করোনার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা জানালেন ভুক্তভোগী নারী

করোনার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা জানালেন ভুক্তভোগী নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৩ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:১৬ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কমলা রঙের পোশাকে ঝাং, ছবি: স্ট্রেইটস টাইমস

কমলা রঙের পোশাকে ঝাং, ছবি: স্ট্রেইটস টাইমস

১৭ দিনের বন্দিদশার প্রতিটা মুহূর্ত ভয়ংকর ছিল বলে জানিয়েছেন করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে ফেরা সিঙ্গাপুরের ৪৭ বছরের নারী ঝাং। ৩০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশন ডিসিস (এনসিআইডি)-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইটস টাইমসে ওই নারী ভাইরাসটির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ঝাং সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, তিনি খুবই ভয় পেয়েছিলেন। চিকিৎসকরা শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে তার নাকের ভেতরে অক্সিজেন টিউব ঢুকিয়ে দেন। তবে ওই সময় তার ফুসফুস ঠিকমতো কাজ করেনি। ফলে টিউবটি ভালোভাবে কাজে আসছিল না। তখন প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে মৃত্যুর উপক্রম মনে হচ্ছিল তার। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে সব ব্যবস্থা নেন চিকিৎসকরা।

‘ওই সময় ঝাং নড়াচড়া করতে পারছিলেন না। তবে তিনি চিকিৎসকদের কথা পরিষ্কারভাবে শুনতে পাচ্ছিলেন। একজন নারী চিকিৎসক তার হাতে হাত রেখে বলেছিলেন, ‘চিন্তা করবেন না’। ওই নারী চিকিৎসক একটি টিউবের ব্যবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সহজ হবে’। ওই চিকিৎসক ঝাংকে অনবরত ভরসা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

সংবাদমাধ্যটিকে ঝাং আরো জানান, স্বামী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও ছেলেটি রক্ষা পায়নি। প্রতিদিন তার নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করতেন চিকিৎসকরা। তবে তার অন্য কোনো রোগ ছিল না। কঠিন মুহূর্তে তিনি স্বস্তি পাচ্ছিলেন এই ভেবে যে, তার ছেলে করোনার মতো ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তিনি আরো জানান, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে। স্বামী বেশ কয়েকদিন তার সঙ্গে ঘুমাবেন না। স্বামীর স্থানে থাকলে একই সিদ্ধান্ত তিনিও নিতেন।

চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঝাং। তিনি জানান, ওরা তাকে পরিবারের মতো দেখেছে। সবসময় উৎসাহ দিয়েছে।

ঝাং অভিব্যক্তি হিসেবে জানান, দৈনন্দিক জীবনে ফিরতে চান তিনি। সাধারণ জীবন চালাতে চান। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করাসহ শপিং ও কফি পান করতে চান। সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে আগের মতো সময় কাটাতে চান।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি উহান থেকে সিঙ্গাপুরে পা রাখার পর মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ে ঝাংয়ের জ্বর ধরা পড়ে। পরে তাকে এনসিআইডতে নেয়া হয়। তার সঙ্গে আসা মোট ৯২ সিঙ্গাপুরিয়ান ছিলেন। এর মধ্যে ঝাংয়ের স্বামী ও সন্তানও ছিলেন।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ