করোনার প্রভাবে ভোগান্তিতে সাধারণ রোগী

করোনার প্রভাবে ভোগান্তিতে সাধারণ রোগী

সোহেল রাহমান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০০ ২৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০০:০২ ২৮ মার্চ ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে হাসপাতালে গেলে কর্তৃপক্ষ বলছে আইইডিসিআরে যান। আইইডিসিআর-এ গেলে তারা বলছেন হটলাইনে ফোন দেন। হটলাইনে ফোন দিলে রোগীকে বলছেন করোনার উপসর্গ বা লক্ষণ নেই, এবং চিকিৎসা ছাড়াই তাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকেব্যাথা, নিউমোনিয়া এমন রোগ হলে কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ রোগীদের।

আইইডিসিআরের সামনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন অসহায় রোগীরা। তাদের অভিযোগ এখানে এসে শুধু রাস্তায় গেটের সামনে বসে থেকেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।

এমনি একজন ভুক্তভোগী মো. খোকন। শুক্রবার এসেছেন আইইডিসিআরে। রোগী খোকনের মামা জ্বর ও কাশি নিয়ে ভর্তি ছিলেন বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। খোকনের অভিযোগ তিনদিন চিকিৎসা দেয়ার পর গুরুতর অবস্থা দেখে রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করে দেন ডাক্তাররা। সেখান থেকে নার্সরা বলেন, করোনার উপসর্গ আছে, আইইডিসিআরে হটলাইনে ফোন দেন। তারপর অনেকবার ফোন দিলেও কেউ রিসিভ করেনি। একপর্যায়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল থেকেও বের করে দেয়া হয় তাদের।

শেষ পর্যন্ত রোগী সশরীরে চলে আসেন আইইডিসিআরে। এখানে এসে দেখেন সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। তার মতো আরো ২০ জন বসে আছে গেটের সামনের রাস্তায়। দারোয়ান জানিয়েছে যে, এখানে রোগী দেখা হয় না, হাসপাতালে যান।

আব্দুল মতিন নামে একজন বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য নির্ধারিত চার হাসপাতাল ঘুরে এলাম। কেউ কথা বলতে চায় না। বলে আইইডিসিআরে যান। করোনাভাইরাসের ভয়ে চিকিৎসা মিলছে না সাধারণ রোগেরও।

আতিকা রুমা নামে একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা থেকে শুরু করে কুর্মিটোলা ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের উচ্চ পর্যায়ের ডাক্তারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও অনুনয় করেও কোনো চিকিৎসা পাননি তিনি।

রোগীদের এসব অভিযোগের সমাধান বিষয়ে জানতে চাইলে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতংকিত  হওয়ার কিছু নেই। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। আপনি নিজে সচেতন হন এবং অপরকে সচেতন হওয়ার কথা বলেন।

তিনি বলেন, নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া, কাশি শিষ্টাচার মেনে চলা, কারো সঙ্গে কোলাকুলি না করা, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ না করলে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আর কোনো ব্যক্তি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন, তিনি সরকারি কোনো হাসপাতালে না গিয়ে আমাদের হটলাইনে ফোন করবেন। তাহলে আমাদের টিম আপনার বাসায় গিয়ে আপনার চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। সরাসরি কোনো হাসপাতালে চলে গেলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তিনি আরো বলেন, আপনার যদি মনে হয় যে আপনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন, তাহলে আপনার বাড়ির বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের হটলাইনে ১৭টি ফোন নাম্বার আছে সেখানে যোগাযোগের চেষ্টা করুন। এছাড়াও ই-মেইলের ([email protected]) মাধ্যমেও আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এর পাশাপাশি একটি ফেসবুকে পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে বার্তা দেয়া হলেও আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হবে। আপনার সেবা নিশ্চিতের জন্য আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী আপনার বাসায় পৌঁছে যাবে। সচেতনতা ছাড়া প্রতিরোধের কিছু নেই।

আইইডিসিআরের হটলাইনগুলোতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ফোন দিবেন না জানিয়ে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের এই হটলাইনগুলো শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য খোলা হয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নয় এমন অপ্রয়োজনীয় ফোন অনেক বেশি আসছে। ফলে অনেকে হয়তো আমাদের লাইনটা ব্যস্ত পাচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র এই রোগের উপসর্গ ছাড়া অযথা হটলাইনে কল না করতে তিনি অনুরোধ করেন।  

এ বিষয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি হটলাইন রয়েছে। কিন্তু এই নম্বরগুলোয় আইভিআর যুক্ত না থাকায় অনেকেরই যোগাযোগ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। আইইডিসিআরের হটলাইন ছাড়াও করোনা বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কল সেন্টার ১৬২৬৩ ও ৩৩৩- এ যোগাযোগ করা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এসআর