করোনাকালে বাংলাদেশের কিশোরের চমক, মাসে বড় অঙ্কের টাকা আয়

করোনাকালে বাংলাদেশের কিশোরের চমক, মাসে বড় অঙ্কের টাকা আয়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১০ ৭ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৮:১৪ ৭ আগস্ট ২০২০

কিশোর তাহা মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত।

কিশোর তাহা মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত।

পুরো পৃথিবীর মানুষের জন্য অকল্পনীয় বিপদ হচ্ছে করোনাভাইরাস। ভাইরাসটির কারণে নানা দেশের অর্থনীতি তলানির পথে রয়েছে। কিন্তু এ দুঃসময়ে চমক দেখালেন ১৭ বছরের এক বাংলাদেশের কিশোর। করোনার সময় প্রতিমাসে বড় অঙ্কের টাকা আয় করেছেন। এমনকি ২০০ মানুষের কর্মসংস্থানও করেছেন ওই কিশোর।

চমক সৃষ্টিকারী কিশোরের নাম তাহা মাসুদ। এরইমধ্যে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করেছে ইয়াহু নিউজ। সংবাদ মাধ্যমটি তাকে ‘নেক্সট বিগ থিং ইন বাংলাদেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। 

কিশোর তাহা হোম অ্যাকাডেমি নামের একটি স্টার্টআপ তৈরি করেছেন। সেই অ্যাকাডেমির মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসের ভেতরে সবাইকে চমকে দেন তিনি। নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কোর্সের আয়োজন করেন তাহা।

হোম অ্যাকাডেমির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে নানা ধরনের কোর্সের ক্যাটাগরি। সেখানে ক্রিয়েটিভ আর্ট থেকে শুরু করে ডিজাইন, ফ্যাশন, মিউজিকও রয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে ফ্রি ভিডিও, পেইড কোর্স, স্টোরিটেলিং, মেন্টরশিপের মতো রয়েছে আরো পাঁচটি বিভাগ।

নির্দিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পেইড কোর্সগুলো সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু গরিব ও অভিভাবকহীনদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয় না। 

জানা গেছে, নতুন স্টার্টআপ থেকে এখনো অবশ্য আয় শুরু করেননি কিশোর তাহা। তিনি ড্রপশিপিং, অ্যামাজন রিভিউ বিষয়ক কাজ করে আয় করছেন। আর নতুন স্টার্টআপ তৈরি করেই তিনি আলোচনায় এসেছেন।

তাহা মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, তার তৈরি করা প্রজেক্ট জমা দিতে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। 

তাহা আরো জানান, ঢাকার উত্তরায় বেড়ে উঠার সময় বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করতেন। সহজে কোর্স করার কোনো প্রতিষ্ঠান পাননি তিনি। এক পর্যায়ে ইউটিউব কনটেন্ট বানান। পরে ড্রপশিপিংয়ে (মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি) মনোযোগ দেন। এমনকি অ্যামাজনে নতুন সেলারদের রিভিউ লিখে দিয়েও আয় করেন তাহা।

তার ভাষ্য, স্কিল ডেভেলপ করতে গিয়ে অনুভূত অভাববোধ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে তার। অনলাইনে আয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকে জানতে চায়। তখন হোম অ্যাকাডেমির চিন্তা আসে তাহার মাথায়।

তার অ্যাকাডেমিতে ৬০০ সদস্য রয়েছেন। কোর্স কিনেছেন প্রায় ২০০ জন। অনেকে আয় শুরু করেছেন। শুরুতে স্টার্টআপে খুব বেশি আয় আসে না। সময়ের প্রয়োজন হয়। একটা নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আয় আসে।

অ্যাকাডেমিতে যারা কোর্স করান তাদের কাছে মানুষেরা কোর্স করতে পারবেন না। কিন্তু হোম অ্যাকাডেমির সদস্য হলেই সেই সুযোগ মিলছে। এতে মানুষকে সহায়তা করা যাচ্ছে।

স্টার্টআপ মানেই নতুন আইডিয়া। যা বাস্তবায়ন করতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের প্রয়োজন হয়। স্টার্টআপে দীর্ঘ সময় ধরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হয়। ভরসাও রাখতে হয়। বিশ্ববিখ্যাত সব স্টার্টআপই পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে। কিশোর তাহার স্বপ্ন নিজের মাতৃভূমিকেও বদলে দেবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ