করোনা থেকে বাঁচতে বিশেষ পরামর্শ

করোনা থেকে বাঁচতে বিশেষ পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৪ ৪ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৫ ৪ মার্চ ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। এ ভাইরাস সংক্রমিত হওয়া দেশের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৭৭টি। এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়াই আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। তবে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী না পাওয়া গেলেও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানা সতর্কতার বিষয় উল্লেখ করা হচ্ছে। কখনো জানানো হচ্ছে- করোনাভাইরাস ঠেকাতে ফেসমাস্ক ব্যবহার অপরিহার্য। আবার কখনো বলা হচ্ছে ফেসমাস্ক খুব বেশি কার্যকরী নয়। হাত ধোয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এসব নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে সংশয় যে- কোন তথ্যটি সঠিক?

বিষয়টির পরিষ্কার তথ্য জানিয়েছেন ইউসিএফ কলেজ অব মেডিসিনের ডিরেক্টর ডাক্তার রুমি আহমেদ।

করোনাভাইরাস বাতাসে উড়ে বেড়াতে পারে না। একজন রোগী যদি আপনার মুখের উপরে হাঁচি না দেয় বা আপনার মুখে কোনো কারণে কফ না ফেলে তবে রোগীর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বললে বা পাবলিক প্লেসে হেঁটে গেলেও ভাইরাস উড়ে গিয়ে কাউকে আক্রান্ত করবে না।

তাহলে কীভাবে করোনাভাইরাস ছড়ায়?

বাতাসে উড়তে না পারার কারণে আক্রান্ত রোগীর থেকে ঝরে পড়া করোনাভাইরাস মাটিতে, টেবিলে, চেয়ারে, রেলিংয়ে, কম্পিউটারের কি বোর্ডে, পাবলিক টয়লেটের হ্যান্ডেলে, দরজায়, দরজার হ্যান্ডেলে, রাস্তায়, ফাস্টফুড চেইনে, খুচরা টাকা এবং কয়েনে, এমনকি করিডোরে বা যে কোনো উন্মুক্ত অঞ্চলে থাকতে পারে।

যখন কোনো ব্যক্তি এই উন্মুক্ত অংশগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ করে তখন ভাইরাসটি তার হাতে লেগে যায়। কিন্তু এখানে শেষ নয়; ভাইরাসটিকে মুখ, চোখ বা নাক দিয়ে আপনার শরীরে প্রবেশ করতে হবে। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি ভাইরাস লেগে থাকা কোনো কিছু স্পর্শ করে নিজের মুখে হাত দেয়, তবে সেই ভাইরাস তার চোখ, নাখ এবং মুখের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ পায়। এমনকি পাবলিক প্লেসে জুতা থেকে আপনার হাতে এবং তারপরে মুখে লেগে সংক্রমণ হতে পারে।

তাই বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হাত ধোয়া। এমনভাবে হাত ধুতে হবে যাতে হাতের আঙুলের গর্তে, নখে এবং কোণায় ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। হাতের সবস্থানে ঘষে ঘষে সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ না করা। তৃতীয়ত ফেসমাস্ক ব্যবহার করা। ফেসমাস্কে কাজ হয় না, তা ঠিক নয়। করোনা হাঁচি বা কাশিতে সরাসরি ছড়াতে পারে। এছাড়া মাস্ক আপনার নিজের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবে।

ডাক্তার রুমি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বিস্তারে অতিরিক্ত ঝুঁকি রয়েছে।এই ঝুঁকিটি তৈরি হয় পাবলিক প্লেসে থুতু, কাশি ও কফ ফেলার প্রবণতা থেকে। ঠিক এ কারণেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে প্যানিক করার কিছু নেই বলেও জানান ডাক্তার রুমি। কারণ করোনার ফ্যাটালিটির হার অনেক কম। তিনি বলেন, ফ্যাটালিটি সবচেয়ে বেশি বয়স্কদের। আর সবচেয়ে কম ছোটদের।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ-

ভালোভাবে হাত ধুতে হবে, হাত মুখে স্পর্শ না করা, মাস্ক পরা, পাবলিক প্লেসে উন্মুক্ত জিনিস স্পর্শ না করা, ঘরের বাইরে জুতা খোলা এবং সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ঘরে প্রবেশ করা।

তাহলে বাংলাদেশে যদি করোনাভাইরাস অজ্ঞতাপ্রসূত বিস্তার লাভ করেও আপনি এবং আপনার পরিবার ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই