Alexa করিমপুরে নেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন!

করিমপুরে নেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন!

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৪ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউপির করিমপুরে পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সবচেয়ে বড় রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে সাত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়ায় চার গ্রামবাসীকেও হত্যা করে পাক সেনারা। কিন্তু সেই করিমপুরে নেই মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন।

করিমপুর যুদ্ধে শহীদরা ছিলেন- কাজী সালাউদ্দিন, মেজবাহউদ্দিন নৌফেল, আব্দুল ওয়াহাব, সোহরাব হোসেন, আব্দুল আওয়াল, আব্দুল হামিদ ও মজিবুর রহমান। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়ায় যাদের হত্যা করা হয়, তারা ছিলেন- বাকেল উদ্দীন মণ্ডল, হযরত উদ্দীন মণ্ডল, হাশেম আলী মণ্ডল ও আবু খাঁ।

ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আমিনুর রহমান ফরিদ বলেন, পাক বাহিনীর একটি জিপ ও ট্রাকে করে ফরিদপুর ধোপাডাঙ্গা চাঁদপুরের দিকে আসছে। তাতে রাজাকারদের জন্য চাউল-আটা, রসদ ও অস্ত্র আনা হচ্ছে। এ খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা কাজী সালাউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। অপরদিকে বোয়ালমারীর নতুবদিয়া ক্যাম্প থেকে হেমায়েতউদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি দল ও গোরদিয়া ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াসের নেতৃত্বে আরেকটি দল পাক হানাদার বাহিনীর ও রাজাকারদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

করিমপুর সেতুর কাছে মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেনেড ছুড়ে পাকসেনাদের একটি জিপ উড়িয়ে দেন। এরপর পাকবাহিনীর একটি বড় যুদ্ধ বহর সেখানে পৌঁছালে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে গুলি করতে করতে পিছু হটে করিমপুর গ্রামে আশ্রয় নেন। পরে পাকবাহিনী গ্রামটি ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় নেয়া বাড়িতে হানাদাররা আগুন ধরিয়ে দিলে সাত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

যুদ্ধ শেষে পরের দিন ১০ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী করিমপুর এলাকার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ১৭ ডিসেম্বর ফরিদপুর স্বাধীন হলে করিমপুর থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের দেহাবশেষ সংগ্রহ করে শহরের আলীপুর কবরস্থানে যথাযথ মর্যাদায় দাফন করা হয়।

ফরিদপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল ফয়েজ মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, দেশ স্বাধীনের পর প্রায় অর্ধশতক পেরিয়ে যাচ্ছে। এখনো করিমপুরে একটি স্মৃতিসৌধ না হওয়া আমাদের জন্য লজ্জাকর।

ফরিদপুর সদরের ইউএনও মাসুম রেজা বলেন, এরইমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নিয়ে যুদ্ধের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সেখানে কোনো সরকারি জমি নেই। তাই জমির মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কাল পাক হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে ওই স্থানে ডিজিটাল ব্যানার প্রতিস্থাপন করা হবে। এছাড়া ডিসির নির্দেশে একটি স্থান নির্ধারণ করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ