Alexa রহস্যময় ববিতা, গোসল ছাড়াই কাটিয়ে দিলেন ৩০ বছর 

রহস্যময় ববিতা, গোসল ছাড়াই কাটিয়ে দিলেন ৩০ বছর 

এবিএম আতিকুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫৫ ২১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৫:১০ ২১ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

দাঁত নেই, তবুও মুচকি হাসিতে ববিতাকে মন্দ লাগে না। কিন্তু কি যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে। তার এ কান্না-হাসিতে বড়ই রহস্যময়। এলাকায় সে ববিতা পাগলনি নামেই পরিচিত।

চলচ্চিত্রের ববিতার মতো দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা না থাকলেও এই ববিতার জনপ্রিয়তা রয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে। বাবা মা’র দেয়া নাম কি! এই ববিতা নামই বা কে দিয়েছে, তার সঠিক তথ্য কেউ জানে না। প্রায় ৩০ বছর ধরে উপজেলার কলেজ মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ডে তাকে দিন রাত ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

তার প্রকৃত বয়স কত, কোথা থেকে এসেছে, বাড়ি কোথায় তা সবার অজানা। ৩০ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে। রাতের বেলায় ঘুমানোর জন্য সে বেছে নিয়েছে নির্মাণ সংগঠনের (এনজিও) বারান্দা। ববিতা সবার অতি পরিচিত মুখ। দিন মজুর, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তি সবাই ববিতাকে আদর করে নাম ধরেই ডাকেন। কখনো ডাকে সাড়া দেয় আবার কখনো দেয় না।

সবার দেয়া খাবারও সে খায়না। আবার যাকে ভালো লাগবে তার কাছ থেকে এটা ওটা চেয়ে খায়। খাবার হোটেলগুলোতে তার জন্য সব সময় দরজা খোলা থাকে। কখনো খাবার খেতে গেলে কি যে আদর আপ্যায়ন তা আর বলে শেষ করা যায় না। কারো সঙ্গে কথা তেমন একটা বলেন না ববিতা। যদিও দু’ একটা বলে তা বোঝা যায় না। তবে কি যেন মনে করে ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে আবার পরক্ষণেই হাসে।

সড়কের দু’ধারের দোকানদাররা ববিতাকে অনেক ভালোবাসে। কারো দোকানে গেলে দোকান মালিক তার চেয়ার ছেড়ে দেয় বসার জন্য। যতক্ষণ মন চায় দোকানে বসে থাকে। এর ভেতরে চলে আপ্যায়ন। চা এবং পান এ দুটোই সে বেশি ভালোবাসে। সবাই বলে ববিতা যেদিন দোকানে আসে তাদের বিক্রি নাকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

তাকে সব সময় দেখেন এবং জানেন স্থানীয় মোহাম্মদ আলী জানান, ৩০ বছর ধরে সে এই এলাকায় আছে। কোনো দিন তাকে গোসল করতে দেখিনি। অথচ তার কাছে গিয়ে বসলে শরীর থেকে কোনো গন্ধ আসেনা। সে কোনো দিন অসুস্থও হয় না। ত্রিশ বছর আগে তার শারীরিক অবস্থা যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমনি আছে।

কলেজ মোড় এলাকার জেমি ফার্মেসির মালিক জামাল হোসেন বলেন, তার ভেতরে মনে হয় অলৌকিক কিছু আছে। আমার দোকানের কর্মচারী একদিন চুরি করেছিল যা আমি নিজেও জানতাম না। কোথা থেকে যেন ববিতা এসে সেই কর্মচারীকে জুতা দিয়ে পিটানো শুরু করলো। পরে চুরির বিষয়টি জানতে পারি। 

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম (লেবু) বলেন, প্রায় ত্রিশ বছর ধরে আমি তাকে এ এলাকায় দেখে আসছি। তার ভেতরে অলৌকিক কিছু থাকতে পারে। দোকানদাররা আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাকে দোকানে বসায় এবং সেবাযত্ম করেন। আবার সবার দেয়া খাবার সে খায় না যাকে ভালো লাগে তার কাছ থেকে চেয়ে খায়। কখনো কারোও ক্ষতি করেছে এমনটাও জানা নেই কারো। এক কথায় তাকে ঘিরে এক বিরাট রহস্যর তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন অনেক লোকজন আসছে তাকে এক নজর দেখার জন্য।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ