Alexa কন্যাসন্তান জন্ম নেয় না ১৩২ গ্রামে, রহস্যটা কী?

কন্যাসন্তান জন্ম নেয় না ১৩২ গ্রামে, রহস্যটা কী?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ২৩ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৯ ২৩ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কন্যা সন্তান প্রত্যেক বাবা-মায়ের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে! তবে কেন ১৩২টি গ্রাম জুড়ে নেই কোনো কন্যা সন্তানের দেখা। গত তিন মাসে গ্রামগুলোতে জন্মেছে মোট ২১৬টি শিশু। কিন্তু, অবাক করার বিষয় এই ২১৬টি শিশুর মধ্যে নেই একটিও কন্যা সন্তান! শুধু তাই নয়, আরো অন্তত ৬৬টি গ্রামে কন্যা সন্তান জন্মের হার পুত্র সন্তানের তুলনায় নগণ্য। কথা হচ্ছে উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার।

এই জেলার লিঙ্গ-অনুপাতের পরিসংখ্যান রীতিমতো উদ্বেগজনক। উত্তরকাশীর ৮২টি গ্রাম চিহ্নিত হয়েছে রেড-জোন হিসেবে। যেখানে নারী-পুরুষের অনুপাত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে, সবচেয়ে উদ্বেগের পরিসংখ্যান সম্ভবত কন্যা সন্তান জন্মের হার।

যে ১৩২টি গ্রামে গত ৩ মাসে একটিও কন্য সন্তান জন্মায়নি যার মধ্যে ১৬টি গ্রাম এমন রয়েছে যেখানে গত ৬ মাসে ভূমিষ্ঠ হয়নি কোনো কন্যা সন্তান। কিন্তু, এমনটা কীভাবে সম্ভব উত্তর পাচ্ছেন না জেলা কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক হারে কন্যা ভ্রুণ হত্যা না হলে চিত্রটা এমন হওয়া সম্ভব নয়। 

স্থানীয় এক সমাজসেবী বলছেন, কন্যা ভ্রুণ হত্যা না হলে এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। ৩ মাস বা ৬ মাস ধরে কোনো কন্যা সন্তান না হওয়াটা নেহাতই কাকতালীয় হতে পারে না। দিনে দুপুরে ভ্রুণ হত্যা হচ্ছে অথচ সরকার বা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। গর্ভস্থ ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ভারতে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তা সত্ত্বেও কীভাবে এমনটা হচ্ছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।

উত্তরকাশী জেলার জেলা শাসক ডা. আশিস চৌহান বলছেন, যে যে এলাকায় কন্যাসন্তান জন্মের হার শূন্য বা নগণ্য সেই এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আমরা এই এলাকাগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখছি। কী কারণে এমনটা হচ্ছে, সেটাও খোঁজার চেষ্টা চলছে। 

জেলাশাসক এ প্রসঙ্গে জেলার আশা কর্মীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকও করেছেন। যেসব জেলায় শিশুমৃত্যুর পরিমাণ বেশি সেসব এলাকায় আরো বেশি নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি এমনই যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র রাওয়াত। 

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলছেন, এ বিষয়ে কর্মকর্তাদর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এটা ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্পের বিরোধী। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে গত ছ’মাসে এই গ্রামগুলোতে কতজন গর্ভবতী ছিলেন এবং কয়টি সন্তানের জন্ম হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস