কম টাকায় ভারত ভ্রমণ

বিদেশে ঈদ ভ্রমণ-২

কম টাকায় ভারত ভ্রমণ

সিদরাতুল সাফায়াত ড্যানিয়েল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৩ ২৩ মে ২০১৯   আপডেট: ১২:৪০ ২৩ মে ২০১৯

কেরালার মুন্নার

কেরালার মুন্নার

কম টাকায় ভ্রমণের কথা উঠলে ভারতের নাম প্রথমেই আসে। যেতেও সহজ! বাস, ট্রেন, জাহাজ ও বিমান-সব মাধ্যমেই যাওয়া যায় দেশটিতে। সুযোগ থাকলে কয়েকদিন সময় নিয়ে ঈদে ঘুরে আসতে পারেন প্রতিবেশি দেশটির এই পাঁচ জায়গায়-

কলকাতার টানা রিকশা

উচ্ছ্বাসের শহর কলকাতা, বাজেট ৮ হাজার

মহীনের ঘোড়াগুলি যেমন গেয়ে গেছেন, ‘…স্মৃতির ভেতর ট্রামের ধ্বনি বিবাগী সুর গড়ে….’’, কলকাতা ঠিক তেমন! চার অক্ষরের নামটা মনে আসলেই ভেসে ওঠে টানা রিকশা, ট্রামের শব্দ কিংবা হলদে ট্যাক্সি। দীর্ঘ দিনের পথচলায় এই শহরটা হয়ে যেন হয়ে উঠেছে একটা বিশেষ ঐতিহ্যের ধারক। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই কলকাতা যেন শুধু একটা শহরই না, একটা জীবনধারা, একটা আবেগ যা প্রায় জীবন্তই বলা চলে! তাইতো কলকাতাকে বলা হয় উচ্ছ্বাসের শহর!

কলাকাতয় গিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল না দেখে ফেরে না বেশিরভাগ মানুষ। ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে তৈরি এই বিখ্যাত স্থাপনা নিঃসন্দেহে কলকাতার সেরা আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রবেশ করতে বিদেশি পর্যটকদের ৫০০ রুপি খরচ করতে হয়। ইংরেজ শাসনামলে স্থাপিত এই বিশাল অট্টালিকাটি কলকাতার অন্যতম আকর্ষণীয় একটি জায়গা হচ্ছে ‘ফোর্ট উইলিয়াম’। বিনা খরচেই ঘোরা যায় জায়গাটিতে। এছাড়া মার্বেল প্যালেস, হাওড়া ব্রিজ, জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির, বেলুর মঠসহ বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। তাছাড়া কলকাতা শহরটাই ঘুরে দেখার মতো।

কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে বেনাপোল বাসে এসে ইমিগ্রেশন শেষ করতে হবে। এর জন্য ভারতীয় যে কোনো পোর্টের ভিসা থাকলেই হবে। ইমিগ্রেশন সেরে ওপারে পেট্রাপোল থেকে সরাসরি কলকাতার বাস পাওয়া যায়। অথবা অটোতে করে বনগাঁ স্টেশনে গিয়ে কলকাতার ট্রেন ধরতে হবে। ফেরার পথেও একই রাস্তা। এছাড়া বিকল্প রাস্তা হিসেবে রয়েছে মৈত্রী এক্সপ্রেস, যা ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় কলকাতার উদ্দেশ্যে।

ছবির মতো সুন্দর দার্জিলিং

স্বপ্নের দার্জিলিং, বাজেট ৫ হাজার

ভারতের অন্যতম সুন্দর জায়গা দার্জিলিংয়ে অপেক্ষা করছে পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে সরু রেললাইন ধরে উপরে উঠে যাওয়া হিমালয়ান রেলওয়ের টয় ট্রেন। এক টয় ট্রেন দিয়েই অনেকে দার্জিলিংকে চেনে। আবার শুধু টয় ট্রেনই আছে দার্জিলিংয়ে ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই তা নয়। শীতকালে দার্জিলিংয়ের উচ্চতায় এক কাপ দার্জিলিং চা নিয়ে বসে আরামে সবুজের বিশালতা উপভোগ করার যে অভিজ্ঞতা তা খুব কম মানুষই হাতছাড়া করে। জায়গাটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এখানে ঘুরে আসতে খুব কম খরচ হয়, মোটামুটি ৫ হাজার টাকায় দার্জিলিং ঘুরে আসা সম্ভব।

কোথায় ঘুরবেন দার্জিলিং-এ? এই প্রশ্নটা অবান্তর। পুরো দার্জিলিং শহরটাই ছবির মতো সুন্দর, টাইগার হিলে ভোররাতে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপরে সূর্যকে উদয় হতে দেখবেন। সাদা বরফের রাজ্যে লালের অনুপ্রবেশের সেই মোহনীয় দৃশ্যের সাক্ষী হতে হাজারো মানুষ ছুটে যায় শেষরাতের ঘুমকে বিসর্জন দিয়ে। এই দৃশ্য দেখতে হলে রাত তিনটায় হোটেল থেকে বেরুতে হবে, জিপ রিজার্ভ করে রাখতে হবে আগে থেকেই।

কীভাবে যাবেন : আপনার ভারতীয় ভিসার পোর্ট যদি  বুড়িমারি চেংড়াবান্ধা দেয়া থাকে তবে প্রথমেই ঢাকার শ্যামলি বা গাবতলি থেকে হানিফের বাসের টিকেট কেটে নিন বুড়িমারি পর্যন্ত, ভাড়া ৬৫০ টাকা। একদম বুড়িমারি বর্ডারের কাছেই বাস থামবে। ইমিগ্রেশন পার করে ওপাশ থেকে অটো নিয়ে চলে যাবেন বিশ্বরোড, সেখান থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার বাস পাবেন, ভাড়া ৬০ রুপি। বর্ডার থেকে শিলিগুড়ি যেতে সময় লাগবে প্রায় দু’ঘণ্টা। শিলিগুড়ি থেকে শেয়ারে জীপ পাবেন দার্জিলিং যাওয়ার জন্য, ভাড়া ১৫০ থেকে ২৫০ রুপির মধ্যে সীমাবদ্ধ।

চায়ের দেশ মুন্নার

মন মাতানো মুন্নার, বাজেট ১৩ হাজার

‘গডস ওউন কান্ট্রি’ বলা হয়ে ভারতের কেরালাকে। তবে এর নেপথ্যে মুন্নার-এর বিশেষ অবদান রয়েছে। এখানকার মুন্নার এর চা বাগানে ঘেরা পরিবেশে কয়েকদিন কাটালেই মন ভালো হয়ে যাবে সন্দেহ নেই। 

সারি সারি রুপালি অর্জুন এবং সবুজ চা বাগানের সাগরের মাঝে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে চাইলে মুন্নার সবচেয়ে ভালো জায়গা। কেরালা রাজ্যের মাঝে অবস্থিত এই বিশ্বখ্যাত চায়ের রাজ্য। স্থানীয়রা বিশ্বাস করে মুন্নার-এর নামকরণ করা হয়েছে তিন নদীর মিলনস্থলের কারণে। মুধিরাপুজা, নাল্লাথানি এবং কুন্দালি নদীর স্রোত যেন এক হয়ে মিলেছে মুন্নার এর ঠিক মাঝখানে এবং এই নদীর কারণেই মুন্নারের আবহাওয়া, জীবজন্তু এবং বৃক্ষের সমাহার যেন অন্য যেকোনো স্থান থেকে ভিন্ন। চা বাগানই মুন্নার-এর একমাত্র ট্যুরিস্ট আকর্ষণ নয়। এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান আছে এই টাউনে। সুন্দর গঠন এবং মোটা চামড়ার অধিকারী বিলুপ্তপ্রায় নীলগিরি টাহর মোষের দেখা মিলবে এই সুরক্ষিত জঙ্গলে। নিলাকুরাঞ্জি এক ধরনের অদ্ভুত সুন্দর বেগুনি রঙা ফুল। সবমিলিয়ে এটি সত্যিই মন মাতানো জায়গা।

কীভাবে যাবেন : মুন্নার যেতে হলে বাস ধরতে পারবেন ভারতের বেশির ভাগ রাজ্য থেকে। কচি শহর থেকে মুন্নার ১৫০ কিলোমিটার দূরে, যেতে পারবেন রেলে। এরনাকুলাম বা আলুভা স্টেশানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে মুন্নার। রেলে গেলে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে ঘুরে আসা সম্ভব।

ঐতিহ্যের শহর দিল্লি

ঐতিহ্য-আধুনিকতার দিল্লি, বাজেট ১১ হাজার

হাজার ঐতিহ্যের দিল্লি ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। হিন্দু রাজপুত শাসক থেকে শুরু করে মুঘল আমল, এরপর ব্রিটিশ শাসন। সব মিলিয়ে সাতটি শহরের উত্থান-পতনের  মধ্য  দিয়ে আজকের আধুনিক শহর দিল্লি। এ শহরেই আপনি একসঙ্গে পেয়ে যাবেন হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা স্মৃতিস্তম্ভ কুতুব মীনার, আধুনিকতার  বাহন মেট্রোরেল, মোঘলদের ঐতিহ্য ধারণ করা বাজার থেকে মেগামল, আদী প্রার্থণাকেন্দ্র, জামা মসজিদ থেকে শুরু করে আধুনিকতার কোমল স্পর্শে নির্মিত লোটাস টেম্পল। আছে হুমায়ুন সমাধিসৌধ, লাল কেল্লা, পুরনো কেল্লা। ঘুরে দেখতে পারেন রাষ্ট্রপতি ভবন এবং ইন্ডিয়া গেট।

কীভাবে যাবেন : সড়ক পথ, রেলপথে গেল ১১ হাজার টাকায় দিল্লি ঘোরা সম্ভব। সড়ক পথে যেতে ঢাকার কল্যাণপুর থেকে কেটে নিন বাসের টিকেট। কলকাতা পৌঁছে কেটে নিন সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন রাজধানী এক্সপ্রেসের টিকিট, যা আপনাকে নামিয়ে দেবে নিউ দিল্লি রেলস্টেশনে। চাইলে অন্যান্য ট্রেনের টিকেটও কাটতে পারেন, যার মধ্যে রয়েছে ইউভা এক্সপ্রেস যেটি আপনাকে নিয়ে যাবে আনন বিহার রেলস্টেশন দিল্লি, কালকা মেল আপনাকে নামিয়ে দিবে পুরাতন দিল্লি রেলস্টেশনে। এ ছাড়া আরো অনেক ট্রেন রয়েছে যা কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত যাতায়াত করে।

গোয়া সমুদ্র সৈকত

সমুদ্র বিলাসে গোয়া, বাজেট ৯ হাজার

সাগর, বালি, সৈকতে রক্তিম সূর্য্যের অনাবিল দৃশ্য আর সমুদ্র তরঙ্গে আছড়ে পড়া ঢেউ, সবুজ পাহাড়সহ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখতে কার না ভালো লাগে। এই সবকিছু যদি একসঙ্গে দেখতে চান তবে নিশ্চিতে যেতে পারেন ভারতের গোয়া। জলপ্রপাত, প্রাচীন গুহা, ঐতিহাসিক গির্জা কী নেই এখানে। সৈকতে নারকেল গাছের সারি, পানকৌরি-বকসহ নানা পরিযায়ী পাখির কলতান, আর স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা দেখতে রোজ গোয়ায় ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। কয়েক দশক ধরেই বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু গোয়া।

কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে কলকাতা পৌঁছে যদি শরীরে যথেষ্ট শক্তি থাকে তাহলে থাকার দরকার নেই, আসল সফরের জন্য রওনা হতে পারেন। কলকাতার শিয়ালদাহ স্টেশনে পৌঁছে বের হয়ে খাবার খেয়ে নিন। তারপর লোকাল বাসে চলে যাবেন হাওড়া রেল স্টেশনে। স্টেশনে পৌছে ইনফরমেশন উইন্ডোতে খোঁজ নেবেন গোয়ার ট্রেন কয়টায়। সপ্তাহের প্রতিদিনই কয়েকটা ট্রেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ছেড়ে যায়। ইনফরমেশন নিয়ে চলে যাবেন কারেন্ট টিকিট কাউন্টারে। সেখান থেকে টিকিট কাটুন, সময় লাগবে ট্রেনের অনুপাতে ২৮ ঘন্টা/২২ ঘন্টা/৩৬ ঘণ্টা। ট্রেনে যাতায়াত করলেই ৯ হাজারের মধ্যেই ঘোরা সম্ভব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে