কালাইয়ে ১২৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার 

কালাইয়ে ১২৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার 

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১১ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারিসহ প্রায় ১৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১২৭টিতে নেই শহিদ মিনার। একদিকে সরকারি তহবিলের অভাব, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অবহেলার কারণে ওই সব প্রতিষ্ঠানে আজো শহিদ মিনার নির্মাণ হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে শুরু করে সব দিবসের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা নেয়া থেকে একেবারেই বঞ্চিত হচ্ছেন। 

উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউপির সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, ইফতাদায়ী এবং মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজ মিলে প্রায় ১৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৭টিতে নেই কোন শহিদ মিনার। আর মাত্র ৩৩টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে সরকারি অথবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহিদ মিনার নির্মাণ করার নির্দেশ থাকলেও তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি। 

এতে করে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস থেকে শুরু করে ওই সব দিবসের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা নেয়া থেকে একেবারেই বঞ্চিত হচ্ছে। 

তবে শহিদ মিনার নেই এমন কিছুসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এলাকার কিছু কিছু গ্রামে ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর আগমনে দেখা যায় উজ্জীবিত কিছু যুবক-যুবতী এবং ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে থাকে। তারা এলাকার বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় কলাগাছ পুঁতে বাঁশ-কাঠ ও বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে। 

আর সেখানে পালন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও মহান বিজয় দিবস। সেই সঙ্গে শহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও পুষ্পঅর্পণ করা হয় ওই সব অস্থায়ী শহীদ মিনারে। 

অন্যদিকে উপজেলার কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। কিন্তু অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই সব দিবসের কোন গুরুত্বপূর্ণ দিক বা তাৎপর্য তুলে ধরা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এ বিষয়ে কালাই উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মুনীশ চৌধুরী বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই। সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও মহান বিজয় দিবস সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞানলাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য আমি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। 

শহিদ মিনার কেন নেই, এ বিষয়ে কালাই উপজেলার শিক্ষা অফিসার মোছা. ইতিয়ারা পারভীন বলেন, এলাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। যাতে করে আগামীতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়।

কালাই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান বলেন, উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকা খুব প্রয়োজন। তবে আজ পর্যন্ত কেন শহিদ মিনার তৈরি করা হয়নি ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিরা ভালো জানেন।

শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে কালাইয়ের ইউএনও মো. মোবারক হোসেন পারভেজ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হবে। 

 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর