ওরা বলত- আমাদের মৃত্যু একসঙ্গেই হবে, তাই-ই হলো

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলআরোহী দুই বান্ধবীর মৃত্যু

ওরা বলত- আমাদের মৃত্যু একসঙ্গেই হবে, তাই-ই হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৮ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর বনানীর সেতু ভবনের সামনে বুধবার মধ্যরাতে মোটরসাইকেল (স্কুটি) দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হন। নিহতদের একজনের নাম দুলদানা আক্তার কচি। তিনি পার্ল ইন্টারন্যাশনালের টেরিটরি অফিসার। অপরজনের নাম সোনিয়া। তিনি ভোলার মাছদেলছড়িয়ার রুহুল আমিনের মেয়ে। 

বনানী থানার এসআই আফজাল জানান, রাত দেড়টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুটি সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখি। স্কুটির নম্বর প্লেট (ঢাকা মেট্রো হ ২৪-৪২৮৩) ওপরে প্রেস লেখা রয়েছে। তবে তারা সাংবাদিক নন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মেয়ের লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোনিয়ার মা মনোয়ারা বেগম এবং তার স্বজনরা। মনোয়ারা বলেন, পাঁচ বছর আগে একটি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিংয়ের কাজ করতে গিয়ে সোনিয়ার সঙ্গে কচির পরিচয় হয়। তার পর থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সোনিয়া কাজ ছেড়ে দিলেও কচি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করত। এর পরও দুজনের বন্ধুত্বে কোনো ভাটা পড়েনি। দিনের অধিকাংশ সময় তারা একসঙ্গেই থাকত।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে দুদিন (সোমবার) আগে কচির বাসায় গিয়েছিল। মঙ্গলবার বনানীতে তাদের এক বন্ধুর বাসায় যায়, ফেরার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।’ 

কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরো বলেন, রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তারা ছিল আত্মার আত্মীয়। বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকে একজন অপরজনকে না দেখে একটি দিনও থাকতে পারত না। ওরা বলত- মৃত্যুও আমাদের আলাদা করতে পারবে না। আমাদের মৃত্যু একসঙ্গেই হবে। ওদের সে ইচ্ছাটাই যেন পূর্ণ করলেন সৃষ্টিকর্তা। মৃত্যুও ওদের আলাদা করতে পারেনি।

নিহত কচির মামা অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন জানান, মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে কচির নিউজ ও ছবি দেখে একজন তাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। এর পর ভোরে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে এসে তিনি কচির মরদেহ শনাক্ত করেন। কচি সকাল ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যেতেন। আবার রাত ১১টার আগেই বাসায় ফিরতেন। তবে মঙ্গলবার রাতে বান্ধবীকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন, তা তিনি জানেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ