Alexa কাগজে-কলমে চাহিদা মেটালেও পানিতে হাহাকার

কাগজে-কলমে চাহিদা মেটালেও পানিতে হাহাকার

দেলোয়ার মহিন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৩ ২১ মে ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গ্রীষ্মের শুরু থেকেই রাজধানীজুড়ে চলছে তীব্র পানির সংকট। বিশেষ করে রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় পানির জন্য চলছে হাহাকার। কোনো কোনো এলাকায় দিনে একবার পানি আসে। এরপরও যে পানি পাওয়া যায় তা দুর্গন্ধযুক্ত এবং নোংরা। প্রচণ্ড এই গরমে পানির অভাব নগরবাসীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংকট সমাধানে ঢাকা ওয়াসার দায়সারা দায়িত্ব পালন ও অবহেলাকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ারও তাগিদ দিয়েছেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কচুক্ষেত, উত্তর কাফরুল, দক্ষিণ কাফরুল, দারুস সালাম রোড, শ্যামলী, মিরপুর ১৩-এর সি ব্লকের ১ নম্বর রোড, মিরপুর ১৪, রূপনগর আবাসিক এলাকা, উত্তর ও দক্ষিণ ইব্রাহীমপুর, ইব্রাহীমপুর বাজার, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, গেন্ডারিয়া, পুরান ঢাকার সুত্রাপুরের রেবতি মোহন দাস লেন, লক্ষ্মীবাজার নাজিমুদ্দিন রোড, চকবাজার, ইমামগঞ্জ, পাতলা খান লেন, আগামসি লেন, আরমানিটোলা, বংশালের সিদ্দিক বাজার, বিআরটিসি বাস ডিপো, কাপ্তানবাজার, নাজিরাবাজার, চাঁনখারপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও পানির তীব্র সংকট আবার কোথাও পানিতে ময়লা-দুর্গন্ধ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে কোনো কোনো এলাকায় একমাস পর্যন্ত পানি নেই। আবার কোনো এলাকায় ওয়াসার পাইপে পানি আসলেও তা ব্যবহার অনুপযোগী।

তবে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দাবি রাজধানীবাসির চাহিদা মোতাবেক প্রতিদিন ২৫৫ থেকে ২৫৬ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করে সঙ্গে সঙ্গে তা বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে ওয়াসার একটি সূত্র জানায়, পানি সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। প্রতি মিনিটে চাহিদার প্রায় তিন হাজার লিটারের বিপরীতে পানি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ হাজার লিটার। তবে বৃষ্টি হলে এ সংকট কিছুটা কেটে যায় দাবি করেছে ওয়াসা। 

পানি ময়লা-দূর্গন্ধ হওয়ার বিষয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেয়ার সময় পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে লিকেজ হওয়া পাইপ লাইন দিয়ে ময়লা ভেতরে প্রবেশ করে। এতে ওয়াসার পানি ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 
 
সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতার করেন ঢাকার কোটি মানুষ। অনেক স্থানে ওয়াসার পানি মিললেও দুর্গন্ধের কারণে তা ব্যবহার করতে পারছেন না বাসিন্দারা। আবার অনেক এলাকায় পানি না পাওয়ায় ওয়াসার গাড়ি থেকে কিনতে হচ্ছে পানি। আর এটি না পেলে বাজারের বোতলজাত পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কিন্তু জারের ওই পানি নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। বেশির ভাগই বিএসটিআই এর মান নিশ্চিত করছে না। 

পানি নিয়ে মিরপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওয়াসার গন্ধ পানি পান করা তো দূরের কথা এটা দিয়ে অন্যান্য কাজ করাও কঠিন। মিরপুর ১ এর কল্যাণপুর, শ্যামলী, মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় প্রায় তিন মাস ধরে একই চিত্র। অতিরিক্ত পানির মোটর লাগিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। 

এই বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম শহীদউদ্দিন জানান, গরমের মাত্রাটা অনেক বেশি। ফলে পাম্পের ওপর চাপ বেড়েছে। এতে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এটা ইচ্ছা করে করা হয় না। 

তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে আরো বলেন, কিছু জায়গায় পানির ঘাটতি থাকতে পারে তার কারণ হলো কেউ কেউ বিভিন্ন লাইন লিকেজ করে অবৈধ সংযোগ নেয়। আর একটা সংযোগ নিতে গিয়ে একাধিক লাইন নষ্ট করে রাখে। যেসব এলাকায় সংকটের কথা আমরা জানতে পারছি, সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা নিচ্ছি। 

দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত পানি পান করায় ডায়রিয়াসহ নানাবিধ পেটের পীড়ায় ভুগছেন নগরবাসী। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। রমজানে মানুষের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে, এমনটাই আশা নগরবাসীর।

ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/এস/এসআই

Best Electronics

Best Electronics