করোনা পজিটিভ সেবাদানকারীদের দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার  

করোনা পজিটিভ সেবাদানকারীদের দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার  

মেহেরপুর প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৬ ১৫ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীকে সেবা দেয়ার কাজে নিয়োজিত ডাক্তার-নার্সসহ সবাইকে দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। জনপ্রতি ৫শ’ টাকা  খাবারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও ২৫০ টাকারও খাবার দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন সেবাদানে নিয়োজিত অনেকেই। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেও তেমন কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

জানা যায়, ৩১ মে থেকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়। তারপর থেকে পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সসহ ৯৩ জনকে এই আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে সেবা দেয়া হয়। 

বর্তমানে হাসপাতালে ৩ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তিন শিফটে ২ জন করে মোট ৬ জন একটানা ৬ দিন করে তাদের সেবা দেন। পরে তাদের মেহেরপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফিন টাওয়ার নামে একটি আবাসিক হোটেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে তাদের থাকা খাওয়ার খরচ বহন করে থাকে। থাকা, খাওয়া ও পরিবহনসহ মেহেরপুর ফিন টাওয়ারের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তি করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চলমান করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হোটেল ভাড়া বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চুক্তি হয়। 

কোয়ারেন্টিনে থাকা জনপ্রতি প্রতিদিন ৫শ’ টাকা খাবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। হোটেল থেকে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ২ কিলোমিটার রাস্তায় পরিবহনে মাসিক ভাড়া ৩০ হাজার টাকা। 

বর্তমানে ফিন টাওয়ার কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১২ জন নার্স। করোনার প্রাদুর্ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিম্নমানের খাবার খেয়ে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থাকতে হচ্ছে তাদের। 

এরইমধ্যে করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সুমাইয়া খাতুন নামের দুইজন চিকিৎসক ও কামরুন্নেছা নামের একজন সিনিয়র নার্সও আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন সুস্থ হলেও ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোয়ারেন্টাইনে থাকা কয়েকজন বলেন, সকালে পাতলা ৪টি রুটি ও দুইটি ডিম ভাজি করে তিনটি ভাগে ভাগ করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া দুপুরের খাবারে বেশ কয়েকদিন পরপর ছোট ছোট মাংস দিলেও বেশির ভাগ সময় দেয়া হচ্ছে খাবার অযোগ্য ছোট শিং মাছ। যা দিয়ে সম্পূর্ণ ভাত খেয়ে শেষ করা যায়না। রাতের বেলা একটি ডিমের সঙ্গে সামান্য ডাল ও সবজি থাকে। যে মানের সবজি ডাল দেয়া সেটি নিরুপায় হতে খেতে হয়।

ফিন টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা তপন রেজা সাংবাদিকদের বলেন, একটু আধটু এদিকে সেদিক হতেই পারে। এছাড়া আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আমরা চেষ্টা করছি সেইভাবে খাবার দেয়ার। ভ্যাট কেটে আমাদের জনপ্রতি দেয়া হয় ৪১৫ টাকা। এতে করে সব খরচ মিটিয়ে আমাদের তেমন লাভ হয়না। মাস খানেক ধরে এমন হয়েছে। ভবিষ্যতে আর হবে না।  

জানতে চাইলে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে এমন অভিযোগ এসেছে। আমরা ফিন টাওয়ার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। এরপরও যদি খাবারের মান ভালো না হয় তবে আমরা অন্য কোথাও থেকে খাবার সংগ্রহ করবো

মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, এমন কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। যদি খাবারের মান নিম্নমানের হয় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিসি ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ