Alexa কাব ক্যাম্পুরি: ভাঙল শিশুদের মিলনমেলা 

কাব ক্যাম্পুরি: ভাঙল শিশুদের মিলনমেলা 

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৭:৪১ ২৫ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৭:৪৫ ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘কাবিং করবো, শান্তির বার্তা আনবো’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গাজীপুরে নবম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরি শেষ হয়েছে। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় মহা তাঁবুজলসা এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড. জাহিদ মালেক এমপি। 

স্কাউটস এর প্রধান জাতীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। 

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কাব স্কাউটরা স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দে দলীয় ও নিজস্ব ধ্যান ধারণায় চিত্তবিনোদনের জন্য তাদের উপস্থাপনা পরিবেশন করে।

সকালে ক্যাম্পুরির সফলতা নিয়ে ক্যাম্পুরি মিডিয়া সেন্টার সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। ক্যাম্পুরি আয়োজকদের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য প্রদান করেন ডেপুটি ক্যাম্পুরি চীফ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি ক্যাম্পুরি চীফ (পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা) মো. মাহমুদুল হক, ডেপুটি ক্যাম্পুরি চীফ (সাইট অপারেশন ব্যবস্থাপনা) ফেরদৌস আহমেদ, ডেপুটি ক্যাম্পুরি চীফ (প্রোগ্রাম) মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন, সমন্বয়কারী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, মো. শাফাযেতুল ইসলাম খান, মীর মোহাম্মদ ফারুক, খান মো. পীর এ আযম (আকমল), যুগ্ম সমন্বয়কারী, পরিবহন ও যোগাযোগ, মশিউর রহমান,  প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী, আমির সাদ বিন শামস।

সকাল থেকে কুয়াকাটা ভিলেজের কাব স্কাউটরা এসডিভি (সাসটেইনবল ডেভেলপমেন্ট ভিলেজ)-এ অংশগ্রহণ করে এসডিজি’র ১৭ টি গোল সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পায়। পাশাপাশি কাব স্কাউটরা এই স্বপ্নে  নিজ দেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, জলবায়ু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, তথ্য প্রযুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের বায়োস্কোপ, নাগরদোলা, পুতুল নাচ দেখে ও চড়ে নির্মল আনন্দ লাভ করে।

সুন্দরবন ভিলেজের কাব স্কাউটরা আকর্ষণীয় ফান ফ্যাক্টরিতে অংশগ্রহণ করে। এখানে তৈজসপত্র তৈরি দেখে শেখে, মাটির মডেল তৈরি, বাই সাইকেল মেরামত, পাযল মেলানো, দোভাষী, ক্যানভাসে নিজের ইচ্ছামত চিত্র অংকন করে, দড়ির কাজ ও হস্তলিপির কাজ করে। 

কক্সবাজার ভিলেজের অংশগ্রহণকারী কাব স্কাউটরা অজানাকে জানার, দেখার, রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় এক অভিযাত্রা যা কাবদের কাছে ‘কাব অভিযান’ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। এবারের কাব অভিযানে কাবদের বিশেষভাবে  প্রস্তুত করা একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অজানা পথে ট্রেইলের সাহায্যে কাব স্কাউটরা তাদের ঠিকানা খুঁজে পায়।

শ্রীমঙ্গল ভিলেজের কাব স্কাউটরা আর্কষণীয়  বৈচিত্রময় ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্থান ফ্যান্টাসি কিংডম ভ্রমণে যায়। অংশগ্রহণকারীরা ফ্যান্টাসির বিভিন্ন রাইড দেখে এবং তাদের পছন্দের রাইডে চড়ে আনন্দ লাভ করে। বিশেষ করে ঢাকার বাহিরের অনেক ছেলে-মেয়ে তাদের জীবনে এই প্রথম ফ্যান্টাসি দেখার এবং রাইড চড়ার অভিজ্ঞতা লাভ করলো।

‘কাবিং করবো, শান্তির বার্তা আনবো’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গাজীপুরের মৌচাকে ১৯ জানুয়ারি নবম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরি শুরু হয়। কাব স্কাউটদের এই বৃহত্তম মিলনমেলায় সারাদেশ থেকে আসা ৮৮৮টি প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৩২৮ জন কাব স্কাউট, ৮৮৮ জন কাব স্কাউট লিডার, ৫৪৩ জন কর্মকর্তা, ৫১৯ জন স্বেচ্ছাসেবক রোভার স্কাউট, ৭৯জন সাপোর্ট স্টাফ, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, আনসার, বাবুর্চিসহ প্রায় নয় হাজার অংশগ্রহণকারী এই ক্যাম্পুরিতে যোগ দেন। এছাড়াও ক্যাম্পুরিতে অভিভাবক দিবস, টপ অ্যাচিভার্স ও উডব্যাজ রিইউনিয়নে স্কাউটার, রোভার স্কাউট, স্কাউট, কাব স্কাউট ও স্কাউট শুভানুধ্যায়ী অংশগ্রহণ করেন। 

ক্যাম্পুরির চীফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটস এর প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. আলমগীর।  এর আগে ২০ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি ও চীফ স্কাউট মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে নবম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরি উদ্বোধন করেন। 

এছাড়াও সুন্দরবন ও কুয়াকাটা ভিলেজের কাব স্কাউটরা গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বন্ধু গড়ি স্বপ্নে অংশগ্রহণ করে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে কাব স্কাউটরা একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি, পারস্পরিক পরিচয় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পায়। এই স্বপ্নে একটি কাবদলকে ছয়টি গ্রুপের ৬টি ছবি দেয়া হয়। গ্রুপগুলি হলো, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, জেব্রা, নেকড়ে, হরিণ, জিরাফ অথবা টিয়া, ময়না, দোয়েল, কোয়েল, বক, শালিক। 

বন্ধুত্ব তৈরির জন্য প্রত্যেক কাব সদস্য তার প্রাপ্ত ছবি উল্লেখিত গ্রুপের মধ্যে কোন গ্রুপের ছবি তা নির্ধারণ করে সে গ্রুপের অপরাপর ছবি প্রাপ্ত কাব স্কাউটদের খুঁজে  গ্রুপ তৈরি করে বন্ধুত্ব তৈরি করে। 

৬ জনের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরির পর ছবির পেছনে ও ক্যাম্পুরি গাইড বইয়ে ছয়জন বন্ধুর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর/মোবাইল নম্বর লিখে বন্ধুত্বের স্মৃতি ধরে রাখার সুযোগ পায়। বিকেল ৪ টায় এসডিভি’র সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে