Alexa ‘কণ্ঠ’ শুধুমাত্র সিনেমা নয়, একটা মিশন: শিবপ্রসাদ 

‘কণ্ঠ’ শুধুমাত্র সিনেমা নয়, একটা মিশন: শিবপ্রসাদ 

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:২৬ ৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:৫৪ ৭ নভেম্বর ২০১৯

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে শুক্রবার মুক্তি পাবে কলকাতার আলোচিত ছবি ‘কণ্ঠ’। ছবিটি নির্মাণ করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। প্রাক্তন, বেলাশেষে, পোস্ত ও হামি’র মতো সুপারহিট ছবির নির্মাতা শিবপ্রসাদ পরিচালনার পাশাপাশি ‘কণ্ঠ’ ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বুধবার দুপুরে সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেখান থেকে বিশেষ অংশ লিখেছেন নাজমুল আহসান

একই ছবিতে পরিচালক-অভিনেতা, কিভাবে দুটি কাজ একসঙ্গে করেছেন?
সচারাচর অভিনয় করা হয় না। যদিও অভিনেতা হিসেবেই ইন্ডাষ্ট্রিতে কাজ করতে এসেছিলাম। এই সিনেমায় নন্দিতা রায় পরিচালক হিসেবে আমাকে সুযোগ দিয়েছেন- এজন্য তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এছাড়া পাওলি দাম, জয়া আহসানের মতো অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করেছি- এটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। আর পরিচালক হিসেবে বলবো একই সিনেমায় পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে কাজ করে ভালো লেগেছে।

অভিনেতা শিবপ্রসাদকে কতো নম্বর দিবেন? 
আমার মনে হয় এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নন্দিতা রায় ভালো দিতে পারবেন। কারণ এই উত্তর পরিচালক শিবপ্রসাদের পক্ষে দেয়া খুব কঠিন। ভালো অভিনয় করার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় বাকিটা দর্শক ভালো বলতে পারবেন- একজন অভিনেতা হিসাবে কেমন অভিনয় করেছি। 

কলকাতায় ‘কণ্ঠ’ সফল। যদিও আমাদের ভাষা এক, তারপরও বাংলাদেশ ও কলকাতার দর্শকদের মাঝে চিন্তা-চেতনার পার্থক্য রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের দর্শক ‘কণ্ঠ’ সিনেমা কেন দেখবে?
আমার কাছে কখনো এমনটি মনে হয় না। আমি পুরোপুরি ভুল হতে পারি। আমার মনে হয়- ‘মাটির ময়না’ দুদেশের মানুষের মন জয় করেছে। ‘আহারে’, ‘আয়নাবাজি’ বাংলাদেশের সবার মন জয় করেছে, আমারো মন জয় করেছে। কাজেই সিনেমার একটাই ভাষা হয়, ভালো অথবা খারাপ। আমার যে সিনেমা বানিয়েছি সেটা হয় মানুষের হৃদয় জয় করবে, না হয় করবে না। ভারতে ভালো লাগছে কিন্তু বাংলাদেশে ভালো লাগবে না- তা আমি মনে করি না। ‘পথের পাঁচালী’ দুই বাংলার দর্শকের ভালো লেগেছে। আমাদের নিজেদের সিনেমা দিয়ে বিচার করে বলতে পারি ‘বেলাশেষে’, ‘প্রাক্তন’, ‘পোস্ত’, ‘হামি’ প্রত্যেকটি সিনেমা ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়েছে। ঠিক একইভাবে আমার ধারণা ‘কণ্ঠ’ ভারতে যেভাবে জনপ্রিয় হয়েছে, বাংলাদেশেও একই রকম জনপ্রিয় হবে।

বাংলাদেশের  সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছে আছে?
আমি নায়ক হিসেবে প্রথম কাজ করেছি বাংলাদেশের ‘একটি নদীর নাম’ সিনেমায়। সেখানে শমী কায়সার আমার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এই ছবি করতে গিয়ে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ঢাকা, গোয়ালন্দে ও পদ্মা নদীতে শুটিং করেছি। কাজেই বাংলাদেশের সঙ্গে আমার অন্যরকম এক যোগ আছে। বাংলাদেশে আমার খুব প্রিয় একজন পরিচালক আছে আমার বন্ধু ‘আহারে’ সিনেমার পরিচালক নির্ঝর। আমি মনে করি আহারের মতো সিনেমা যদি কোনোদিন বানাতে পারি তাহলে বলতে পারবো একটি ভালো সিনেমা বানাতে পেরেছি। এতো ভালো একটি সিনেমা নির্ঝর বানিয়েছেন যে আমি তার ভক্ত হয়ে গেছি। আমি জয়া আহসানের অভিনয়ের ভক্ত। আমি কৃতজ্ঞ যে, জয়া আমাদের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। 

বাংলাদেশের আর কাউকে নিয়ে সিনেমা বানানোর ইচ্ছে আছে?
চিত্রনায়ক শাকিবের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়েছে। শাকিব ও আমার যদি কোনো গল্প তৈরি হয় আমার খুব ভালো লাগবে। শাকিব অনেক ব্যস্ত নায়ক, যদি সময় দেন নিশ্চই কাজ করবো। ফেরদৌস আমার খুব ভালো বন্ধু, তার সঙ্গে কাজ করতে পারলে আমার ভালো লাগবে। অপি করিমের অভিনয় আমার ভালো লাগে, আমার যখন অল্প বয়স তখন বিপাশা হায়াতের অভিনয় ভালো লাগতো। তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারলে বেশ তৃপ্তি পেতাম। 

শুনেছি বাংলাদেশের সঙ্গে আপনাদের পৈতৃক যোগাযোগ আছে?
বাংলাদেশের বরিশালে আমার দাদুদের বাড়ি ছিলো। সেই সুত্রে এ দেশের সঙ্গে আমাদের আগে থেকেই পৈতৃকযোগ রয়েছে। শুনেছি বরিশালের উজিড়পুরে আমাদের পূর্ব পুরুষদের ভিটে রয়েছে। 

বাংলাদেশে ‘কণ্ঠ’ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
আমরা শুনেছি ‘বেলাশেষে’, ‘প্রাপ্তন’, ‘গোত্র’, ‘হামি’, ‘পোস্ত’ এখানকার দর্শকদের ভালো লেগেছে। আমার বিশ্বাস ‘কণ্ঠ’ও সবার ভালো লাগবে। কারণ কণ্ঠ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, কণ্ঠ আমাদের একটা মিশন। কণ্ঠ ভালোবাসার গল্প, লড়াইয়ের গল্প, একটা বাঁচার গল্প। যারা বাংলা সিনেমা দেখেন, যারা পাইরেসি সিনেমা দেখেন না, তাদের অনুরোধ করবো হলে গিয়ে সবাই ‘কণ্ঠ’ দেখুন। দুই বাংলার সিনেমার সবচেয়ে বড় শত্রু পাইরেসি। এটি যদি ঠেকাতে হয় দর্শকদের অবশ্যই হলে যেতে হবে। 

দক্ষিণ ভারতে না কী ‘কণ্ঠ’ ছবিটির রিমেক হচ্ছে?
অফিসিয়ালি আমাদের ছবিটির কপি রাইট কিনে নিয়েছে ওরা। মালায়ালাম ভাষায় তৈরি হবে ছবিটি। এটা ‘কণ্ঠ’ ছবির ক্ষেত্রে বিরাট প্রাপ্তি। আমরা সম্মানিত। মালায়ালামের জন্য যারা সিনেমাটির কপিরাইট নিয়েছে তারা পুরো সিনেমাটি কিন্তু দেখেননি। শুধুমাত্র ট্রেলার দেখেই তারা ছবিটি রিমেক করার সিদ্ধান্ত নেন। এটা আমার পুরো ক্যারিয়ারে বিরাট পাওয়া।

অভিনেত্রী জয়া আহসানকে আপনি দশে কতো দিবেন?
দেখুন, দশে তো দশ দেয়া যায়না। সেটা কেউ কাউকে দিতে পারে না। তবে দশের মধ্যে ৯ তো দিতেই পারি। 

যৌথ সিনেমা নিয়ে আপনার আগ্রহ কতটা?
যৌথ প্রযোজনা অথবা আমদানি-রপ্তানি যাই করি না কেন- সব কিছুর আগে পাইরেসি বন্ধ করতে হবে। মানুষের ভেতরে সেই চেতনা জাগাতে হবে। যে লোকটা পাইরেসি করে ইউটিউবে একটা ছবি আপলোড দেন তিনি তো তেমন কিছুই পাচ্ছেন না। কিন্তু তিনি সিনেমার ক্ষতি করে দিচ্ছেন। এতে সিনমার ব্যবসা নষ্ট হচ্ছে। কোনো চ্যানেল প্রচারের জন্য ছবিটি ভালো দামে আর কিনবে না। ডিজিটাল মাধ্যমেও সিনেমাটির দাম কমে যায়। তেলেগু বা তামিল ভাষার সিনেমা কিন্তু চাইলেই পাইরেসি করতে পারবেন না। কারণ তারা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। পাইরেসি বন্ধ না হলে দুই বাংলার কোনো সিনেমাই ব্যবসা করতে পারবে না। এটি দুই বাংলার হল আর ইন্ডাষ্ট্রি ধ্বংশের একটি মরনব্যাধি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ