Alexa ওষুধের পাতায় মেয়াদ-মূল্য স্পষ্ট থাকতে হবে: হাইকোর্ট

ওষুধের পাতায় মেয়াদ-মূল্য স্পষ্ট থাকতে হবে: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৭ ১৮ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৮:২৭ ১৮ জুলাই ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ওষুধের পাতায় স্পষ্টভাবে মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা করতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ ও ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, এটা প্রশংসনীয় কাজ। অভিযান শেষ করে থেমে থাকলে হবে না, তা চলমান রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বৃহস্পতিবার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে করা রিটের শুনানিতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অ্যাটর্নি জেনারেল দফতরে এ প্রতিবেদন দেন। যা বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি।

আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি বলেন, অভিযান পরিচালনা করা চলমান প্রক্রিয়া। আইনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

তিনি জানান, ১৭টি ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশে করে আদালত বলেন, এখন প্রযুক্তির যুগ। সবখানে পত্রিকা না পৌঁছলেও টিভি আছে। দুর্গম কোনো চরেও টিভি আছে। তাই ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে সচেতনতার জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া যায় কিনা দেখেন। যদিও এখানে অর্থনৈতিক বিষয় আছে। তারপরও এটা সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

আদালত বলেন, ওষুধের পাতায় উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য বড় করে দৃশ্যমান থাকতে হবে। অনেকে আবার ইংরেজি বুঝে না। কিন্তু আমাদের ওষুধ রফতানি হয়। তাই বাংলা ও ইংরেজিতে এগুলো থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে অভিযান চালানো হয়েছে। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তখন আদালত বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। এ অভিযান প্রশংসনীয়।

ওরস্যালাইন, কয়েকটি ইনজেকশন, হাঁপানিসহ কয়েকটি ওষুধ আদালতে উপস্থাপন করে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, 'ওষুধের মেয়াদ দৃশ্যমান করার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এগুলো দৃশ্যমান হওয়ার দরকার।

পরে আদালত ওষুধের পাতায় স্পষ্ট করে মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়ে ২২ আগস্ট শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার ওষুধ প্রশাসনের জমা দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে ৩৬ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে ১৫২টি মামলা। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানের জমা দেয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য রয়েছে।

গত ১৮ জুন সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়।

এরপর গত ১৭ জুন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই