করোনা সংকটে বিএনপিকে কাছে পায়নি হাতিয়ার মানুষ

করোনা সংকটে বিএনপিকে কাছে পায়নি হাতিয়ার মানুষ

মোহাম্মদ  সোহেল, নোয়াখালী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৬ ২ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৯ ২ জুন ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সারাদেশের মতো নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় দেখা দিয়েছে নানা সংকট। এ সংকট নিরসনে হাতিয়া দ্বীপের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে কর্মহীন ও দুস্থ-অসহায়দের জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছে।

পাশাপাশি ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ, বেসরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসলেও  স্থানীয় বিএনপিকে কাছে পায়নি দ্বীপের অসহায় মানুষ।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা মহাসংকটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী এবং তার সহধর্মিনী বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস দ্বীপবাসীর জন্য সরকারি বরাদ্দের বাইরে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার পরিবারের মাঝে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ত্রিশ লাখ টাকা বিতরণ শুরু করেন। এরইমধ্যে ওই বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি বিতরণ শেষ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই প্রশাসনের পাশাপশি দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্বীপ বন্ধু মোহাম্মদ আলী এবং তার দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

জীবনের মায়া ত্যাগ করে মহামারি করোনার ঝুঁকি তোয়াক্কা না করে হাতিয়াবাসীর খেদমতে মাঠে-ময়দানে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী। তার নির্দেশে করোনায় খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ বিতরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী, সচেতনতামূলক মাইকিং, হাসপাতাল-মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ ছিঁটিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

দেশের এ সংকটকালে সকল ভেদাভেদ ভুলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলো মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে। অথচ স্থানীয় বিএনপি নেতা তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের পক্ষ থেকে কর্মহীন ও দুস্থ-অসহায় মানুষের মধ্যে কোন ত্রাণ বিতরণ অথবা তাদের খোঁজ-খবর না নেয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নিজ দলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক খোকন করোনা সংকটে তার দলের পক্ষ থেকে কর্মহীন ও দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ না করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এলাকা ভিত্তিক প্রায় ৩ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এছাড়া তার (ফজলুল আজিম) পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে বিতরণ করেছেন। বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আবুল কালামও একই কথা জানান। 

হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত সওকত জানান, সংকটময় এ সময়ে রাজনৈতিক হিসাব না করে সাবেক এমপি প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের কর্মহীন ও দুস্থ-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিলো। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা আমাদের এবং দলের নেতাদের ব্যর্থতা।

উপজেলার তৃণমূলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাতিয়ার বিএনপি এখন ঢাকার বিএনপি। সভাপতি, সহ সভাপতি, সেক্রেটারি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর অধিকাংশ নেতাই হাতিয়ায় থাকেন না। মন চাইলে দুই-দেড় বছরে একবার হাতিয়ায় আসেন।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএএম/এস