কৃষির উপর নির্ভর মিঠুর হাজার কোটি টাকার সম্পদ

কৃষির উপর নির্ভর মিঠুর হাজার কোটি টাকার সম্পদ

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৫ ৬ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৪:৪৬ ৬ জুলাই ২০২০

মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু

মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু

রংপুরের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর পরিবার কৃষির উপর নির্ভর হলেও স্বাস্থ্যখাতে ঠিকাদারির পর থেকে তার আয়-রোজগার রহস্যজনকভাবে বাড়তে থাকে। বর্তমানে রংপুর নগরীতে রয়েছে তার শত শত বিঘা জমি, ভবন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 

মিঠুর আদি বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায়। ঠিকাদারি করে স্বাস্থ্যখাত থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও বরাবরই থেকে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ঠিকাদার হিসেবে মিঠুর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালে।

রংপুর নগরীর ধাপ পূর্বগেটে রয়েছে তার অত্যাধুনিক বাসভবন। যে ভবনের ছাদে হেলিকপ্টার নামতে পারে। বাড়িটির চার দিকে লাগানো রয়েছে সিসি ক্যামেরা। বাড়িতে কেউ প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেজে ওঠে অ্যালার্ম সিস্টেম।

বাবা কছিরউদ্দীনের নামে রয়েছে নগরীতে হাসপাতাল। বাবার নামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপরতা চালিলেও সেটাতে সফল হতে পারেননি। নগরীর চব্বিশহাজারি, মহিপুর ও দর্শনায় শত শত বিঘা জমি, নানা অবকাঠামো, ছাত্রাবাসসহ বিপুল সম্পদের মালিক মিঠু। 

দর্শনা এলাকায় ভিআইপি মিঠুর নামে একটি সড়কও আছে। গংগাচড়া উপজেলার বাড়িটি মিঠু হাজির বাড়ি নামে পরিচিত। রংপুরে মহি মিঠু নামেই তার বেশি পরিচিতি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের মালিক হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। কিন্ত বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরোধিতার কারণে তা পারেননি।

বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিঠু যেসব মেডিকেল যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে সেগুলো বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না। সবগুলো যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে রংপুর বিভাগের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর অবর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ করা তার ভাতিজি ও হাসপাতালের পরিচালকের পিএস উম্মে সুলতানা নওশীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ-কেলেঙ্কারি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বদলি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন রংপুর মেডিকেলের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম। মিঠু ও নওশীনের নানা অন্যায়-অত্যাচারের বর্ণনা দিয়েছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

রংপুর মেডিকেলের পরিচালক ডা. ফরিদ ইসলাম জানান, নওশীন মিঠুর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সব সময় কাজ করে থাকে। কেউ তার বিরোধিতা করলেই তাকে বদলি হতে হয়। 

হাসপাতালের কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, নওশীন নিজেকে মিঠুর ভাতিজি হিসেবে পরিচয় দিত। কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, কেউ বাহাদুরি করে পার পাবে না। দুদক থেকে অলরেডি তার হিসাব চাওয়া হয়েছে। অন্যায় করে খুব বেশি দিন থাকা যায় না। যারা অন্যায় করছে তারাও থাকতে পারবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ