করোনা চিকিৎসায় সম্ভাব্য ভেষজ ওষুধ তৈরির পথে ভারত

করোনা চিকিৎসায় সম্ভাব্য ভেষজ ওষুধ তৈরির পথে ভারত

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০০ ৬ জুন ২০২০   আপডেট: ১৮:০২ ৬ জুন ২০২০

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে ভেষজ চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে ভারত। এমনিতেও ভারতে ভেষজ চিকিৎসার কদর রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ভেষজ চিকিৎসার ভক্ত। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর তিনি দেশবাসীকে এই রোগ ঠেকাতে ভেষজ ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

সম্প্রতি দেশটির শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সান ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড করোনা চিকিৎসায় সম্ভাব্য একটি ভেষজ ওষুধের পরীক্ষা শুরু করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একিউসিএইচ নামের এই ওষুধের পরীক্ষা এখন মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল এসে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সান ফার্মাসিউটিক্যালস জানায়, একিউসিএইচ নামের এই ওষুধটি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের লতানো গুল্ম ‘কক্কুলাস হিরসাটাস’ থেকে নিষ্কাশন করা হয়েছে। এই ভেষজ উদ্ভিদটি এশিয়া ও আফ্রিকায় ওষুধ হিসেবে বহুল প্রচলিত। এর হিন্দি নাম ‘ফরিদ বুটি’। আর সংস্কৃত ভাষায় এটি ‘পাতাল গারুদি’ নামে অধিক পরিচিত।

কোম্পানিটি আরো বলছে, ভারতজুড়ে ১২টি চিকিৎসা কেন্দ্রে ২১০ জন রোগীর ওপর এই ওষুধটি প্রয়োগ করবে তারা। এরই মধ্যে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এই ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাদের দাবি অনুযায়ী এই ওষুধে করোনাভাইরাস নিরাময় না হলেও রোগীদের কোনো ক্ষতি হবে না।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, একিউসিএইচ ওষুধটি মূলত ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে ল্যাবরেটরিতে এটির ভাইরাসবিরোধী বৈশিষ্ট্য দেখা যাওয়ার কারণে করোনা চিকিৎসায় তারা এটি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে যে প্রতিযোগিতা চলছে তাতে যুক্ত আছে ভারতের দুই ওষুধ কোম্পানি গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং স্ট্রাইডস ফার্মা সায়েন্স লিমিটেড। তবে এর আগে সেখানকার কোনো ওষুধ কোম্পানি ভেষজ নিয়ে পরীক্ষা চালায়নি। এক্ষেত্রে উদাহরণ সৃষ্টি করলো সান ফার্মা।

উল্লেখ্য, ভারতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৬ হাজার ৬৪৯ জন। আক্রান্তের হিসাবে করোনার মৃত্যুপুরী ইতালিকে টপকে বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে ভারত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ