Alexa কিশোরকে কুয়ার ভেতর চুবিয়ে হত্যা তিন বন্ধুর

কিশোরকে কুয়ার ভেতর চুবিয়ে হত্যা তিন বন্ধুর

পেকুয়ায় (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৯ ১৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৩ ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউপির কিশোর সাঈদুল হককে হত্যা করেছে তার তিন বন্ধু।

ক্রিকেট খেলায় ঝগড়া ও একটি দোকান চুরির ঘটনার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যায় সরাসরি জড়িত না থাকলেও পরিকল্পনায় ছিলেন আরো তিনজন।

শনিবার বিকেল ৩টায় চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেব এর আদালতে সাঈদুলের তিন বন্ধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সাঈদুলকে হত্যার বর্ণনা দেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার তিনজন হলেন মগনামা ইউপির বাজারপাড়া এলাকার নুরুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম ওরফে এনা মিয়া, ফরিদুল আলমের ছেলে জিয়াউর রহমান ওরফে লালু ও গুরা মিয়ার ছেলে মো. বাপ্পি।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউপির ধারিয়াখালী এলাকার ভোলাখালে বসানো বিহিন্দি জালের ভেতর থেকে মগনামা ইউপির বাজারপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. সায়েদুল হকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে সায়েদুলের মা তসলিমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোর ৫টার দিকে তিনজনকে গ্রেফতার করে।

পেকুয়া থানার এসআই কাজী আব্দুল মালেক বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিন কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। তারা শনিবার বিকেল ৩টার দিকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতে তিন কিশোরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ফুটবল, ক্রিকেট খেলায় ঝগড়ার জের এবং দোকান চুরির ঘটনার জের ধরে ১৫ দিন আগে ছয়জন মিলে সাঈদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে ঘটনার দিন সোমবার রাতে সাঈদুল, আব্দুর রহিম, জিয়াউর রহমান ও মো. বাপ্পি-এই চারজন মিলে বাজার পাড়া এলাকার লবণমাঠের একটি টং ঘরে মদ পানের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তটি সাঈদুলকে জানানো হলে সে রাজি হয়।

সোমবার রাতে ছয়জনের মধ্যে তিনজন রাস্তায় পাহারা ও অন্য তিনজন সাঈদুলকে নিয়ে টং ঘরের কাছে যায়। এ সময় আব্দুর রহিম সায়েদুলকে বলে যে, মদের দুটি বোতল টংঘরের পাশে কুয়ার ভেতরে গেড়ে রাখা হয়েছে। কুয়ায় হাঁটু সমান পানি ছিল। রহিম সাঈদুলকে মদের বোতল দুটি কুয়া থেকে কুড়িয়ে তুলতে বলে। সাঈদুল কুয়ায় নামলে রহিম ও জিয়াউর রহমানও কুয়ায় নামেন। একটি বোতল কুড়িয়ে নেয়ার পর রহিম সাঈদুলকে পানিতে চুবিয়ে ধরেন।

এ সময় জিয়াউর রহমানও তাকে ঘাড় ধরে চুবিয়ে রাখেন। ওই সময় বাপ্পি কুয়ার পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্য তিনজন রাস্তায় হাঁটাচলা করছিলেন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে রহিম গলায় মাফলার পেঁচিয়ে এবং জিয়াউর রহমান ও বাপ্পি আড়াআড়িভাবে ধরে সাঈদুলের মরদেহ পাশের ভোলাখালে ফেলে দেন। এরপর তিনজন বাড়ি চলে যান এবং রাস্তায় পাহারারত অন্য তিনজনকেও মুঠোফোনে বাড়িতে চলে যেতে বলেন।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, সাঈদুল হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে ধরে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য যারা জড়িত তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ