Alexa ওজন মেপে বেঁচে আছেন এই বৃদ্ধ

ওজন মেপে বেঁচে আছেন এই বৃদ্ধ

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫১ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গায় একটি ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে এক বৃদ্ধকে প্রায়ই বসে থাকতে দেখা যায়। ৮০ বছরের ওই বৃদ্ধের নাম ফজল মুন্সি। বৃহস্পতিবার সকালে তার দেখা মিলল শহরের নিরালার মোড়ে। প্রতিদিনের মতো একই যন্ত্র নিয়ে বসে আছেন।

পথচারীদের ডেকে বলছেন বাবাজি, ওজন মেপে যান। এই সময়ের মধ্যে ৮০-৯০ টাকা উপার্জন হয়েছে। ফজল মুন্সির চেয়ে অনেক কম বয়সী ব্যক্তিরা বসে আছেন ভিক্ষার থলে নিয়ে। অথচ ৮০ বছরের এই বৃদ্ধ বেছে নিয়েছেন ওজন মাপার পেশা।

বৃদ্ধ বয়সে এমন পেশা বেছে নেয়ার গল্প জানালেন ফজল মুন্সি। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের কাকুয়ার চরে। ৪০ বছর আগে তার একমাত্র ছেলে মনিরুলকে জন্ম দেয়ার সময় মারা যান তার স্ত্রী। সময় পেরিয়ে মনিরুলের ঘরেও এখন দুই সন্তান। ছেলের দিকে তাকিয়ে ফজল মুন্সির দ্বিতীয় বিয়ে করাটা আর হয়ে উঠেনি। 

ছেলে ওয়ালটন কোম্পানিতে কাজ করলেও বাবার সঙ্গে তেমন সম্পর্ক না থাকায় ছেলে মনিরুল তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শহরের আকুরটাকুর পাড়ায় আলাদা বাড়িতে থাকেন। এদিকে বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় ফজল মুন্সির রাতের আশ্রয় পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া সংলগ্ন কাগমারা এলাকার একটি মসজিদে। বৃদ্ধ বয়স হলেও এখন জোটেনি বয়স্ক ভাতা। এজন্যই এই বয়সে বেছে নিয়েছেন ওজন মাপার পেশা। 

ফজল মুন্সি বলেন, আমার এই বয়সে অন্য কোনো কাজ করার শক্তি নেই। তাই ১৫শ’ টাকা দিয়ে ওজন মাপার যন্ত্রটি কিনেছি। প্রতিদিন দুই আড়াইশ’ টাকা উপার্জন করি। তিন বেলা খাবার খাই হোটেলে। এতে একশ’ টাকা লেগে যায়। বাকি এক-দেড়শ’ টাকা ভবিষ্যতের জন্য প্রতিদিন জমা রাখি। রাত হলেই আশ্রই নেই মসজিদে।

যৌবনে স্ত্রী হারা, বৃদ্ধ বয়সে ছেলে থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এমনকি ৮৫ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতা না পাওয়ায় ওজন মেপে উপার্জন করছে এই বৃদ্ধ। এমন গল্প শুনে ব্যথিত হচ্ছে অনেকেই। বয়স্ক ভাতার জন্য সরকারের প্রতি আকুতি জানান।

টাঙ্গাইল সদর কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ফজল মুন্সির বয়স্ক ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তাকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। সে কাগজপত্র জমা দিলে দ্রুত তার বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দেবো।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস