করোনা মোকাবিলায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী শামসুলের অনন্য উদ্যোগ

করোনা মোকাবিলায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী শামসুলের অনন্য উদ্যোগ

শেখ আব্দুর রহিম, বশেমুরবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৬ ২৬ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৫:৩১ ২৬ মার্চ ২০২০

তারা বুধবার সকালে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা ভবন থেকে পাঁচকাহনিয়া পর্যন্ত সড়কের পাশে ময়লার স্তুপ ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের পাশাপাশি জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবহার শুরু করেন।

তারা বুধবার সকালে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা ভবন থেকে পাঁচকাহনিয়া পর্যন্ত সড়কের পাশে ময়লার স্তুপ ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের পাশাপাশি জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবহার শুরু করেন।

সারাবিশ্ব করোনা আতঙ্কে কাঁপছে। বাংলাদেশও আছে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন শ্রমজীবী ও অসহায়-দুঃস্থ মানুষরা। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে স্যানিটাইজার, মাস্কের বাজারে অপ্রাপ্যতা ও দুই থেকে তিন গুণ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত রোগীর ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। যেহেতু ভাইরাসটির এখনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি তাই মানুষে সচেতন না হলে এ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। 

ঠিক এমনি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি শুরু করেছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল হক। বেশ কদিন ধরে তিনি ভাবছিলেন যে,  করোনা সংক্রামণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চলতি ছুটিকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। এ  নিয়ে শামসুল হক তার এলাকার বন্ধু রাকিব ও ইসরাফিলের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তারা কলেজে পড়ুয়া বন্ধু মোজাহিদ, মিজান, রাজিব ও সাগরকে সঙ্গে নেয়। এক পর্যায়ে তারা নিজস্ব অর্থায়নে করোনার সংক্রামণ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরমধ্যে জীবাণু নাশক স্প্রে প্রদান, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাপ্স বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। 
 
ঠিক তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক বুধবার সকালে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা ভবন থেকে পাঁচকাহনিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ময়লার স্তুপ ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের পাশাপাশি জীবাণু নাশক স্প্রের ব্যবহার শুরু করেন। তারা পাচকাহনিয়া গ্রামের রাস্তাঘাট, মসজিদ, দোকান  ও বাড়িতে জীবাণু নাশক প্রয়োজনীয় স্প্রে প্রদান করেন। এছাড়াও তারা এলাকার সর্বসাধারণের মাঝে ৩০০ মাস্ক ও ৪০০ হ্যান্ড গ্লাপ্সসহ জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন বাণী ও লিফলেট  বিতরণ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল হক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি  তাতে জনগণের মাঝে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে সচেতন হলে অনেকাংশে করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করা সম্ভব। এ কথা বিবেচনা করেই আমরা এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি । এমন কর্মসূচি কতদিন ধরে চালিয়ে যাবেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতদিন না আমরা করোনার আতঙ্ক থেকে রেহাই পাচ্ছি, ততদিন কার্যক্রম চালিয়ে যাবো ।

তাদের এ মহৎ কাজের দ্বারা পাঁচকাহনিয়া গ্রামের অনেকেই উপকৃত হয়েছেন। তেমনি একজন গাড়িচালক পান্না মিয়া। তার কাছে শামসুল হকদের সচেতনতামূলক কাজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামের ছোট ভাইদের এমন কাজ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। করোনার এতদিন শুধু নাম শুনেছি। কিন্তু এর সংক্রামণ ও প্রতিরোধের ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। তবে আজ এদের প্রচারণার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনেক কিছু জানতে পারলাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম