করোনাভাইরাসে সচেতনতায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

করোনাভাইরাসে সচেতনতায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

শাহরিয়ার নাসের, নোবিপ্রবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫১ ২৪ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০০:৪৩ ৩০ মার্চ ২০২০

সুমনসহ আরো কয়েকজন যাচ্ছেন মানুষের বাড়ি বাড়ি

সুমনসহ আরো কয়েকজন যাচ্ছেন মানুষের বাড়ি বাড়ি

করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহমারি আকার ধারণ করেছে। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। বেশ কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে তেত্রিশজন আক্রান্ত হয়েছেন। তিনজন মারা গেছেন। যেহেতু ভাইরাসটির প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি তাই মানুষে সচেতন না হলে এ ভাইরাসরে আক্রমণ থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। এ নেয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ একদিকে ঘনবসতি, অন্যদিকে  স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবসহ রয়েছে আরো নানা সমস্যা। হুমকির মুখে পড়বে দেশের অর্থনীতিও। 

তাই সবাই যখন করোনাভাইরাসের আতঙ্কের পেছনে ছুটছে ঠিক সেই মুহূর্তে এসকে সুমনের মাথায় এলো ব্যতিক্রমী ভাবনা। সুমন পড়ছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। তার ভাবনাটি হলো, গ্রামে গ্রামে মানুষদের সচেতন করা। যেই ভাবা সেই কাজ সুমনের। পরিকল্পনা করলেন। আর এই পরিকল্পনার কথা জানালেন এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ফার্মাসিস্ট অমিত রায়, অ্যাডভোকেট মোস্তফিজুর রহমান মিলন, ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, সমাজসেবক লিটন মাহমুদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আলী আশরাফ, বাতেন ও ফারুক এবং বিজিবিতে কর্মরত সাগর আহমেদকে। সবাই সুমনের কথায় সম্মতি দিলেন। এরপর বাকি কাজটুকুও সেরে ফেললেন নিজেরাই। নিজ জেলা মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের রামকান্তপুর, মুন্সীনগর ও মধুরচরের ৪১৮টি অসচেতন পরিবারকে সচেতন করার দায়িত্বটুকু নিজেদের ঘারে চেপে নিলেন। সংগ্রহ করলেন কয়েকশো সাবান। তাদের এ কাজে এগিয়ে আসে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী হৃদয় খান, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসেন এবং রিকশাচালক চুন্নু মিয়া। 

সবকিছু প্রস্তুত করে গতকাল সোমবার বিকেল তিনটায় সবাই মিলে চলে যান অসচেতন পরিবারগুলোর মাঝে। সন্ধ্যা পর্যন্ত  বাড়ি বাড়ি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিতরণ করেন সাবান। 

এ ব্যাপারে এসকে সুমন বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এতো সচেতন না। আর এখনো আমাদের গ্রামে করোনাভাইরাস এতো সংক্রমিত হয়নি। এখনো সময় আছে মানুষকে বুঝানোর। আমাদের সবার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে বুঝানো যে এটা কিভাবে ছড়ায়, লক্ষণ কি, প্রতিরোধের উপায় কি, কখন হাত ধুতে হবে এসব। তাছাড়া একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব। সাবান দেয়ার ব্যাপারটি আসলো মাথায় আসল এটা ভেবে যে মানুষ যাতে বুঝতে পারে তাদের কতোটুকু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/