কণ্ঠশিল্পীদের বিবাহ সমাচার
Best Electronics

কণ্ঠশিল্পীদের বিবাহ সমাচার

সৈয়দা সাদিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:০৪ ১৪ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গায়ক-গায়িকার আবির্ভাব ঘটেছে। এদের অনেকেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও ব্যক্তিজীবনে সংসার নিয়ে হোঁচট খাওয়ার সংখ্যাও কম নয়। আর এ কারণে এই কণ্ঠশিল্পীদের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে বারবার। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে এমন কিছু কণ্ঠশিল্পীদের একাধিক বিয়ের খবর, যা হয়তো অনেকের অজানা। আবার কেউ কেউ জানলেও পুরোপুরি জানেন না। 

চলুন দেখে নেয়া যাক এই তারকাদের সম্পর্কে-

শাকিলা শর্মা: জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শাকিলা শর্মা। যিনি শাকিলা জাফর নামে অধিক পরিচিত। তিনি হচ্ছেন একজন বাংলাদেশি গায়িকা। তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশি মিডিয়ায় কাজ করছেন। শাকিলা জাফর তার কর্মজীবনে অসংখ্য গান গেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘বন্ধু আইব পালকি নিয়া আমার বাড়ি রে’, ‘আকাশ ছুঁতে পারনি বলে নীলিমার জন্য হাহাকার’, ‘পাথরের পৃথিবীতে কাঁচের হৃদয়’, ‘পৃথিবীকে সাক্ষী রেখে’, ‘পাইছি গো পাইছি গো আজকে তোমায় পাইছি গো’সহ প্রভৃতি। 

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখন আর আগের নাম নেই এই শিল্পীর। শাকিলা জাফর থেকে নাম পাল্টিয়ে তিনি হয়েছেন ‘শাকিলা শর্মা’। নতুন বিয়ের কারণেই তার নামের এই পরিবর্তন। তার নামের সঙ্গে জাফর ছিল আগের স্বামীর নামের অংশ হিসেবে। ডিভোর্সের পরও তিনি নামটি না পাল্টালেও নতুন বিয়ের পর ঠিকই পাল্টেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন: সাবিনা ইয়াসমিন। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। দেশাত্মবোধক গান থেকে প্রায় চার দশক ধরে বাংলা গানের বিভিন্ন ধারার নানান (উচ্চাঙ্গ ধ্রুপদ, লোকসঙ্গীত থেকে আধুনিক বাংলা গানসহ চলচ্চিত্র) মিশ্র আঙ্গিকের সুরে শিল্পীর অবাধ যাতায়াতে সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী।

তার সব ক’টা জানালা খুলে দাও না, মাঝি নাও ছাড়িয়া দে, সুন্দর সুবর্ণ – এ ধরনের গান গেয়ে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী তিনি। ছায়াছবিতে ১২ হাজারের মতো গান করছেন তিনি। দশবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও।

সাবিনা ইয়াসমিনও ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। তিনি প্রথমে বিয়ে করেছিলেন এক ব্যাংক ম্যানেজারকে। সেই সংসারে তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু বেশিদিন টেকেনি সে সংসার। এরপর তিনি বিয়ে করেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবুকে। দীর্ঘদিন সংসার করার পর তাদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এ সংসারে রয়েছে সাবিনার এক পুত্রসন্তান। পরে এই শিল্পী বিয়ে করেন কলকাতার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সুমন চট্টোপাধ্যায়কে, যিনি পরে ধর্মান্তর হয়ে কবির সুমন নাম ধারণ করেন।

রুনা লায়লা: উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। এই শিল্পী বাংলাদেশে চলচ্চিত্র, পপ ও আধুনিক সঙ্গীতের জন্য বিখ্যাত। তবে বাংলাদেশের বাইরে গজল শিল্পী হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে তার সুনাম আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই তিনি চলচ্চিত্রের গায়িকা হিসাবে কাজ শুরু করেন। 

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় এবং পাকিস্তানী চলচ্চিত্রের অনেক গানে রুনা লায়লা কণ্ঠ দিয়েছেন। তিনি বাংলা, উর্দু, পাঞ্জাবি, হিন্দি, সিন্ধি, গুজরাটি, বেলুচি, পশতু, ফার্সি, আরবি, মালয়, নেপালি, জাপানি, স্পেনীয়, ফরাসি, লাতিন ও ইংরেজি ভাষাসহ মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান করেছেন। পাকিস্তানে তার গান দমাদম মাস্ত কালান্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল।

এ গায়িকাও এই পর্যন্ত তিনবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। তার প্রথম বিয়ে হয় খাজা জাভেদ কায়সার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন সুইজারল্যান্ডের নাগরিক রন ড্যানিয়েলকে। সর্বশেষ তিনি গাঁটছড়া বাঁধেন বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা-পরিচালক আলমগীরের সঙ্গে।

সামিনা চৌধুরী: আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী। তিনি বেশিরভাগই আধুনিক ও শাস্ত্রীয় গান গেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য গানগুলির মধ্যে রয়েছে, জন্ম থেকেই জ্বলছি মাগো, আমার বুকের মধ্যখানে, আমার দুই চোখে দুই নদী, একবার যদি কেউ, কবিতা পড়ার প্রহর, ফুল পথে ফুল ঝরে প্রভৃতি। তিনি ২০০৫ সালে এনটিভিতে প্রচারিত ক্লোজআপ ওয়ান সংগীত প্রতিভা প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। 

এছাড়াও তিনি চ্যানেল আই এর ‘ক্ষুদে গান রাজ’, মাছরাঙ্গা টেলিভিশন এর ‘ভালবাসি বাংলাদেশ’-এর বিচারকসহ আরো অন্যান্য কিছু রিয়্যালিটি শো অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়াও সামিনা চৌধুরী বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন। তার অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি, সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসাবে জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০০৬), শ্রেষ্ঠ মহিলা কণ্ঠশিল্পী হিসাবে বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৪) এবং শ্রেষ্ঠ গায়িকা (২০০৫) এর জন্য মেরিল প্রথম আলো আলো পুরস্কার অর্জন করেছেন।

তিনি বিখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব প্রয়াত মাহমুদুন্নবীর কন্যা এবং বিখ্যাত সংগীত শিল্পী ফাহমিদা নবীর ছোট বোন। তবে এই গায়িকা ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক নকীব খানকে। কিন্তু মতের অমিল হওয়ায় সে বিয়ে ভেঙে যায় তাদের। পরে সামিনা চৌধুরী বিয়ে করেন অনুষ্ঠান নির্মাতা এজাজ খান স্বপনকে।

ডলি সায়ন্তনী: ডলি সায়ন্তনী। গানের ভুবনে সাফল্যের শিখরে পৌঁছলেও এই শিল্পী ব্যক্তিজীবনে সংসার নিয়ে হোঁচট খেতে হয়েছে কয়েকবার। প্রথমে তিনি বিয়ে করেছিলেন গীতিকার আহমেদ রিজভীকে। এই সংসার ভেঙে যাওয়ার পর ডলি ভালোবেসে বিয়ে করেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে। কিন্তু এই ভালোবাসার সংসারও টেকেনি। পরবর্তী সময়ে ফাইজান নামে  চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী।

মমতাজ: মমতাজ একজন জনপ্রিয় বাংলা লোকগানের সংগীতশিল্পী এবং জাতীয় সংসদের তিনবারের এমপি। বাংলাদেশের সুর সম্রাজ্ঞী বলে খ্যাত এই শিল্পী চার দশকের গানের ক্যারিয়ারে ৭০০-এর অধিক গান রেকর্ড করেছেন। মমতাজের প্রথম স্বামী আবদুর রশীদ সরকার। তার দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন মানিকগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রমজান আলী। এটি মোহাম্মদ রমজান আলীরও দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। মমতাজের তৃতীয় স্বামী মইনউদ্দিন হাসান চঞ্চল। যিনি মমতাজের প্রতিষ্ঠিত মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। মইনউদ্দিন হাসান চঞ্চলের এটি দ্বিতীয় বিয়ে।

নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি: নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। তিনি ন্যান্সি নামে বেশ পরিচিত হলেও শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশে দারুণ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। ন্যান্সির সঙ্গীত জীবন শুরু হয় ২০০৬ সালে হৃদয়ের কথা চলচ্চিত্রের গান গেয়ে। ২০০৯ সালের তার প্রথম অ্যালবাম ভালোবাসা অধরা মুক্তি পায়। ২০১১ সালের প্রজাপতি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি প্রথমবারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। 

এছাড়া মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী (নারী) বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। এই শিল্পী ২০০৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন ব্যবসায়ী আবু সাঈদ সৌরভকে। ২০১২ সালের ২৪মে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ছয় বছরের সংসার জীবনের ইতি ঘটে। পরে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ তিনি নাজিমুজ্জামান জায়েদকে বিয়ে করেন। জায়েদ ময়মনসিংহ পৌরসভায় চাকরি করছেন এবং ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

হৃদয় খান: জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী হৃদয় খান। একজন বাংলাদেশি গায়ক এবং সুরকার। তার প্রথম এ্যালবাম হৃদয় মিক্স প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল হৃদয় খান বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সুরকার। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনিও ২০১০ সালের শুরুর দিকে পূর্ণিমা আকতার নামের একজনকে বিয়ে করেছিলেন। ছয় মাসের মাথায় সেই সংসার ভেঙে যায়। তার আগে সাত বছর প্রেম করেন নওরীন নামের আরেকজন মেয়ের সঙ্গে। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন মডেল সুজানাকে। তার সেই বিয়ে টিকেছিল মাত্র চার মাস। সর্বশেষ, হৃদয় খান আবারো বিয়ে করেছেন। তার বউয়ের নাম হুমায়রা, থাকেন মালেয়শিয়ায়।

রবি চৌধুরী: জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। তিনিও তিন তিনবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। এর আগে, রবি চৌধুরী ভালোবেসে সহশিল্পী ডলি সায়ন্তনীর সঙ্গে ঘরে বেঁধেছিলেন। তাদের সংসারে একটি সন্তানও জন্ম নিয়েছিল। কিন্তু সে সংসার বেশীদিন টিকেনি। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামের একটি মেয়েকেও বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সে সংসারও টিকেনি। 

পরবর্তীতে রবি চৌধুরী ভালোবেসে বিয়ে করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রিফাত রামিজাকে। ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে তারা রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় শিল্পীর নিজের বাসায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এর পাঁচ মাস পরে ২৬ জুলাই নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হাসপাতালে কন্যাসন্তানের পিতা হওয়ার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে মুখরোচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হন রবি চৌধুরী। তবে তাদের সন্তানের নাম রাখা রায়না চৌধুরী রোজা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics