করোনাজয়ী ইউপি চেয়ারম্যানের স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল

করোনাজয়ী ইউপি চেয়ারম্যানের স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৭ ৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৭ ৩ জুলাই ২০২০

ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। করোনাকালে তার ইউপির সাধারণ জনগণ ও করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে মারামারি এ থাবায় আক্রান্ত হন নিজেই। গত ৯ জুন শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন। এরপর ১২ জুন করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিলে ১৭ জুন তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। 

শুক্রবার আক্রান্ত পরবর্তী রিপোর্ট নেগিটিভ আসে। আর এর মধ্যে দিয়েই তিনি মুখোমুখি হন জীবনের চরম বাস্তবতার। আর এ বাস্তবতার মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেন এক হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস। যা প্রত্যেক বিবেকবোধ মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করে। স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

স্ট্যাটাসে ইউপি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, মানুষ, মনুষ্যত্ব ও বিকৃত বিবেক সবই পৃথিবী নামক নাট্যশালার একটি অংশ, যা কিনা কোভিড-১৯ নামের দুনিয়া কাঁপানো মহামারিতেও অবস্থানগত জায়গা থেকে কিঞ্চিত বিচ্যুত হয়নি। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দান করুন। কোভিড- ১৯ আক্রান্ত মানুষগুলোর প্রতি সরকার যে সহনশীলতার বাণী প্রচার করে যাচ্ছে তা রীতিমতো প্রশংসনীয়। তারপর ধন্যবাদ জানাতে কৃপণতা করা হবে আরো অভিশপ্ত। সর্বোপরি অনেক ভালোর মধ্যেও কিছু পোকা থেকেই যায়। যেমন এক মন দুধে এক ফোঁটা গো-চেনা। বাস্তবতা জীবনে অনেক কিছুর শিক্ষা দেয়। তবে আল্লাহ যা করেন সব সময় মানুষের কল্যাণের জন্যই করেন।

সময়ের পরিক্রমায় মানুষ, মনুষ্যত্ব এবং বিকৃত বিবেক কোথাও কোথাও ইতিহাস হয়ে থাকবে করোনার চাইতেও ভয়ংকর রূপে এবং বিভিন্ন চরিত্রে। এর একটি চরিত্রকে পরবর্তী প্রজন্ম যুগযুগ অনুসরণ করবে জীবনের পাথেয় হিসেবে আর অপরটিকে চরম ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে মীরজাফর ও হিটলার প্রতিচ্ছবি ভেবে। আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করছি এজন্যই যে তিনি আমাকে সব সময় হেফাজত করেই চলছেন। আল্লাহর রহমতে অনেক সুস্থ হয়ে উঠেছি।

অসুস্থকালীন সময়ের বহু স্মৃতি, বহু ঘটনা, বহু কষ্ট হৃদয়ে নাড়া দেয় প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। স্মৃতিচারণে কখনো কখনো আপ্লুত হয়ে পড়ি। সবই নিয়তির নির্মম পরিহাস। আমার ৬ বছরের অবুঝ মেয়ে যখন বাবার স্পর্শ পেতে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে আঙুল দেখিয়ে বলে আর কত দিন একা থাকবো বাবা? পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া অসুস্থ ছেলে যখন বিছানায় শুয়ে বিধাতার কাছে প্রার্থনায় মগ্ন বাবার রোগমুক্তির জন্য, অসুস্থ মা সারাক্ষণ জায়নামাজে ছেলের জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে কান্নায় ব্যস্ত অবসরপ্রাপ্ত বাবা দিশেহারা কি করবে?

আর স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে জীবন বাজি রেখে ভয়কে জয় করে নিজেকে শতভাগ উজাড় করে দিয়ে সেবায় ক্লান্ত স্ত্রী, সব শুভানুধ্যায়ী, আত্মীয় স্বজন, হাজারো ভালবাসার মানুষেরা যখন আল্লাহর কাছে তাদের প্রিয় মানুষটির জন্য দোয়ায় ব্যস্ত, ঠিক তখন উত্তর গগনে কালবৈশাখী মানুষ রূপী দানবগুলো হিংস্র হয়ে উঠে। 

ততক্ষণে নিজে অনেকটাই জীবন্ত লাশ। কোভিড- ১৯ বাসা বেঁধেছে শরীরে। হৃদয় থেকে রঙিন পৃথিবী তখন সাদা কাফনের রঙ্গে মুরিয়ে দিচ্ছে, ক্লান্ত দেহ আর অস্থির মন পৃথিবীর মায়া ভুলে যাচ্ছে। তখনো ক্ষ্যান্ত হয়নি দায়িত্বশীল কিছু মানুষরূপী নরপিশাচ। আমাকে যেভাবে মানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে হুমকি দেয়া হয়েছে তা হয়তো ভুলে যাবো কিন্তু আমার অসহায় নিরীহ সহজ সরল ছাত্র জনতার উপর যে অন্যায় করা হয়েছে তা হয়তো সাধারণ জনগণ কোনোদিন ভুলবেনা।

এটাই নতুন ইতিহাস। শুনেছি বর্ষা কালে নাকি ছাগলেও বাঘের গাল চাটে। কোভিড-১৯ হয়তো একদিন থাকবে না। আবার এ পৃথিবী ফিরে পাবে সুস্থ জীবনযাত্রা। আলোকিত হবে মানুষের মন। ফিরে পাবে বিশুদ্ধ সুবাতাস। প্রত্যাশা অবিরাম বেঁচে থাকার জন্য। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। আল্লাহ সকলকে ভালো রাখুক। আল্লাহ হাফেজ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ