এসপিকে হোয়াটসঅ্যাপে কী বলতে চেয়েছিলেন প্রদীপ

এসপিকে হোয়াটসঅ্যাপে কী বলতে চেয়েছিলেন প্রদীপ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৭ ১২ আগস্ট ২০২০  

কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন ও প্রদীপ

কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন ও প্রদীপ

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের আইনি পরামর্শদাতার পরিচয় মিলতে না মিলতেই গণমাধ্যমে এসেছে আরেকটি অডিও ক্লিপ। যেখানে কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন প্রদীপ। এরইমধ্যে ফোনালাপটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ফোনালাপটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুঠোফোনে দুই মিনিটের কথোপকথনের শেষ মুহূর্তে এসপি মাসুদকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিতে চান প্রদীপ। তবে প্রদীপের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে এসপি মাসুদের কথা হয়েছে কি না কিংবা কথা হলে কী কথা হয়েছে- তার এখনো সুরাহা মেলেনি।

ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এসপি এবিএম মাসুদ ও ওসি প্রদীপের ফোনালাপটি দেয়া হলো-

ওসি প্রদীপ: হ্যালো, আদাব স্যার।

এসপি মাসুদ: আচ্ছা... ওই লোকটার পরিচয় বলেন তো, সাথে যে লোকটাকে পাইছেন।

ওসি প্রদীপ: স্যার এর নাম হচ্ছে… (এই এতের নাম বলেন তো)। স্যার সিফাত, স্যার সিফাত। (বাপের নাম বল)। স্যার সিফাত, বাপের নাম নূর মোস্তফা।

এসপি মাসুদ: নূর মোস্তফা, ঠিকানা?

ওসি প্রদীপ: (ঠিকানা বল, বরিশাল কোথায়?)

ওসি প্রদীপ: স্যার বামনা থানা বরগুনা।

এসপি মাসুদ: বামনা থানা বরগুনা। সে কিসের ফটোগ্রাফার।

ওসি প্রদীপ: স্যার সে.. ওরা নাকি স্যার এক মাস যাবত নীলিমা রিসোর্ট স্যার.. নীলিমা রিসোর্ট.. অ্যাঁ… এটা কোন জায়গায় হিমছড়ি।

এসপি মাসুদ: এইটা পাইছি। সে কিসের ফটোগ্রাফার।

ওসি প্রদীপ: ওরা স্যার এক মাস যাবত বিভিন্ন পাহাড়ে ছবি তুলতেছে ট্রাইবাল, অ্যাঁ… ট্রাইবালের উপরে স্যার, ট্রাইবালের উপরে নাকি একটা ইয়া করবে.. ইউটিউব ফিল্ম বানাবে স্যার।

এসপি মাসুদ: হুম।

ওসি প্রদীপ: ইউটিউব ফিল্ম বানানোর জন্য যে আর্মির ড্রেস পরা আছে সে হচ্ছে প্রোডিউসার।

এসপি মাসুদ: হুম।

ওসি প্রদীপ: ওর নাম হচ্ছে সি.. (পাশ থেকে কেউ নাম বলে দিচ্ছেন) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। (ঢাকা থেকে এসে বিভিন্ন জায়গায় ছবি তুলে বেড়াচ্ছে। আমার ক্যামেরা চেক করলে সে সমস্ত ছবি তুলতে পাবেন। আমরা আজকেও ঠিক একইভাবে পাহাড়ে আসছি ছবি তোলার জন্য।)

এসপি মাসুদ: রাতে কেন?

ওসি প্রদীপ: ওরা স্যার ছবি তুলে ফিরতেছিল।

এসপি মাসুদ: না, রাত ৯টায় কেন?

ওসি প্রদীপ: পাশে থাকা কাউকে জিজ্ঞেস করছেন এত রাত পর্যন্ত কেন? হ্যাঁ, ও রাতের ছবি! ওরা রাতের ছবি নিতে আসছিল।

এসপি মাসুদ: এটা কি স্টিল ছবি না ভিডিও।

ওসি প্রদীপ: (তোমরা ভিডিও নাকি স্টিল ছবি তোল)।

ওসি প্রদীপ: দোনোটাই করে স্যার, ভিডিও করে, স্টিল ছবিও তোলে।

এসপি মাসুদ: তারা এই রকম আসবে এটা কেমন কথা? দেড় মাস যাবত কি ছবি তোলে?

ওসি প্রদীপ: এরা স্যার বিভিন্ন জায়গায় তোলে, হিমছড়িতে তুলছে, আমাদের টেকনাফে আসছে। (আর কোন জায়গায় গেছিলি?)।

ওসি প্রদীপ: স্যার একটু হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলতে চাচ্ছিলাম।

এসপি মাসুদ: হ্যাঁ।

ওসি প্রদীপ: স্যার, হোয়াটসঅ্যাপ নাই, আমি একটু কথা বলতে চাইছিলাম।

এসপি মাসুদ: হোয়াটসঅ্যাপ? প্রাথমিক তথ্য আগে যেইটা পাইছি আগে সেটা জানাই, তারপর ইয়া করিয়াম, ঠিক আছে।

ওসি প্রদীপ: স্যার আমি, আরো জিজ্ঞাসাবাদ চলতেছে.. আমি..।

এসপি মাসুদ: আচ্ছা ঠিক আছে।

৩১ আগস্ট রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউপির শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় হত্যা ও মাদক আইনে এবং রামু থানায় মাদক আইনে পৃথক তিনটি মামলা করে।

এছাড়া ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। ৬ আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ সাত আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর