসলাম শফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক- সুলতান আহমেদ সেলিম, মুনিম চৌধূরী, মোঃ হেলাল উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য- সুলতান মাহমুদ, আনিস উর রহমান খোকন, এমএ রাজ্জাক খান, আবু সাঈদ স্বপন, ডা. সেলিমা খান, মাহমুদুর রহমান মুন্নি, শারমিন পারভিন লিজা, সুমন আশরাফ, শাহিদা রহমান রিংকু, আহাদ চৌধুরী শাহীন, রেজাউল করিম, মনোয়ারা তাহের মানু, মৌলভী ইলিয়াস উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা- আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ, মোঃ নিয়াজ আলী ভূঁইয়া, ফজলে এলাহী সোহাগ, পনির উদ্দিন আহমেদ, মফিজুর রহমান মফিজ, শামসুল হুদা, এনাম জয়নাল আবেদীন, মোঃ আখতার হোসেন, শাহানারা বেগম, শেখ আজাহার হোসেন, মোঃ আখতার হোসেন, জিএম বাবু, খোরশেদ আরা হক, মিনি খান, তাসলিমা আখতার রুনা, অ্যাডভোকেট জুলফিকার হোসেন, তিতাস মোস্তফা, রেজাউর রাজী স্বপন, সোলেমান সামি, বাবু শংকর পাল, আব্দুস সাত্তার, মামুনুর রহমান প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসরা/এলকে

daily-bd-hrch_cat_news-56-10