করোনা রোগী তল্লাশির নামে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

করোনা রোগী তল্লাশির নামে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫২ ৩০ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৯:০৮ ৩০ মার্চ ২০২০

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

জামালপুরে পুলিশ পরিচয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে পাঁচ যুবক। একইসঙ্গে ওই কিশোরীর বাবার গলায় ছুরি ধরে মাকে মারধর করে তারা।

শনিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার মেষ্টা ইউপির জালালের চররুহিলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে ঝিনাই নদীর পাড়ের কাছে একটি ঝোপ থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

গুরুতর অবস্থায় ওইদিন দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

এ ঘটনায় ধর্ষক রাশেদুল ইসলাম পোষণ, মিজানসহ অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। পরে মিজানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, শনিবার গভীর রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলা হয়। তারা করোনাভাইরাসের রোগী খুঁজতে এসেছেন বলে জানান। বাড়িতে করোনা রোগী নেই বললেও তারা তল্লাশির নামে দরজা খোলান।

তিনি বলেন, দরজা খুলেই পাঁচ-ছয়জন যুবক দেখি। এর মধ্যে আবু বক্করের ছেলে পোষণ ও তার বন্ধু টগারচরের মিজানকে চিনতে পারি। তারা পানি খেতে চায়। আমার মেয়ে পানি এনে দিলে তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। বাধা দিলে আমার গলায় ধারালো ছুরি ধরে। স্ত্রী আটকাতে গেলে তাকেও মারধর করে তারা। মেয়েটিকে তারা তুলে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর বাবা আরো বলেন, আমাদের চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। সকালে মেয়েকে ঝিনাই নদীর পাড়ে একটি ঝোপে পড়ে থাকতে দেখে খবর দেয় স্থানীয়রা। মেয়েটিকে উদ্ধারের পর দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

জামালপুরের এসপি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের এই দুঃসময়ে পুলিশ পরিচয়ে করোনা রোগী তল্লাশির নামে অনেক বড় অপরাধ করছে অপরাধীরা। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর