Alexa কাঁচের বোতলে বন্দী যে খুনীর মাথা

কাঁচের বোতলে বন্দী যে খুনীর মাথা

মেহেদী হাসান শান্ত  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৭ ২৩ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৬:১৯ ২৩ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

‘ডিওগো আলভেস’ নামটি হয়তো অনেকের কাছেই অপরিচিত! পর্তুগালের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সিরিয়াল কিলার তিনি। শুধুমাত্র এ পরিচয় দিয়ে তার নৃশংস চরিত্রের পুরোটা ফুটিয়ে তোলা যাবেনা। আলভেসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৭৭ বছর পর আজো সে পৃথিবীর মানুষের মনে ত্রাসের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে! লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদে তার কাটা মুণ্ডুটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এক কাঁচের জারের ভেতরে। নিথর সেই মুণ্ডুটি আজো যেকোনো দর্শনার্থীর মেরুদণ্ডে হিমেল স্রোত বইয়ে দিতে বাধ্য। কিন্তু কি ছিলো আলভেসের অপরাধ? কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে একজন মানুষ, যার কারণে তার এতটা নির্মম শাস্তি হতে পারে? সে গল্পই তবে আজ জেনে নিন- 

ডিওগো আলভেসের জন্ম পর্তুগালের গ্যালিসিয়া শহরে ১৮১০ সালে। কিশোর বয়সেই সে পাড়ি জমায় পর্তুগালের রাজধানী শহর লিসবনে। সেখানের বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত পরিবারে চাকর হিসেবে অনেক বছর কাজ করে ডিওগো। কিন্তু চাকরের সামান্য মাইনেতে পোষাচ্ছিলো না তার। শীঘ্রই সে বুঝতে পারে, অপরাধ জগতে নামতে পারলে এর থেকে ঢের বেশি মুনাফা করা যাবে। সেই থেকেই বিগড়ে যাওয়া শুরু তার। ২৬ বছর বয়সে শহর ছেড়ে শহরতলীতে চলে আসে সে, আগুয়াস লিভ্রেস নামের জলপ্রণালী বা নালার কাছে এসে আশ্রয় নেয়। সেখানকার বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতে থাকে। আগুয়াস লিভ্রেস হলো বিশাল এক জলপথ, যা দিয়ে পর্তুগালের বড় বড় নদীগুলোতে পানির সঞ্চার হয়। পাশাপাশি সেখানে স্থাপত্যকলার অনিন্দ্য সুন্দর নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে একটি সুবিশাল সেতু এবং বড় একটি সড়ক পথ। কৃষক এবং বণিকদের মধ্যে যারাই ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য রাজধানীতে যেতে চাইত, তাদেরই এই পথ ব্যবহার করতে হতো। আলভেসও তাই তার হত্যার লীলাখেলার জন্য এ পথকে বেছে নেয়। 

ব্রীজের আড়ালে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকতো মৃত্যুদূত ডিওগো আলভেস। যখন কোনো কৃষক বা ব্যবসায়ীকে সওদা করে ফিরতে দেখত, সুযোগ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়ত তার উপর। নিরস্ত্র পথিকের সর্বস্ব কেড়ে নিতো সে, তারপর ২১৩ ফুট উঁচু ব্রীজ থেকে নালায় ফেলে দিতো হতভাগা ভুক্তভোগীকে। তিন বছর ধরে এ নৃশংসতা অব্যাহত রাখে ডিওগো আলভেস। এই তিন বছরে মোট ৭০ জনকে হত্যা করে নালায় ফেলে দেয় সে। ঘটনার তাৎক্ষণিক কোনো সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। তারা ভেবেছিলো সবাই বুঝি আত্মহত্যার জন্য বেছে নিচ্ছে ব্রীজটিকে। তাই এর কোনো সমাধান না পেয়ে তারা ব্রীজটিকে বন্ধ করে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সমর্থ হয়ে আরো সাহস পেয়ে যায় ডিওগো, একটি ডাকাত দল গঠন করে সে। তারপর সেই দূর্ধর্ষ দল নিয়ে যেসব ধনী ও সম্ভ্রান্ত বাড়িতে সে কাজ করত সেসব বাড়িতে ডাকাতি, লুটতরাজ ও হত্যাকাণ্ড চালায়। কিন্তু নতুন এ পরিকল্পনায় সে বেশি সুবিধা করতে পারলনা, ধরা পরে গেলো পুলিশের কাছে। স্থানীয় এক ডাক্তারের বাড়িতে চার জনকে হত্যা চেষ্টার সময় ধরা পরে ডিওগো আলভেস ও তার ডাকাত দল। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে হলো তাকে। 

ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো কুখ্যাত খুনি ডিওগো আলভেসের। কিন্তু এখানেই তার অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো না। ওই সময়টাতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিপ্লব চলছিলো, মানুষের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার মস্তিষ্কের সংযোগ কোথায়, এ নিয়ে গবেষণা হচ্ছিলো বিস্তর। তার মৃত্যুর পর লিসবনের ডাক্তাররা আবেদন করলেন, আলভেসের মুণ্ডুটা যেন তাদের দেয়া হয়, গবেষণার জন্য। সেই থেকে একটি কাঁচের জারে প্রিজারভেটিভের মধ্যে মুণ্ডুটি আজো সংরক্ষিত হচ্ছে এবং পৃথিবীর লোকদের দিচ্ছে একটি বার্তা- কুকর্মের ফলাফল কতটা ভয়ানক হতে পারে! 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস    

Best Electronics
Best Electronics