কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে ৩ ভারতীয় সেনাসহ নিহত ১২

কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে ৩ ভারতীয় সেনাসহ নিহত ১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০০ ৬ এপ্রিল ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

লকডাউনের মধ্যেও ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পৃথক ঘটনায় স্বাধীনতাকামী নয় গেরিলা ও ভারতীয় তিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

রোববার ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজ।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেন, পাকিস্তানের সমর্থক জঙ্গিদের হামলায় আমাদের তিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

তবে এ ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন তা তিনি প্রকাশ করতে চাননি। তিনি শুধু বলেছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা চলছে।

জানা গেছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি বাহিনী এবং স্বাধীনতাকামী গেরিলাদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় কুলগামে বন্দুকযুদ্ধের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ লড়াই হয়। সেখানে শনিবার চার গেরিলা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতের সংবিধান ৩৭০ ধারা বাতিলের পর দেশটির নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন জারি করা হয়। তখন থেকেই কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক নেতাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

গণআন্দোলনের ভয়ে সেখানে মাসের পর পর মাস কারফিউ জারি করে রাখা হয়। কারফিউ প্রত্যাহারের পর সেখানে জমির মালিকানা অধিকার আইনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়।

এই আইন পরিবর্তন করা হলে ভারতীয়রা কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারবেন। আর এতে মুসলমান অধ্যুষিত হিমালয় অঞ্চলটিতে জনমিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, করোনার প্রকোপ ঠেকাতে ১১৩ কোটি মানুষের দেশ ভারতে যখন ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে তখন কাশ্মীরে এ আইনের পরিবর্তন আনায় একে অনেকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে দেখছেন।

গত আগস্টের ৫ তারিখে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসন আধা স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করার পর থেকেই কার্যত লকডাউনে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর।

কাশ্মীরে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পাশাপাশি, কঠোর কারফিউ বলবত করে নয়াদিল্লি। টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতা এবং স্বাধীনতাকামীদেরকে করে গ্রেফতার।

সাত দশক আগে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হওয়ার পর নয়াদিল্লি কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মোদি এবং তার উগ্র হিন্দুবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ