Alexa ওপেন হচ্ছে আইসিসির সকল ইভেন্ট, সবগুলোয় বিড করবে বাংলাদেশ

ওপেন হচ্ছে আইসিসির সকল ইভেন্ট, সবগুলোয় বিড করবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪১ ২০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৫ ২০ জানুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশে ২০১১ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

বাংলাদেশে ২০১১ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ভবিষ্যতে ইভেন্ট আয়োজন পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত যে ইভেন্টগুলো হবে সেগুলো বিডিংয়ের (আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া) মাধ্যমে করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সব দেশ যেকোনো ইভেন্ট আয়োজনে বিড করতে পারবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, আইসিসির সবগুলো ইভেন্টেই বিড করবে বাংলাদেশ।

সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিসিবি বস। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানু সোহনির সাক্ষাতের ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন পাপন। তিনি বলেন, ‘ইভেন্ট আয়োজনে নতুন প্রস্তাব নিয়ে এসেছে আইসিসি। আইসিসির ইভেন্টগুলো আগে যেভাবে অ্যাওয়ার্ড (বণ্টন) করা হতো, এর সঙ্গে এবারের প্রস্তাবে একটা বিরাট পার্থক্য রয়েছে। এবার তারা নতুন একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছে যে, ২০২৩ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত যে ইভেন্টগুলো হবে- ছেলেদের আটটি, মেয়েদের আটটি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ এর আটটি। এই ২৪টি ইভেন্ট অ্যাওয়ার্ড করা হবে নতুন পদ্ধতিতে।’

বিসিবি প্রধান যোগ করেন, ‘ইভেন্ট আয়োজনে আগে যেটা হতো- অনেক সময় ঘুরে ঘুরে হতো, মহাদেশ অনুযায়ী হতো, সদস্য বিবেচনায় হতো, বোর্ডের সঙ্গে কথাবার্তা হতো। কিন্তু এবার আইসিসি যে পদ্ধতিটা করেছে, তা হচ্ছে বিডিং। এটা হচ্ছে ফিফার আয়োজনে এবং অলিম্পিকে যেটা করা হয়, সাধারণত দেশ বিড করে। আইসিসিও এ পদ্ধতিতে যাচ্ছে। এটা শুধু ক্রিকেটখেলুড়ে দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটা ওপেন।’

আইসিসির ইভেন্টে বিডিংয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কী সম্পর্ক জানতে চাইলে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘প্রথমে যে জায়গাটা, সিকিউরিটির বিষয়টা তো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইভেন্ট আয়োজনে অন্যতম বড় বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ইস্যুতে সবচেয়ে ভালো অবশ্য বাংলাদেশ, সেদিক দিয়ে অনেক বেটার (ভালো) আছি আমরা। ইন্ডিয়া হলে তাদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় আসবে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘রেটিং যখন করবে, তখন নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হবে। সুতরাং সেদিক দিয়ে যদি চিন্তা করতে হয়- সেজন্য তারা (আইসিসির উচ্চপর্যায়) এসেছে। আরও অন্যান্য জায়গায় যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আজ তারা সাক্ষাৎ করবে।’

২০২৩ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কি কি ইভেন্ট থাকতে পারে জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘অল ওয়ার্ল্ডকাপ, অল আইসিসি ইভেন্ট, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি- সবকিছু এতে আছে।’

আইসিসির কোন কোন ইভেন্টে বিড করতে পারে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নের উত্তরে পাপন বলেন, ‘অবশ্যই করবে। কারণ আমাদের একটা সুবিধা যে, অন্য নতুন কোনো দেশ যদি বিড করতে যায়, তারাও পারবে। কিন্তু তাদের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে প্রচুর টাকা লাগবে। নতুন কোনো দেশ ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজন করতে চাইলে তাদের মিনিমাম আটটা মাঠ প্রয়োজন হবে। আমাদের সুবিধা হচ্ছে আমরা যারা টেস্ট প্লেয়িং কান্ট্রি, তাদের অবকাঠামো উন্নয়নে তেমন কোনো ইনভেস্ট লাগছে না। সুতরাং সেজন্য আমরা একটু প্লাস পয়েন্টে থাকবো।’

হঠাৎ করেই আইসিসি এমন সিদ্ধান্তে কেনো যাচ্ছে জানতে চাইলে লাভের কথাকে তুলে আনেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, আমি যেটা বুঝতে পারছি সেটা হচ্ছে ইংল্যান্ডে যে গত ওয়ার্ল্ডকাপটা হয়েছে, সেখানে আনুমানিক তারা ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের মতো আয় করেছে। বিশ্বকাপের সময় তিন লাখ ট্যুরিস্ট ওখানে ছিল। এটাতে কিন্তু অন্য দেশের লাভ হয়নি। কিন্তু এখন আইসিসি যে পদ্ধতিটা করতে চাচ্ছে, তাতে যে টাকাটা আইসিসি বিডিং করে পাবে, সে টাকা আইসিসির সব সদস্য দেশের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে। তাহলে যেখানে হচ্ছে না তারাও কিন্তু লাভবান হবে।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল