Alexa কিশোরকে জীবন্ত কবর দিতে চাইলেন সহপাঠীরা

কিশোরকে জীবন্ত কবর দিতে চাইলেন সহপাঠীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০১ ২২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৭:১১ ২২ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পটুয়াখালীতে আহাদ তালুকদার নামে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরকে জীবন্ত কবর দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন তার সহপাঠীরা। 

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউপির কার্তিকপাশা গ্রামের মো. সাদের হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

এদিকে ভিকটিম কিশোরের পরিবার পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চাওয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়েছেন অপরাধীদের পরিবার। গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। আহাদ শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

ভিকটিম আহাদ জানান, বেশ কিছুদিন আগে তার সহাপাঠী জাকারিয়া ও জিহাদ তার দাদা ইউছুব তালুকদারের গাছ থেকে বাতাবি লেবু চুরি করে খায়। এ ঘটনা দেখে আহাদ তার দাদার কাছে জানায়। চুরির ঘটনায় দাদা ইউছুব আলী জিহাদ ও জাকারিয়াকে মৌখিকভাবে শাসন করেন। 

এ ঘটনার জেরে আহাদকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে জিহাদ-জাকারিয়া। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির পাশে জাকারিয়ার চাচা আব্দুল সালাম হাওলাদারের পরিত্যক্ত একটি ঘরের মধ্য মাটি খুঁড়ে বড় গর্তের সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার বেলা ১১টার দিকে আহাদকে কিছু খাওয়ার কথা বলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী দোকানে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে জোর করে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের তৈরি করা কবরের কাছে জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায় জাকারিয়ার চাচাতো ভাই নাসির ও চাচি নেহার ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তা দিয়ে গেলে জাকারিয়া ও জাহিদ দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে জাকারিয়া বিষয়টি তার মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানায়। 

খবর পেয়ে সদর থানার এএসআই শামীম আকন ঘটনাস্থলে পৌছায়। ততক্ষণে ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান ও গণ্যমান্যরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। 

এ ঘটনায় আহাদের মা ফরিদা বেগম জানান, তুচ্ছ ঘটনার জেরে প্রতিবেশী আলাল উদ্দিনের ছেলে জিহাদ ও জাফরের ছেলে জাকারিয়া তার ছেলে আহাদকে জীবন্ত কবর দিয়ে মারা চেষ্টা করেছে। ঘটনাক্রমে সেখানে লোকজন উপস্থিত না হলে আজ তার ছেলেকে সত্যিই কবর দিয়ে দিত। 

তিনি আরো জানান, বেশ কয়েকটি আগে আরো একটি তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিবেশী হানিফু হাওলাদারে গরুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এর কিছুদিন আগে জাফরের বড় ছেলে জাহিদ তার ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। তারা সন্তানদের শাসন করার বদলে উৎসাহ দিয়ে আসছে। যে কারণে বড় ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়েছে।  

এ প্রসঙ্গে জাকারিয়ার মা রেনু বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার ছেলে স্কুলের কথা বলে এই কাজ করবে তা তিনি বুঝতে পারিনি। এটা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করবো। 

 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ