Alexa কুমিল্লা মহাসড়ক যেন আবর্জনার ভাগাড়! সরকারি গাছ লুট

কুমিল্লা মহাসড়ক যেন আবর্জনার ভাগাড়! সরকারি গাছ লুট

তুহিন ভূইয়া, চান্দিনা (কুমিল্লা) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০৪ ১৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:২৫ ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

কুমিল্লা মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকায় পচা দুর্গন্ধে যেন দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে চলা শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নাকে-মুখে কাপড় বেঁধে চলাফেরা করতে হয়। উৎকট গন্ধে যাত্রীরা বাধ্য হয় অনেক সময় বমিও করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নিমসার, চান্দিনা বাস স্টেশন, দেবিদ্বার, নাজিরা বাজারসহ কুমিল্লার বিভিন্ন অংশের মহাসড়ক যেন খোলা আবর্জনার ভাগার। মরা পশুপাখি, কারখানা, হাট বাজার, পৌরসভা ও আবাসিক এলাকার সব ময়লা গাড়ি দিয়ে এনে স্তুপ করা হচ্ছে মহাসড়ক ও ফুটপাতের ওপরই। স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর শোধনাগার না থাকায় রোগীদের ব্যবহৃত বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে মহাসড়কে। 

এ পরিস্থিতিতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের পরিবেশ। ছড়াচ্ছে রোগ জীবাণুসহ ডেঙ্গু মশার বিস্তার। স্থানীয় কৃষকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও জোর করে ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কৃষকরা।

এছাড়া মহাসড়কের পাশে ও ফুটপাতে এসব দুষিত বর্জ্য ও আবর্জনা থেকে রোগবালাই তো ছড়াচ্ছেই, সেই সঙ্গে আশপাশের পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাবও পড়ছে। উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেয়া বিষাক্ত ওষুধ ও বিষ জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী জীবজন্তু ও পাখি মারা যাচ্ছে। 

এদিকে ময়লার স্তুপ পরিষ্কারের নামে অনেক সময় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয় লাখ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি গাছ। রাতের আধারে এসব গাছ কৌশলে কেটে নিয়ে বিক্রি করেছে একটি চক্র। 

গত শনিবার দাউদকান্দি থেকে পদুয়ার বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় একশর বেশি মূল্যবান গাছ অনুমতি ছাড়াই কেটে নেয়া হয়েছে। রাতের আঁধারে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব গাছ প্রথমে উপড়ে ফেলে পরে তা টুকরো টুকরো করে কেটে নেয়।

দেবিদ্বার বাগুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক যাদব রায় বলেন, একটি সভ্য দেশে এভাবে খোলামেলা স্থানে আবর্জনা ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের ভিআইপি ও পর্যটকরা চলাচল করেন। এশিয়ান হাইওয়ের পাশে এমন পরিবেশ অবশ্যই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। পৌরসভাগুলোতে আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা খুবই জরুরি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে এর আগে বিভিন্ন পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্টদের বহুবার চিঠি দেয়া হয়েছে। মৌখিকভাবেও তাদের বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ বিষয়টি কানে তোলেনি। যার ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকার মূল্যবান গাছ নষ্ট হচ্ছে। শুধু গাছই নয়, সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা জনগণসহ সবারই দায়িত্ব। অবৈধভাবে সড়কের গাছ যারা কাটছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর