করোনায় নারীর চেয়ে পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি, রহস্য জানালো গবেষকরা

করোনায় নারীর চেয়ে পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি, রহস্য জানালো গবেষকরা

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৮ ২৭ মার্চ ২০২০  

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

বিশ্বের প্রায় ২০০ টিরও বেশি দেশে পৌঁছে গেছে করোনাভাইরাস। হাজারো মানুষ মুত্যুবরণ করেছে এই ভাইরাসের কবলে পড়ে। এতে আক্রান্তের সংখ্যাও সাড়ে পাঁচ লাখ অতিক্রম করেছে।

সম্প্রতি গবেষকরা করোনাভাইরাসের বিষয়ে একটি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। আর তা হলো, করোনায় নারীদের চেয়ে পুরুষদের আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা বেশি। 

ইতালিতে হাজারো মানুষ এই ভাইরাসের কবলে মারা গেছে। আর উদ্বেগের বিষয়টি হলো তাদের বেশিরভাগই পুরুষ। ইতালির জনস্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থার দেয়া তথ্যানুযায়ী, কোভিড-১৯ এ মারা যাওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে ৬০ শতাংশই পুরুষ। যা মোট আক্রান্তের মধ্যে ৭০ শতাংশ। 

হোয়াইট হাউসের করোনভাইরাস প্রতিক্রিয়া সমন্বয়কারী, রাষ্ট্রদূত দেবোরা বার্স বলেন, ইতালিতে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। সিআইএ ফ্যাক্টবুক অনুসারে, ইতালিতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের বেশিরভাগই বয়স্ক। ৭০ বছরের বেশি বয়সের পুরুষরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যাদের সংখ্যা প্রায় ৮৭ শতাংশ। 

এ বিষয়ে ডেল রিও বলেন, যেসব বয়স্ক ব্যক্তিরা সাধারণত শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত তারা করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। কারণ তাদের নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর করোনাভাইরাস একটি সংক্রমণ রোগ যা ফুসফুসে আঘাত হানে। গবেষকরা বলেছেন, অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ব্যাখ্যা করা বেশ জটিল বিষয়।

কোভিড-১৯ মহামারি ইতালিতে পৌঁছানোর আগেই, চীন থেকে পাওয়া প্রাথমিক প্রতিবদনেও উঠে আসে পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার এই চিত্র। চীনের উহানের একটি হাসপাতালের নথিতে দেখা যায়, সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ৯৯ রোগীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ করোনা রোগীই ছিলেন। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এসব রোগীদের বেশিরভাগই হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস এর মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছিলেন।

চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এর দেয়া পরিসংখান অনুযায়ী, ১০ হাজার করোনায় মৃতদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশই পুরুষ। যা সত্যিই বিস্ময়কর। ইতালির শীর্ষ স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা ইস্তিতোটো সুপিরিওর ডি সানিতি জানিয়েছে আরো ভয়ঙ্কর তথ্য।

তাদের মতে, সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত এক হাজার ৬৯৭ জনের মধ্যে ৭১ শতাংশ অর্থাৎ এক হাজার ৯৭ জনই পুরুষ। অন্যদিকে আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ বা ৪৯৩ জন নারী ছিলেন। ল্যানসেটে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই সংখ্যা আরো বেশি। দেখা গেছে, মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশই পুরুষ এবং মাত্র ২০ শতাংশ নারী।

এই গবেষণা মূলত ইতালি, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর বিবেচনা করেই করা হয়েছে। কারণ বিশ্বের এই কয়েকটি দেশেই সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লুএইচও) দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশের পুরুষরা বেশি মদ্যপান এবং ধূমপান করেন।

বিশেষত চীনে ১৫ বছরের উপরে অন্তত ৪৮ শতাংশ পুরুষই ধূমপান করেন। অন্যদিকে সেখানে মাত্র দুই শতাংশ নারী ধূমপায়ী রয়েছে। এছাড়াও এসব দেশের পুরুষরা ৩০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যেই হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যায়। 

তবে লিঙ্গভেদে করোনায় মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে কিছু গবেষকরা বলছেন, পুরুষ ও নারীর মধ্যে অন্তর্নিহিত জৈবিক পার্থক্য রয়েছে। এই সেই পার্থ্যক্যের কারণেই নারীরা করোনায় কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বহু বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে সাধারণত পুরুষের তুলনায় শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি তারা বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধেও শারীরিকভাবে সক্ষম। 

হিউম্যান জিনোমিক্স জার্নালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক্স ক্রোমোসোমে প্রচুর পরিমাণে প্রতিরোধ-সম্পর্কিত জিন রয়েছে। আর নারীদের মধ্যে এক্স ক্রোমোসোম দুটি রয়েছে বলে তারা যে কোনো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ২০০৩ সালে সার্স সংক্রমণ চলাকালীন সময়েও নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল।

সূত্র: ওয়াশিংটনপোস্ট

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস