করোনা: ১২৫ অস্বচ্ছল পরিবারের দায়িত্ব নিলো নয় তরুণী  

করোনা: ১২৫ অস্বচ্ছল পরিবারের দায়িত্ব নিলো নয় তরুণী  

শফিকুল ইসলাম, ববি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২৯ ১৮ মে ২০২০   আপডেট: ১৯:৩৬ ১৮ মে ২০২০

অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ৫ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেন

অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ৫ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেন

স্কুল-কলেজে একসঙ্গে পড়েছেন। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তারা নয়জন। করোনা সংকটে দুস্থ, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে গড়ে তুলেছেন ‘সহচরী’ নামে অনলাইন ভিত্তিক প্লাটফর্ম। 

তারা হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকি হায়দার আশা, মাহেরা বিনতে রফিক, পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী সুচনা, অনন্যা মুখার্জি, পুজা সাহা, তানজিলা বিশ্বাস মুনিয়া ও তাহরীম মিম এবং শহীদ সোহরাওয়ারর্দী মেডিকেল কলেজের তাজমিম নুর তুষা। 

ব্যক্তিগত আর্থায়নের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন তারা। একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও আছে অর্থ সংগ্রহের জন্য।

‘দাঁড়কাক’ নামে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে সহচরীর অন্যতম উদ্যোক্তা ফারজানা ফেরদৌসের। এই প্রতিষ্ঠানের বিক্রিত পণ্যের লভ্যাংশ সহচরীর ফান্ডে দিচ্ছেন তিনি।  

ফারজানা ফেরদৌস বলেন, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা কখনোই আমরা অস্বীকার করতে পারি না। প্রথমদিকে আমরা মধ্যবিত্ত  পরিবারগুলোর খোঁজ করেছিলাম। যারা অসহায় হয়েও মুখ ফুটে বলতে পারছে না, এমন কিছু পরিবার এবং সেই সঙ্গে বেশ কিছু নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের খোঁজ পাই। ১২৫টি পরিবারকে সহায়তা করেছি। এক দফায় সাহায্য শেষ হলে প্রয়োজন অনুসারে আবার তাদের সাহায্য করা হয়। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় আমরা প্রয়োজনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে উপহার সামগ্রী দিয়ে থাকি।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহেরা বিনতে রফিক জানান, এই সময়টা আমাদের অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। সবার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শিখিয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই আমরা যারা হয়তো কাজ বা পড়াশোনার জন্যে আমাদের শহরটা থেকে বাইরে ছিলাম, লকডাউনে নিজেদের ঘরে ফিরে এসে আশেপাশের মানুষদের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। সবকিছুর পরেও মানুষ তো মানুষের জন্যেই। সেজন্য স্কুল কলেজের পুরনো বান্ধবীরা আবার এতদিন পর একত্র হয়ে একটা প্রচেষ্টা গড়ে তোলার নাম ‘সহচরী’। 

পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী সূচনা জানান, আমরা সহচরীর সদস্যরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এতোদিন পাশে ছিলেন। আমরা ৫ম বারের মত অর্থ সংগ্রহ করছি।

সহচরীর সহযোগিতায় চাল, ডাল, তেল, লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। বরিশালের অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ৫ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেন। নগরীর জিয়া সড়ক, শেরে বাংলা সড়ক, কাউনিয়া, কালিবাড়ি রোড, ফকিরবাড়ি রোড, হাসপাতাল রোড, নতুনবাজার, আমনতগঞ্জ, রহমতপুর, কাশীপুরের ১২৫ পরিবারকে সহায়তা করে সহচরী। সামনেও পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম