দূরবীনপ্রথম প্রহর

কম্পিউটার ব্যবহারে সাবধান!

ফাতিমাতুজ্জোহরাডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ফাইল ছবি

ডিজিটাল এই যুগে কম্পিউটার ছাড়া জীবন প্রায় অচল। দৈনন্দিন কাজে আমরা সবাই কমবেশি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকি। আমাদের জীবনে কম্পিউটারের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না। যেমন, গেম খেলা, সিনেমা দেখা ও নানান রকম বিনোদনের উৎস হিসেবেও আজকাল কম্পিউটারকে বেছে নেয়া হয়। কিন্তু কম্পিউটারের প্রভাব আমাদরে জীবনযাত্রাকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। কম্পিউটার আমাদের জীবনে কতটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা জানবো আজ-

বেশির ভাগ সময় আমরা কম্পিউটারে বসে কাজ করে থাকি। এ জন্য আমাদের হাঁটা-চলা হয় না বললেই চলে। যাদের কম্পিউটারে বেশি কাজ করতে হয় তাদের শরীরের মেদ দিনে দিনে বেড়ে যায়। মেদ বাড়ার ফলে শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও শিশুরা আজকাল কম্পিউটারে গেম খেলে, সিনেমা দেখে। যে কারণে তারা মাঠে খেলাধুলা করার কথা ভুলে গেছে! এ জন্য শিশুদের শরীরেও প্রচুর মেদ জমা হয়। মেদ জমা হলে অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় ও ডায়বেটিকস হবার সম্ভাবনা থাকে। যতই কম্পিউটারে কাজ থাকুক না কেনো সারাদিনে কিছুটা সময় বাইরের আলো বাতাসে হাঁটতে হবে। যাতে শরীরে কোনো ভাবে মেদ জমা না হয়।

কম্পিউটারে বসে একনাগাড়ে কাজ করলে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রাও অনেক কমে যায়। ফলে শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে পেশীতে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। তাই রক্ত চলাচল ঠিক রাখার জন্য কম্পিউটারে কাজ করার মাঝে মাঝে উঠে খানিকটা হাঁটা স্বাস্থের জন্য ভালো।

একনাগাড়ে বেশি সময় কাজ করলে চোখের উপর প্রচুর প্রেশার পড়ে। এ জন্য অনকে সময় চোখ লাল হয়ে যায় ও চোখ ফুলে যায়। তাই কাজের মাঝে কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে দূরের কোনো জিনিস দেখা চেষ্টা করবেন। এছাড়া মাঝে মাঝে কম্পিউটার টেবিল থেকে উঠে চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে পারেন। তাহলে চোখ ঠান্ডা হবে ও আরাম পাবেন।

কম্পিউটারে বেশি সময় কাজ করলে শরীর ও মন দুটোরই বিশ্রাম খুব কম হয়। যারা কম্পিউটারে বেশি সময় ধরে কাজ করনে প্রায়ই সময় তাদের মাথা ব্যথা ও ঘাড় ব্যথা হয়ে থাকে। কারণ একনাগাড়ে বেশি সময় বসে থাকলে শরীরে অনেক যন্ত্রণা হয়। এছাড়াও চোখে খুব বেশি প্রেশার পড়ার কারণেও মাথা ব্যথা হয়। এ জন্য কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখ মাঝে মাঝে স্ক্রিন থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া ঘাড় নাড়া-চাড়া করতে হবে ও উঠে দাঁড়াতে হবে।

অনেক্ষণ একনাগাড়ে কম্পিউটারে কাজ করলে রাতের ঘুমও ভালো হয় না। কারণ এক গবেষণার তথ্যমতে, একটানা ৫ঘণ্টার বেশি কম্পিউটারে কাজ করলে ঘুমের ব্যঘাত ঘটে। এ জন্য কাজের মাঝে কিছু সময়রে জন্য বিশ্রাম নেয়া জরুরি।

কম্পিউটারের সুফলের পাশাপাশি কুফলও কম নয়। অনেক সময় ওয়বেসাইটে আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে থাকি। কিন্তু এগুলো একদমই ঠিক নয়। সাইবার ক্রাইমের কারণে কম্পিউটারে সুফল থেকে আমরা অনকেটাই দূরে সরে যাচ্ছি। হ্যাকাররা আমাদের ব্যক্তিগত ওয়েব-সাইটের তথ্য হ্যাক করে অনেক সময় বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করে থাকে। যার কারণে আমরা কম্পিউটারের যুগে অনেক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই যতটা সম্ভব নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ওয়েব-সাইটগুলোতে না দেয়ার চেষ্টা করবেন।

ডেইলিবাংলাদেশ/এনকে