কবর থেকে তোলা হলো রাজাকার নজরুলের মরদেহ

কবর থেকে তোলা হলো রাজাকার নজরুলের মরদেহ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৯ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২০:২৭ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ঋণের বোঝা সইতে না পেরে নজরুল রাজাকার গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করলেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। ঘটনার চার মাস পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মনাতদন্তের জন্য কবর থেকে নজরুলের মরদেহ উঠানো হয়েছে। 

গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া কবরস্থান থেকে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমা খাতুনের উপস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশ ওই মরদেহ উঠায়। 

নিহত নজরুল ইসলাম পৌর সদরের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার আতাহার আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পার্শবর্তী খামারনাচকৈড় খোয়ার পাড়া মহল্লার মেসার্স হাজী দশরত ব্রিকসের (এমডিবি) ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নজরুল ইসলাম তালিকাভুক্ত রাজাকার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীর মামলা চলমান রয়েছে। নজরুল দীর্ঘদিন ধরে ইট ভাটায় চাকরির সুযোগে অগ্রিম ইট বিক্রির নামে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। কিন্তু নিদির্ষ্ট সময়ে ইট সরবরাহ করতে না পারায় পাওনাদাররা চাপ দিতে থাকেন।

ঋণের চাপ সইতে না পেরে নজরুল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে গত বছরের ১৩ অক্টোবর গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কিন্তু সে সময় কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়। ঘটনার দেড় মাস পর ৫ ডিসেম্বর নজরুলের ছেলে শাহবুদ্দিন বাদী হয়ে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্য মামলা করেন। মামলায় ইটভাটা মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম, বাবু, দশরত আলী ও ভাটার বর্তমান ক্যাশিয়ার রান্টু প্রামণিককে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযুক্ত মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের ইটভাটার প্যাড ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের কাছে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ইট অগ্রিম বিক্রি করে ওই টাকা ক্যাশে জমা না করে পারিবারিক কাজে ব্যয় করেন। পরে ইট সরবরাহ করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। ঋণের দায়ে নজরুল ইসলাম আত্মহত্যা করলেও বাড়তি সুবিধা আদায়ের জন্য দেড়মাস পর মিথ্যা হত্যা মামলা করেছেন পরিবারের লোকজন।      

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ