‘কিটো ডায়েট’ করলেই বিকল হবে লিভার ও কিডনি!

‘কিটো ডায়েট’ করলেই বিকল হবে লিভার ও কিডনি!

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে ওজন কমানোর জনপ্রিয় এক ডায়েট হলো কিটোজেনিক। স্বাস্থ্য সচেতনরা অত্যন্ত কঠোর এই ডায়েট মেনে ঝরিয়েও ফেলছেন শরীরের বাড়তি ওজন। তবে সাময়িকভাবে এই ডায়েটের ফলে আপনার ওজন কমলেও এর প্রভাবে ভুগবেন কিন্তু আপনিই!

অবাক হচ্ছেন? সত্যিই দীর্ঘদিন কিটো ডায়েটের প্রভাবে আপনার লিভার ও কিডনি বিকল হতে পারে। এছাড়াও শাররিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতে হতে পারে। শুধু কিটোই নয় ক্র্যাশ ডায়েটও শারীরিক বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ক্র্যাশ ডায়েট ঠিক কোনগুলো?

ডিম ডায়েট: এটি হাই প্রোটিন এবং জিরো কার্বোহাইড্রেট ডায়েট। সারাদিন ডিম খেয়েই কাটাতে হয় এই ডায়েটে। এছাড়াও কম মাত্রায় ফল, সালাদ, চিকেন আর মাছ খাওয়া যেতে পারে।

জুস ডায়েট: এই প্রকার ডায়েটে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা কেবল ফল আর সবজির রস খাওয়া হয়। এই ডায়েটও অনেকখানি মেদ ঝরাতে কার্যকর। তবে একটানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি জুস ডায়েট করা যাবে না।

কিটো ডায়েট: এই বিশেষ ডায়েট প্ল্যানে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হয়। কিটোজেনিক ডায়েটের ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ২৫ শতাংশ প্রোটিন এবং ৭০ শতাংশ ফ্যাট জাতীয় খাবার রাখতে হবে ডায়েটে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এসব ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন ঠিকই কমে। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে শরীরে। এছাড়াও অনেকের ওজন আবার আগের মতো বেড়ে যায়। এসব ডায়েটে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার না খাওয়ায় ইটিং ডিজঅর্ডার দেখা দিতে পারে। 

ক্র্যাশ ডায়েটের পর যে ওজন বাড়ে সেক্ষেত্রে মেদ জমা হয় পেট বা তলপেটে। এই মেদের কারণে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া কোনো ডায়েট শুরু করা একেবারেই উচিত নয়। জানেন কি এই ক্র্যাশ ডায়েটের ফল কতটা ভয়ানক হতে পারে?

১. এই ধরনের ডায়েটের ফলে শরীরে পানির মাত্রা অত্যাধিক হারে কমে যায়। প্রয়োজনের তুলনায় কম ফ্যাট খাওয়ায় দেহকোষ তার পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্যাট পায় না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই সে শরীরের অতিরিক্ত জল শুষে নেয়। যার ফলে গ্লাইকোজেন ভেঙে যায়। আর গ্লাইকোজেন ভাঙলেই জলশূন্যতা তৈরি হয়।

২. শরীরে বিপাক ক্রিয়ার হার কমে যায়।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

৪. কিটো ডায়েটের ফলে দেহে শর্করার অভাব হয়। সেক্ষেত্রে দেহে ফ্যাটি অ্যাসিড ভেঙে কিটোন উত্পাদন হয়। এই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমেই দেহে শক্তির জোগান হয়। দীর্ঘদিন ‘কিটো ডায়েট’ করলে আপনার লিভার আর কিডনি বিকল হয়ে যাবে। 

৫. ক্র্যাশ ডায়েটের ফলে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে বিষণ্ণতা, ঘনঘন মেজাজের পরিবর্তন ঘটে।

৬. শুধু তাই নয়, দেহে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন আর মিনারেলের অভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হয়।

৭. এই প্রকার ডায়েটে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা দেখা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস