Alexa ‘কালাপানি’ থেকে ভারতকে সরে যাওয়ার আহ্বান নেপালী প্রধানমন্ত্রীর

‘কালাপানি’ থেকে ভারতকে সরে যাওয়ার আহ্বান নেপালী প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১১ ১৯ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-ভারতের বিরোধপূর্ণ ‘কালাপানি’ সীমান্ত এলাকা থেকে অবিলম্বে ভারতের দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি অলি।

ভারতের মানচিত্র থেকে কালাপানির নামও সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির যুব শাখার এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অলি বলেন, আমরা আমাদের এক ইঞ্চি অঞ্চলও কোনো দেশকে দখল করতে দেব না। ভারতকে অবশ্যই এই জায়গা খালি করতে হবে।

ভারতকে সংশোধিত মানচিত্র নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতকে আমাদের ভূমি থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এরপরই এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ হতে পারে।
এই প্রথম জনসম্মুখে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল ‘কালাপানি’ নিয়ে বক্তব্য রাখলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, সীমান্তের ভূখণ্ডটি আজকে দখল করা হয়নি কিন্তু এখন আমরা এই বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমতে পৌছেছি। এই সরকার দেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যথেষ্ট সক্ষম।

গত ২ নভেম্বর ভারতের হালনাগাদ করে প্রকাশ করা মানচিত্রটিতে ‘কালাপানি’ নামে পরিচিত একটি এলাকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মানচিত্রটিতে পাকিস্তান ও চীনের অধিকারে থাকা জম্মু-কাশ্মিরের অংশ এবং নেপালের কালাপানিসহ ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়।

৩৫ বর্গ কিলোমিটারের কালাপানি ভূখণ্ডটি নেপালের পিথোরাগার জেলায় ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি নিয়ে বহুদিন ধরে ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে নেপাল পার্লামেন্টে ভারতের সঙ্গে মহাকালি চুক্তি অনুমোদন করা হলেও ওই বিরোধের মিমাংসা হয়নি। নেপাল এই এলাকাকে নিজের বলে দাবি করে থাকে।

মানচিত্রটি প্রকাশ করার চার দিন পর নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় মানচিত্রে কালাপানিকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিল।

নেপাল সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কালাপানি হলো নেপালের অংশ। কালাপানিকে দখল করার ভারতের একতরফা ও অবৈধ পদক্ষেপটি ১৮১৬ সালে নেপাল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যকার সুগইলি চুক্তির পরিপন্থী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই দাবি প্রত্যাহারের কথা বললেও দিল্লির পক্ষ কোনো সাড়া পাওয়া না যাওয়ায় দৃঢ় চিত্তে দাবি জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ