Alexa কবিরাজের দোহাই দিয়ে ধর্ষণ, পরে গলায় তার পেঁচিয়ে হত্যা

গৃহপরিচারিকা আয়েশাকে ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন

কবিরাজের দোহাই দিয়ে ধর্ষণ, পরে গলায় তার পেঁচিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৯ ২১ জুলাই ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় গৃহপরিচারিকা আয়েশা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে আয়েশার কাছে ফিরিয়ে আনার কথা বলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে ঘাতক নাজমূল। তার স্বামীকে ‘বাঁধা বান’ মারা হয়েছে এবং এর থেকে মুক্ত করতে কবিরাজের দোহাই দিয়ে চেতনানাশক খাইয়ে আয়েশাকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে সে। পরে গলায় জিআই তার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।

রোববার ডিবি (উত্তর) গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েন ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ এলাকা থেকে নাজমুলকে গ্রেফতার করা হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরে, তাকে নিয়ে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ঘুমের ওষুধ, জিআই তার ও ভিকটিমের ব্যবহৃত সিম কার্ড।

১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও আট বছরের এক মেয়ে সন্তানের জননী আয়েশা আক্তার। হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে আয়েশার এক যুগের সংসার প্রায় ভেঙেছে বছর দুয়েক হলো। স্বামী ট্রাকচালক দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন টাঙ্গাইলে। আর আয়েশা থাকতেন ভাটারা এলাকার এক নিম্নবিত্ত ভাড়া বাড়িতে। তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করে কোনো মতে জীবিকা নির্বাহ করতো দুই সন্তানকে নিয়ে। 

মো. গোলাম সাকলায়েন জানান, স্বামীকে ফেরত পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন আয়েশা। প্রতিবেশী নাজমুল এরই সুযোগ নেয় তার। নাজমুল পেশায় কিছুদিন আগে পর্যন্ত প্রাইভেট গাড়িচালক হলেও বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসায়ী। 

ঘাতক নাজমুল

আয়েশার সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে। আয়েশাকে নাজমুল বুঝাতে সক্ষম হয় যে, এক কবিরাজের ‘বান’ মারার কারণেই তার স্বামী জসিম দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। আর আয়েশাকে ছেড়ে দ্বিতীয় বউ নিয়ে অন্যত্র বসবাস করে। এমনকি নিজের ছেলে মেয়েদের উপরেও নেই কোনো টান। 

এরকম অবস্থা থেকে কীভাবে বাঁচা যায়, কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে স্বামীকে, ছেলে-মেয়েরা কীভাবে পাবে তাদের বাবার আদর-ভালোবাসা? এই প্রশ্ন গুলোর পেছনের হতাশায় সব হারিয়ে ফেলে আয়েশা, এমনকি তার নিজের জীবনও। 

আয়েশা’র স্বামীকে বসে আনার উদ্দেশ্যে প্রতারণা করে এরইমধ্যে নাজমুল প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং কবিরাজের কথা বলে তার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরমধ্যেই আয়েশার স্বামী জসিম উদ্দিন টাঙ্গাইল থেকে ছোট বউকে সঙ্গে করে ঢাকায় এসে তার বোনের বাসায় ওঠে। এ খবর দিয়ে সুযোগ নেয় নাজমুল। আয়েশাকে বুঝাতে চেষ্টা করে যে কবিরাজের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে। 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনার দিন চলতি মাসের ৪ তারিখে বিভিন্ন সময় আয়েশা নাজমুলকে অনেকবার ফোন দিতে থাকে। সব শেষ রাত ১টার সময় তার সঙ্গে কথা হয় নাজমুলের। পরে আয়েশার বাসায় যায় সে। এ সময় আয়েশার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়ে তার। 

এর এক পর্যায়ে উত্তেজিত গলায় আয়েশা বলেন, আমার টাকা নিয়েছেন, চরিত্র নষ্ট করেছেন। এখন আমার স্বামীও আসলো না; তাহলে আমার টাকা ফেরত দেন। নইলে ভালো হবে না। 

দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় নাজমুল। তখন পকেটে থাকা ঘুমের ওষুধ নিয়ে আয়েশাকে বুঝায় যে- তাকে ‘বাঁধা বান’ মেরেছে তার সতীন হামিদা। তাই কবিরাজ ওষুধ দিয়েছে আয়েশাকে খেতে হবে। পরে পানির বোতলে ২টা ঘুমের ওষুধ গুলিয়ে খাইয়ে দেয় তাকে। তারপর শারীরিক মিলন করে তারা। পরক্ষণেই আয়েশা নাজমুলের সঙ্গে আবার তর্ক করে। জিজ্ঞাসা করে- কীভাবে স্বামীকে তার নিজের কাছে ফেরত আনা যাবে? তখন নাজমুল তাকে বুঝাতে সক্ষম হয়, যেহেতু তাকে ‘বাঁধা বান’ মারা হয়েছে তাই তাকে হাত-পা বেঁধে মিলিত হতে হবে। কথা মতো আয়েশার হাত-পা বাঁধা হয়। এরমধ্যে ওষুধের ক্রিয়ায় অচেতন হয়ে পড়ে আয়েশা। নাজমুল তখন তার সঙ্গে আবার মিলিত হয়। পরে গলায় জিআই তার পেঁচিয়ে হত্যা করে তাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics