ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে প্রেম, সালমানের কারণে ক্যারিয়ারে ছন্দপতন বিবেকের

ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে প্রেম, সালমানের কারণে ক্যারিয়ারে ছন্দপতন বিবেকের

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৬:১৫ ১৯ আগস্ট ২০২০

বিবেক ওবেরয় এবং ঐশ্বরিয়া রায়

বিবেক ওবেরয় এবং ঐশ্বরিয়া রায়

স্বামী বিবেকানন্দের ভক্ত ছিলেন বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের বাবা। তাই একমাত্র ছেলের নাম রেখেছিলেন স্বামীজির নামেই। কিন্তু পরে সেই ছেলে যখন হিন্দি সিনেমার নায়ক হলেন, নাম থেকে ফেলে দিলেন ‘আনন্দ’ শব্দটি। হিন্দি ছবির কোনো নায়কের সঙ্গে ওই বিশেষ নামটি জড়িয়ে থাকলে নামের মর্যাদার হানি হবে, এরকমই মনে হয়েছিল বিবেক ওবেরয়ের।

বিবেকের জন্ম ১৯৭৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। তার বাবা সুরেশ পঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। মা, যশোদা দক্ষিণ ভারতীয়। ফলে বাড়িতে মিশ্র সংস্কৃতিতে বড় হয়েছেন বিবেক এবং তার বোন মেঘনা। মেঘনা একজন চিত্রশিল্পী এবং গায়িকা।

বিবেক ওবেরয়

বলিউডে বিবেকের ক্যারিয়ারের সূত্রপাত ছিল উল্কার বেগে। কিন্তু আচমকাই হারিয়ে গেলেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে বহিরাগত না হয়েও প্রত্যাশাপূরণের কাছে পৌঁছতে পারেননি অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়ের ছেলে।

বিবেকের পড়াশোনা মুম্বাইয়ের মিঠিভাই কলেজে। লন্ডনের এক ওয়ার্কশপে তাকে চোখে পড়ে যায় নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টরের। তিনি বিবেককে নিউ ইয়র্কে অভিনয়ের উপর স্নাতকোত্তর কোর্স করার জন্য নিয়ে যান।

পরে ভারতে ফিরে বিবেক প্রথমে চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করেন। পরে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে অভিনয়ে। ২০০২ সালে তিনি প্রথম অভিনয় করেন রামগোপাল বর্মার ছবি ‘কোম্পানি’তে। ছবি এবং বিবেকের অভিনয়, দুই-ই সুপারহিট। তার পরবর্তী ছবি ছিল ‘রোড’ এবং ‘দম’।

এরপর লাগাতার বক্সঅফিসে সফল ছবি উপহার দেন এই অভিনেতা। ‘সাথিয়া’, ‘ওমকারা’, ‘যুবা’, ‘শুট আউট অ্যাট লোখণ্ডওয়ালা’-সহ একাধিক ছকভাঙা ছবিতে নিজেকে নতুন নতুন ভূমিকায় মেলে ধরেন বিবেক। তার ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য বাকি ছবি হল ‘ডরনা মানা হ্যায়’, ‘কিসনা:দ্য ওয়ারিয়র পোয়েট’, ‘লাক বাই চান্স’, ‘কৃষ থ্রি’ এবং ‘কুরবান’। কিন্তু তার পরেও সমসাময়িক নায়কদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন তিনি।

সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক শুধরে নেয়ার বহু চেষ্টা করেছেন বিবেক

ঘনিষ্ঠ মহলে বিবেকের আক্ষেপ, সালমান খানের জন্যই তার ক্যারিয়ারে ছন্দপতন হয়। বিতর্কের সূত্রপাত হয় ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে তার প্রেম ঘিরে। ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে বিবেকের আলাপ ‘কিঁউ হো গ্যয়া না’ ছবির শুটিংয়ে।

সে সময় সালমানের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক সদ্য ভেঙেছে। বিবেকের মধ্যে মানসিক আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। তাদের সম্পর্ক প্রেমে বদলে যেতে সময় নেয়নি। বিবেকের অভিযোগ, তাদের ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেননি ঐশ্বরিয়ার প্রাক্তন প্রেমিক সালমান। সাংবাদিক বৈঠক করে তার নামে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন বিবেক।

৪১ বার ফোন দিয়ে সালমান নাকি তাকে হুমকি দিয়েছিলো। আর এমনই অভিযোগ করেন বিবেক নিজেই। তিনি সালমানের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পান বলে জানিয়েছেন।

সেই সাংবাদিক সম্মেলনই নাকি কাল হয় বিবেকের ক্যারিয়ারে। সেসময় ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়, সালমানকে নাকি বিবেক ক্ষমা করতে পারেননি। তার কথাতেই নাকি ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেকটা ছিঁটকে যান বিবেক।

বিবেকের আক্ষেপ, সালমান খানের জন্যই তার ক্যারিয়ারে ছন্দপতন

সালমান-ঐশ্বরিয়া-বিবেক এই ত্রিকোণ সম্পর্কে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিবেকের। ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তার প্রেম ভেঙে যায়। আবার সালমানের নেক নজরে না থাকায় তার ক্যারিয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক শুধরে নেয়ার বহু চেষ্টা করেছেন বিবেক। প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ আর আসে নি তার কাছে।

পরে একটি টেলিভিশন শো-এ এসে সালমান জানান, বিবেকের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু তিনি কোনো ঘনিষ্ঠতাও চান না। সালমান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, বিবেকের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনোদিন স্বাভাবিক হবে না।

২০১৯ সালে বিবেক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিম শেয়ার করেছিলেন। তার এবং সালমানের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার প্রেম এবং পরে অভিষেকের সঙ্গে বিয়ে এটাই ছিল মিমের বিষয়। এই মিম পোস্ট করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। 

জাতীয় মহিলা কমিশন থেকে নোটিসও পাঠানো হয় বিবেককে। শেষে তিনি ক্ষমা চান এবং টুইটার হ্যান্ডল থেকে মিমটি সরিয়ে নেন।

ঐশ্বরিয়া ছাড়াও বিবেকের প্রেমিকা ছিলেন গুরপ্রীত গিল। পরে সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়। ২০১০ সালে বিবেক বিয়ে করেন প্রিয়াঙ্কা আলভাকে। প্রিয়াঙ্কার বাবা প্রয়াত জীবরাজ আলভা ছিলেন জনতা দল ইউনাইটেডের নেতা তথা কর্নাটকের প্রাক্তন মন্ত্রী।

বিবেক-প্রিয়াঙ্কার ছেলের নাম ভিভান এবং মেয়ের নাম তারা রেখেছেন আমেয়া। অভিনয়ের পাশাপাশি বিবেকের শখ দামী গাড়ির। একাধিকল বিলাসবহুল গাড়ির মালিক তিনি।

বলিউডে তার প্রিয় অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, অজয় দেবগণ এবং হৃতিক রোশন। নায়িকাদের মধ্যে পছন্দ মাধুরী দীক্ষিত, বিদ্যা বালন এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে। প্রিয় পরিচালক রামগোপাল বর্মা।

ছাত্রজীবনে টেনিস, ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন স্পোর্টসে দক্ষ বিবেক ভক্ত সচিন টেন্ডুলকারের। ইন্ডাস্ট্রিতে বিবেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে কারিনা কাপুর অন্যতম। কারিনার প্রভাবেই তিনি সম্পূর্ণ নিরামিষাশী হয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিবেক।

বিবেক এবং তার পরিবার একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালনা করেন। তামিলনাড়ুর কাড্ডালোরে সুনামি বিধ্বস্ত একটি গ্রাম দত্তক নিয়েছিলেন বিবেক। এই গ্রামটিকে গড়ে তোলার জন্য অর্থসাহায্য করেন তিনি। সমাজসেবার ক্ষেত্রে পুরস্কৃতও হয়েছেন বলিউডের দৌড়ে আপাতভাবে ‘পিছিয়ে পড়া’ এই নায়ক।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস