Alexa কললিস্ট আর জুতার ছাপ ধরে চলছে তদন্ত

স্ট্যামফোর্ডের রুম্পা ‘মার্ডার’

কললিস্ট আর জুতার ছাপ ধরে চলছে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:০৯ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার (২০) মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট আর ১১ তলা ছাদ থেকে পাওয়া জুতার ছাপ ধরে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ধারের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা রুম্পাকে ভবন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত সে ব্যাপারে নিহতের পরিবার এখনো কাউকে সন্দেহ করতে পারছেন না।

যদিও রুম্পার পরিবারের দাবি, সে(রুম্পা) কখনোই আত্মহত্যা করতে পারে না। তার মা বলেছেন, রুম্পা যদি আত্মহত্যাই করতো তাহলে সে বাসাতেই করতে পারতো। অন্যদিকে তার বাবা বলেছেন, যে ভবন দুটির মাঝখান থেকে রুম্পার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ওই ভবনের একটিতে স্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির কিছু ছাত্র থাকতো। ঘটনার পরে তাদেরকে আর ওই ভবনে দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে ওই ভবন দুটির একটি আয়েশা কমপ্লেক্স এর ১১তলা ছাদের কার্নিশে এক জোড়া জুতার ছাপ পেয়েছে পুলিশ। সিআইডি টিম ওই ছাপ ও জুতা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে।

অপরদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহত রুম্পার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক এর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, নিহত রুম্পার হাত, পা ও কোমরসহ শরীরের কয়েক জায়গায় ভাঙা ছিল। ভবন থেকে পড়ে মারা যাওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি-না, তা জানতে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রুম্পা রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় রুম্পা দু’টি টিউশনি শেষে বাসায় ফেরেন। এরপর একটু কাজ আছে বলে তিনি বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে নিচে নেমে নিজের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও জুতা অন্য একজনকে দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর রুম্পা রাতে আর বাসায় ফেরেননি। বুধবার রাতে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে দুই বাড়ির মাঝখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে রমনা থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এরপর রুম্পাকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করে।

অপরদিকে রুম্পার পরিবার তার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। একপর্যায়ে রমনা থানায় গিয়ে উদ্ধারকৃত তরুণীর ছবি দেখে রুম্পাকে তার মা সনাক্ত করেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই ঢামেক মর্গে গিয়ে নিশ্চিত হন তার পরিবার। রুম্পা মালিবাগের শান্তিবাগে তার মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জে পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কমর্রত। আর তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার ময়মনসিংহের বাড়িতে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানেই তার লাশ দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রুম্পার মৃত্যু নিয়ে রহস্য থাকলেও খুব শিগগিরই তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এজন্য রুম্পার মোবাইলের কললিস্ট চেক করা হচ্ছে। এর মাধ্যমেই আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত করা হয়েছে। রুম্পা বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তাকে কে কে ফোন করেছিল এবং কেন দিয়েছিল, সেসব বিষয় এখন তদন্ত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রেমঘটিত বিষয়কেও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর রুম্পা বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। তিনি নিজের মোবাইল ফোনটিও সঙ্গে নেননি। রুম্পার মৃত্যুর বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি। তবে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই রহস্য উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/এসআই