করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অবরুদ্ধ গোটা হুবেই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অবরুদ্ধ গোটা হুবেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১০ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:১৭ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

রোববার নতুন এ ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই প্রদেশের সব বাসিন্দার ওপর কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এছাড়া সব ধরণের ব্যবসাও বন্ধ করে দেয়া হবে। এ প্রদেশে বসবাসকারী প্রায় ৫৮মিলিয়ন মানুষ তাদের আবাসিক সম্প্রদায় বা গ্রাম ছেড়েও যেতে পারবে না। অতি প্রয়োজনীয় না হলে রাস্তায় কোনো যানবাহন অথবা মানুষ চলাচল করার অনুমতি পাবে না। শুধুমাত্র পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণকারী ও অনুমোদিত কিছু যানবাহন চলাচল করতে পারবে। 

নির্দিষ্ট কিছু দোকান খোলা রাখা হবে যেখান থেকে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে পাবে। তবে সেখানে শুধুমাত্র অনুমতি পাওয়া মানুষরাই একটি নির্দিষ্ট দল হয়ে যেতে পারবে।

হুবেই প্রদেশের সরকার বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি এখনো অনেক গুরুতর। এ ভাইরাসের সংক্রমণ কার্যকরভাবে হ্রাস করতে ও সংক্রমণের প্রবণতা রোধে সেখানে আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

কভিড-১৯ নামে পরিচিত এ ভাইরাসে মৃতের ও আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে এক হাজার ৭৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধুমাত্র রোববারেই মারা গেছেন ১০৫ জন যাদের মধ্যে ১০০ জনই হুবেই প্রদেশের। এছাড়া এ ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি।

দেশটির সব পাবলিক কার্যক্রম বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে সরকার। এছাড়া সর্দি, জ্বর, কাশির জন্য ওষুধ কেনা গ্রাহকদের প্রকৃত নাম, মোবাইল নম্বর, আইডি নম্বর ও তাদের ঠিকানাসহ বিশদ রেকর্ড রাখতে সব ফার্মেসির তথ্য প্রয়োজন হবে বলেও জানানো হয়েছে।

কোনো গ্রাম, সম্প্রদায়, অফিস অথবা বিল্ডিংয়ের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেটিকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। যেকোনো কারখানা ও সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে চাইলে তাদের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে। 

এর আগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কয়েক স্তরের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিভিন্ন শহর। তবে একমাত্র হুবেই প্রদেশেই এতটা উচ্চ স্তরের সাবধানতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে। 

সূত্র- সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ