Alexa কাকতাড়ুুুয়ার মাথায় মানুষের খুলি!

কাকতাড়ুুুয়ার মাথায় মানুষের খুলি!

আহনাফ তাহমিদ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৬ ১৪ মে ২০১৯   আপডেট: ১১:৩০ ১৪ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কাকতাড়ুয়া দেখেও অনেকের মাঝেসাঝে পিলে চমকাতে পারে। অবাঞ্ছিত পশুর হাত থেকে কৃষকের ফসল রক্ষা থেকে শুরু করে দুষ্টু ছেলের দল তাড়াতে কাকতাড়ুয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার পপুলার কালচারে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে কিংবা ভৌতিক বইতেও উঠে এসেছে কাকতাড়ুয়া নিয়ে নানা গল্প ও আখ্যান। আজকের দিনে কাকতাড়ুয়ার একটি নিজস্ব ছাঁচে গড়া রূপ দেখতে পেলেও একটা সময় ছিল যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ায় কাকতাড়ুয়া দেখলে মানুষ ত্রিসীমানায় ঘেঁষতেও সাহস পেতনা। এদের আদল গড়ে তোলা হতো একেবারে মানুষের মতো করে। হঠাত করে দেখলে ফসলের ক্ষেতে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে কি-না, তা ভাবতে ভুলই হতো বৈকি! 

১৯৫৩ সালের কথা। ওয়ার্লেসের লেগেইনে কিছু শ্রমিক ফসলের মাঠে কাজ করছে। সেখান থেকে যত নোংরা ময়লা আবর্জনা পাওয়া যাচ্ছে, তা তুলে নিয়ে ফেলে দিচ্ছে অগ্নিকুণ্ডে। আবর্জনা ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাত একজন শ্রমিক একটি কাকতাড়ুয়াকে দেখতে পেল মাঠের মাঝে। সেটাকে তুলে নিয়ে ফেলে দেয়া হলো অগ্নিকুণ্ডে। 
কাজ শেষ। শ্রমিকেরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া জিনিসগুলো দেখছে। হঠাত করে তারা দেখতে পেল কাকতাড়ুয়া বলে যেটিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছিল, সেটির থেকে মানুষের হাড়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ছুটে যাওয়া হলো আবার সেখানে, যেখান থেকে পাওয়া গিয়েছিল কাকতাড়ুয়াটি। অবিশ্বাস্য ব্যাপার! একটি মানুষের মাথার খুলি ও নকল একসেট দাঁত পাওয়া গেল অকুস্থলে। আগুন থেকে উদ্ধার করার জন্য ছুটে যাওয়া হলো কাকতাড়ুয়া ভেবে ভুল করা মানুষটিকে। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ মাথার খুলি থেকে আবিষ্কার করে হতভাগ্যের নাম ছিল এথেল উইনিফ্রিড কলিনস, বয়স ৬৬। বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। 

নারীসদৃশ কাকতাড়ুয়া খুব কমই তৈরি করা হতো। তবে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নারী আদলে বেশ ভয়ঙ্কর কিছু কাকতাড়ুয়া তৈরি করা হয়। যেমন, ১৯০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পত্রিকায় চাঞ্চল্যকর একটি আর্টিকেল ছাপানো হয়। ইউজিন প্লোযি নামক এক হাঙ্গেরীয় কৃষক এতটাই কঞ্জুস ছিল যে সে তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর মৃতদেহ সৎকারের ঝক্কিতে আর যায়নি। মৃতা স্ত্রীর দেহ কাকতাড়ুয়া হিসেবে ফসলের ক্ষেতে ঝুলিয়ে রেখে দেয়। 

১৯১০ সালের আমস্টারডামের এক কাহিনী। এখানেও একজন কৃষকের গল্প। স্ত্রীকে সে ভালোবাসত ঠিকই, কিন্তু ফসলের চেয়ে বেশি নয়। তাই স্ত্রীর মৃত্যুর পর দেহটিকে সৎকার না করে ফসলের ক্ষেতে রেখে দিয়ে আসে কাকতাড়ুয়াদের ভয় দেখানোর জন্য। প্রতিবেশীরা প্রথমে কাকতাড়ুয়াটি দেখে ভয় পায়। পরবর্তীতে সেটির শরীর থেকে মাংস পচা গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয় তাদের। খবর দেয় পুলিশকে। পুলিশ এসে অনুসন্ধান করার পর জানা যায় সেটি এক নারীর লাশ! 

ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে অস্ট্রেলিয়াতে গাছের ওপর থেকে কাকতাড়ুয়ারুপী মানুষের লাশ ঝুলতে দেখা যেত। ঘটনাটি ১৯২৪ সালের। নিউ সাউথ ওয়েলসের স্মিথফিল্ডে এক রাখাল তার ভেড়ার পাল চড়াতে গিয়েছে। হঠাত করে সে দেখল ডুমুর গাছের ওপর থেকে একটি লাশ ঝুলছে। প্রথমে সে মনে করে এটি হয়ত কাকতাড়ুয়া। অবাঞ্ছিত পাখিদের হাত থেকে ফলকে রক্ষা করার জন্য মালিক এমন ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বালকের মনে পড়ে সন্দেহ হয়। সে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পায় সেটি আদতে একটি লাশ। ভয় পেয়ে বাবাকে খবর দেয় সে। বুদ্ধিমান বাবা সাথে সাথে খবর দিলেন পুলিশকে। পরবর্তীতে জানা যায় লাশটির পরিচয়। হতভাগ্যের নাম চার্লস ভ্যালেন্তিনো ল্যাম্ব, বয়স ৫৪। 

১৯৩৫ সালের দিকে কিছু বালক পুলিশের কাছে রিপোর্ট করে, কুইন্সল্যান্ডের ক্লোনটার্ফ নামক স্থান থেকে ডুমুর গাছে লটকে থাকা কিছু লাশ দেখা গিয়েছে। এর কিছুদিন পর আত্মহত্যা করা মানুষগুলো যেন ঝুলে পড়ার জন্য ডুমুর গাছকেই বেছে নিলো। পুলিশের আরো কাজ বাড়তে শুরু করল। লাশগুলো জমা করে নিয়ে যাওয়া হলো মর্গে। এবার কাকতাড়ুয়া নিয়ে আরো একটি গল্প শোনা যাক। ১৯০৯ সালের এক রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুরে মাউদ হিউফন্যাগল ও তার বন্ধু পেনিসিলভানিয়ার একটি চার্চে যাচ্ছিল। দু’দিন সে বন্ধুর সাথেই তার বাড়িতে অবস্থান করছিল। সেদিন মাউদ নিজের বাড়ি পৌছেই রওয়ানা দেয় চার্চের দিকে। হঠাত মাউদ জমিনে কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখল। 

‘দেখো! কেউ একজন আব্বার কাকতাড়ুয়াটাকে মাটিতে ফেলে দিয়েছে!’ মাউদ তার বন্ধুকে একথা বলতে বলতেই সামনে এগিয়ে গেল কাকতাড়ুয়াটিকে উঠিয়ে ঠিক করে রাখতে। যখনই সামনে সে পৌঁছল, একটি চিৎকার দিয়ে মুর্ছা গেল। মাউদের বন্ধু কাছে গিয়ে দেখল সেটি আদতে কোনো কাকতাড়ুয়া নয়। মাউদের বাবার গলতে থাকা লাশ! পুলিশ এলো। তদন্তে উঠে এলো চার্লসের মৃত্যু অন্তত দু’দিন আগে হয়েছে। আক্রমণকারী ও তার সাথে বেশ একচোট হাতাহাতিও হয়েছিল। বুড়ো চার্লসের পেরে ওঠেনি আক্রমণকারীর সাথে। মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে সে। সমস্ত টাকাপয়সা ও জমিনের কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডাকাতের হাতে নৃশংসতার শিকার হয়েছিল বেচারা। পুরো দেশের সংবাদপত্রে ছড়িয়ে পড়ে চার্লসের মৃত্যুর খবর। 

(সূত্রঃ লিস্টভার্স.কম) 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics
শিরোনামকুমিল্লার বাগমারায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৫ শিরোনামবন্যায় কৃষিখাতে ২শ’ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে না: কৃষিমন্ত্রী শিরোনামচামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশ শিরোনামচামড়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শিরোনামডেঙ্গু: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর শিরোনামডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দুপুরে আদালতে উপস্থাপন শিরোনামডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শিরোনামইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, দুই শিশুসহ নিহত ৭ শিরোনামআফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩