কিসের অনুমতি লাগবে, বললেন ঠিকাদার

কিসের অনুমতি লাগবে, বললেন ঠিকাদার

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০২ ১১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২১:৪১ ১১ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সীমানাবর্তী এলাকা শৈলমারীর সালতা নদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। এ বালু উত্তোলন করছেন এক ঠিকাদার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করলেও স্থানীয় প্রশাসন ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জানা যায়, প্রবাহমান সালতা নদীর তলদেশে বোরিং করে পাম্প মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছে বিশ্বজিত দে নামে এক ঠিকাদার। নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করায় আশপাশের বসবাসকারীরা তাদের বসতঘর নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া মেশিনের প্রকট শব্দ ও কালো ধোঁয়ায় তাদের বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে নির্মাণাধীন শিল্পকলা একাডেমি ভবনের সামনে নিচু জমি মাটি বা বালু দিয়ে ভরাটের জন্য স্থানীয় এমপি প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেন। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। নিচু জমি ভরাটের জন্য মাটি ভরাট কাজ প্রকল্প কমিটি সবচেয়ে কম মূল্যে বালি ভরাট করতে আগ্রহী বিশ্বজিত দেকে কন্ট্রাক্ট দেয়।

বিশ্বজিত আইনের তোয়াক্কা না করে উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সালতা নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ওই নিচু জমি ভরাট করছেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার খালের পাড়ে নিম্নমানের বাঁশের খুঁটি নামমাত্র বসিয়ে বালি ফেলছে। ওই বাঁশে নেট বা বালুরোধী কোনো আবরণ না দিয়ে বালি ফেলায় পাশের খালটিও ভরাট হয়ে যেতে পারে। এতে উপজেলা প্রশাসনসহ ডুমুরিয়া বাজারের পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে নদীর পাড়ে বসবাসরতরা অভিযোগ করে বলেন, বিকট শব্দে মেশিন ও নদীর তলদেশ থেকে বালি উঠানো বন্ধ করতে নিষেধ করা হয়। এতে স্থানীয় এক নেতা তাদের হুমকি দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুলিশ দিয়ে শায়েস্তা করা হবে।

এ বিষয়ে বালি ভরাটের কন্ট্রাক্ট নেয়া বিশ্বজিত দে বলেন, নদী থেকে বালু নিয়ে সরকারি জায়গা ভরাট করছি। তার আবার কিসের অনুমতি লাগবে।

শিল্পকলা একাডেমির নিচু জমি ভরাট প্রকল্পের চেয়ারম্যান নিতীশ রায় বলেন, আমরা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় (কম মূল্যদাতা) বিশ্বজিত দেকে কন্ট্রাক্ট দিয়েছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, শিল্পকলা একাডেমির নিচু মাঠ ভরাটের জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বালু বা মাটি দিয়ে সে স্থান ভরাট করতে হবে।

ইউএনও শাহনাজ বেগম বলেন, নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে কিনা আমার জানা নেই। যদি কেউ নদীর তলদেশ বোরিং করে বালি উত্তোলন করে সেটি বেআইনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডুমুরিয়া ডিভিশনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, নদী থেকে বালি উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট বালুমহল চিহ্নিত করা রয়েছে। চিহ্নিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে সালতা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কেউ অনুমতি নেয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম