কঙ্কাল উপকূলে গেলেই কুয়াশায় পথ হারিয়ে মৃত্যু ঘটে!

কঙ্কাল উপকূলে গেলেই কুয়াশায় পথ হারিয়ে মৃত্যু ঘটে!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৫৯ ১৪ মে ২০২০  

স্কেলিটন বা কঙ্কাল উপকূল নামিবিয়ার আটলান্টিক উপকূলের উত্তর অংশ। যা কুনেনি নদী থেকে অ্যাঙ্গোলার দক্ষিণে স্কপ নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানকার আবহাওয়া জীবন ধারণের জন্য খুবই বৈরী প্রকৃতির। 

ব্যুশম্যানরা এই অঞ্চলকে অভিহিত করেছেন, ঈশ্বরের প্রচণ্ড ক্রোধে সৃষ্ট স্থান হিসেবে। আর পর্তুগিজ নাবিকরা কঙ্কাল উপকূলকে নরকের দ্বার হিসেবে অভিহিত করেছেন। আটলান্টিক মহাসাগরের শীতল বেঙ্গুয়েলা স্রোতের প্রভাবে স্কেলিটন উপকূল বছরের বেশিরভাগ সময় ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে। 

কঙ্কাল উপকূলঅবস্থানের কারণে সেখানে বায়ু স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণও সেখানে অনেক কম। বছরে মাত্র ১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। তাপমাত্রা প্রায় নিয়মিত ৪৫ ডিগ্রি থাকে। স্কেলিটন উপকূল বসবাসের জন্য চরম অনুপযোগী। খুব কম সংখ্যক প্রাণী সেখানে বেঁচে থাকতে পারে। 

তবুও বেবুন, জিরাফ, সিংহ, হাতি, কালো গণ্ডার প্রভৃতি প্রাণী এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।সমুদ্রের ঢেউ এবং পানির বৈশিষ্ট্যের কারণে এই উপকূলের পানিতে ভারী ফেনা জমে। ইঞ্জিনচালিত জাহাজ এবং নৌকা এখন সহজে এই উপকূলে চলাচল করতে পারলেও আগের দিনে এটা সম্ভব ছিল না। 

নৌকার ধ্বংসাবশেষআগের দিনে কোনো জাহাজ বা নৌকা ভুলক্রমে স্কেলিটন উপকূলে প্রবেশ করলেও তীর থেকে যাত্রা করা অসম্ভব ছিল। তখন ভুলে চলে আসা কোনো জাহজের যাত্রীদের উপকূল থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় ছিল কয়েকশ’ মাইল দীর্ঘ জলাভূমি এবং উষ্ণ মরুভূমি পেরিয়ে যাওয়া।

অর্থাৎ ভুলে যেসব জাহাজ কঙ্কাল উপকূলে প্রবেশ করেছে সেসব জাহাজের নাবিকদের বেশিরভাগই মৃত্যুবরণ করে।উপকূলের বেশিরভাগ স্থান বালি দ্বারা আচ্ছাদিত। কিছু কিছু স্থানে পাথর আছে। এর দক্ষিণ অংশ কাঁকর সমভূমি নিয়ে গঠিত এবং টেরেস বে এর উত্তরাংশে উঁচু বালির টিলা লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে সার্ফিংয়ের জন্য স্কেলিটন বে খুবই পরিচিত স্থান। 

এমন অনেক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে কঙ্কাল উপকূলেস্থানটির নাম স্কেলিটন উপকূল বা কঙ্কালের তীর হওয়ার মূল কারণ এখানে প্রচুর তিমি এবং সিলের হাড় পড়ে থাকত। বহু আগে থেকে তিমি শিকার করা হলেও সপ্তদশ শতাব্দীতে সংঘবদ্ধভাবে জাহাজ বহরের মাধ্যমে শিল্প ক্ষেত্রে তিমি শিকারের প্রচলন ঘটে। মাংস এবং চর্বির জন্য তিমি শিকার করা হত। 

তিমির চর্বি দিয়ে এক প্রকার তেল প্রস্তুত করা হত যা শিল্প বিপ্লবের সময় ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আঠারো এবং উনিশ শতকে প্রতিযোগতামূলক তিমি শিকার শিল্প গড়ে ওঠে। বিশ শতকের প্রথমার্ধেও ব্যাপক হারে তিমি শিকার হত। ১৯৩০ এর দশকের শেষ দিকে বছরে প্রায় ৫০ হাজার তিমি হত্যা করা হত। ফলে তিমির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। 

বর্তমানে অনেক পর্যটকদের আনাগোনা ঘটে কঙ্কাল উপকূলেতিমির বেশ কয়েকটি প্রজাতি দ্রুত হ্রাস পেতে থাকায় আন্তর্জাতিক হোয়েলিং কমিশন আই ডব্লিউ সি ১৯৮৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে তিমি শিকার নিষিদ্ধ করে। সেখানে অবশ্য অনেক জাহাজের ধ্বংসাবশেষও আছে। শিলা কিংবা কুয়াশায় আটকা পড়ে যে জাহাজগুলো বের হতে পারেনি সেগুলো এখানেই ধ্বংস হয়েছে। 

বিস্তৃত কঙ্কাল উপকূলের বেশ কিছু অঞ্চলে এক হাজারেরও বেশি ছোট বড় জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেখানে গুলো আধুনিক সময়ের জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আছে। এক সময় অনেক জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস